লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে এবার
দিনে-দুপুরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাংলাদেশে প্রবেশ করে
বসতবাড়িতে ভাঙচুর করে অন্তত ১২টি ছাগল ধরে নিয়ে গেছে। এলাকাবাসী ও বিজিবি
জানায়, শনিবার দুপুরে জেলার পাটগ্রাম উপজেলার ধবলগুড়ি সীমান্তের ৮৭৩ নম্বর
মেইন পিলারের ১৫ নম্বর সাব-পিলার এলাকার বাংলাদেশী অংশে ঘাস কাটছিলেন
ধবলগুড়ি গ্রামের এক বাসিন্দা।

এ
সময় ভারতীয় নলঙ্গীবাড়ি ক্যাম্পের কয়েকজন বিএসএফ সদস্য কাঁটাতারের বেড়ার
এপাশে অনুপ্রবেশ করে ওই বাংলাদেশীকে প্রথমে ধাওয়া করে। বিএসএফ এর ধাওয়া
খেয়ে বাংলাদেশী যুবক এক বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পরে বিএসএফ সদস্যরা বাংলাদেশের
সীমানার ৩ শ’ গজ ভিতরে প্রবেশ করে দেশের আরও অভ্যন্তরে ঢুকে সিরাজুল ইসলাম
নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যপক ভাঙচুর করে। খবর ছড়িয়ে পড়লে
সীমান্তবাসীরা বিএসএফ জওয়ানদের ধাওয়া করলে তারা কাঁটাতারের বেড়ার ওপাশে চলে
যায়। আর যাওয়ার সময় সীমান্তে থাকা বাংলাদেশীদের ১২টি ছাগল ধরে নিয়ে যায়।
খবর পেয়ে রংপুর বিজিবি ৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনে কুচলিবাড়ী ও ধবলসূতি
ক্যাম্পের বিজিবি সদস্যরা সীমান্তে টহল জোরদার করে। বর্ডার গার্ড
বাংলাদেশ-বিজিবি বিষয়টির কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানিয়ে
ভারতীয় লংলরিবাড়ী ক্যাম্পের বিএসএফকে চিঠি দিয়েছে। এতে সাড়া দিয়ে বিকাল
পাঁচটার দিকে ওই সীমান্তে পতাকা বৈঠকে বসে উভয় বাহিনী। ঘণ্টা খানেক বৈঠক
চললেও অুনপ্রেবেশ ও হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে বিএসএফ। ফলে কোনো সিদ্ধান্ত
ছাড়াই বৈঠকটি শেষ হয়। ৭ রংপুর বিজিবি ব্যাটালিয়নের কুচলীবাড়ী কোম্পানি
কমান্ডার সুবেদার আবদুল কাদের এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পতাকা
বৈঠকে সুরাহা না হওয়ায় বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায়
ওই সীমান্তের সাধারণ মানুষ আতঙ্ক বিরাজ করছে। হামলার শিকার সফিউল ইসলামের
স্ত্রী হাবিবা বেগম জানান, ভারতীয় বিএসএফ সদস্যরা বাংলাদেশে ঢুকে তার বাড়ির
ঘরের বেড়া ভাঙচুর করে। তাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার জন্য ধাওয়া করে। চিৎকার দিলে
গ্রামবাসী বিএসএফকে ধাওয়া দিলে সে রক্ষা পায়। গ্রামের সুবল জানায়, বিএসএফ
সদস্যরা আগ্রাসী ভূমিকায় বাংলাদেশে ঢুকে তা-ব চালায়। এ ঘটনায় সীমান্তে
উত্তেজনা বিরাজ করছে।
No comments:
Post a Comment