Wednesday, April 30, 2014

পুলিশের নিস্ক্রিয়তায় আতঙ্কের ক্যাম্পাস রাবি by রফিকুল ইসলাম,

রাবি: শিবিরের নৃশংস হামলা, ছাত্রসংগঠনের সংঘাত-সংঘর্ষ, শিক্ষার্থীকে মারধর, বেপরোয়া ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে আতঙ্কের ক্যাম্পাসে পরিণত হয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। এসব ঘটনায় সুস্থ্যভাবে শিক্ষাজীবন শেষ করা নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন পয়েন্টে তিন শতাধিক পুলিশ মোতায়েন থাকলেও তা কোনো কাজে আসছে না। 
রাবি ক্যাম্পাসে যতগুলো হত্যা, হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে সবগুলোতে পুলিশ ছিল নীরব দর্শক। আবার এসব খুন, হামলার সঙ্গে কারা জড়িত তারও কোনো রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে দুটি আবাসিক হলের মধ্যবর্তী স্থানে ছাত্রলীগ নেতাকর্মী মাসুদ হোসেন ও টগর মোহাম্মদ সালেহের ওপর হামলা চালায় শিবির ক্যাডাররা। প্রথমে একটি ককটেল ফাঁটিয়ে হামলা চালায় তারা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তারা যেখানে হামলার শিকার হয়েছেন, তার ৩০ গজের মধ্যে শহীদ জিয়াউর রহমান ও শহীদ হবিবুর রহমান হল। যেখানে হল গেটে সার্বক্ষণিক ৫-৬ জন পুলিশ থাকে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জিয়াউর রহমান হলের কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থী বাংলানিউজকে জানান, হামলার সময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা উচ্চস্বরে চিৎকারও করেছে। কিন্তু তাদের বাঁচাতে পুলিশ এগিয়ে আসেনি। এমনকি হামলা শেষে হামলাকারীরা যখন হবিবুর রহমান হলের মাঠ দিয়ে দৌঁড়ে পালিয়ে যায় তখনও পুলিশের কোনো তৎপরতা দেখা যায় নি। পুলিশের নিস্ক্রিয়তায় আতঙ্কপুরিতে পরিণত হয়েছে রাবি। পুলিশ তার দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে অপরাধীরা এতো সহজে অপরাধ করে পার পেত না বলে মনে করেন শিক্ষাক-শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ২০০৯ সাল থেকে রাবি প্রশাসন অস্থায়ীভাবে পুলিশ রাখার সিদ্ধান্ত নিলেও ক্যাম্পাস থেকে তাদের আর সরানো হয়নি। বর্তমানে রাবির ১১টি আবাসিক হলে অন্তত ৭০ জন পুলিশ অবস্থান করছে।

এছাড়া ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদার করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, কাজলা, বিনোদপুর, চারুকলা গেট, বধ্যভূমি ও বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন গেটে ৭-৮ জন করে পুলিশ রাখা হয়েছে। উপাচার্যের বাসভবনের সামনে ও প্রশাসন ভবন-১ এ ৬ জন, সিনেট ভবনে ১০ জন, ছাত্রসংগঠনের টেন্টগুলোতে সর্বদা ৭-৮ জন করে পুলিশ রাখা হচ্ছে। সবমিলিয়ে পুরো ক্যাম্পাসে অন্তত তিন শতাধিক পুলিশ অবস্থান করছে। কিন্তু শুধু নীরব অবস্থান ছাড়া ক্যাম্পাসে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমাতে পুলিশের কোনো ভূমিকা চোখে পড়ে নি কখনো। এর আগে ৪ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের নিজ কক্ষে দুপুরে খুন হন ছাত্রলীগ নেতা রোস্তম আলী আকন্দ। ওই সময়েও হল গেটে ৪-৫ জন পুলিশ কর্তব্যরত ছিল। এ ঘটনার এক মাস পার হলেও খুনের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পারে নি পুলিশ। ২৭ এপ্রিল দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কাজলা গেট এলাকায় হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এক ছাত্রীকে ছুরিকাঘাত করে স্থানীয় এক যুবক। ঘটনাস্থলের ১০ গজের মধ্যে কাজলা গেটে একটি পুলিশ ফাঁড়ি রয়েছে। যেখানে অন্তত ৮-১০ জন পুলিশ দায়িত্ব পালন করছিলেন। কিন্তু অপরাধীকে ধরতে তারা তাৎক্ষণিক কোনো তৎপরতা দেখান নি। রাবির বিভিন্ন আবাসিক হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী বাংলানিউজকে জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পুরো ক্যাম্পাস পুলিশের কাছে হস্ত্যান্তর করেছে। অথচ পুলিশ নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। রাবি প্রশাসন পুলিশের হাতে দায়িত্ব দিয়ে নিজেদের দায়িত্ব থেকে অবসরে যাওয়ার ফলেই ক্যাম্পাসে নিয়মিত এ ধরনের ঘটনা ঘটেই চলছে। রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (পূর্ব) প্রলয় চিচিম বাংলানিউজকে জানান, পুলিশ তার কাজ করে যাচ্ছে। একজন অপরাধীকে ধরা অনেক কঠিন কাজ। আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ক্যাম্পাসে পুলিশ যথাযথ দায়িত্ব পালন করছে বলেও দাবি করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান বাংলানিউজকে জানান, ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাসহ অপরাধ দমনে তারাই কাজ করছে। তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে আরো তৎপর হওয়া জরুবি বলে মত দেন তিনি।

No comments:

Post a Comment