Wednesday, May 21, 2014

প্রেমের ফাঁদে ফেলে এবার ইউপি চেয়ারম্যানকে অপহরণ

এবার প্রেমের ফাঁদে ফেলে এক ইউপি চেয়ারম্যানকে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। অপহরণের শিকার হয়েছেন সিলেট ওসমানী নগর থানার গোয়ালাবাজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মানিক (৪৬)। 
রাজধানীর বাড্ডা এলাকার অপহরণকারীদের একটি চক্র মাসুমা নামে এক তরুণীকে দিয়ে আতাউর রহমান মানিককে প্রেমের ফাঁদে ফেলে। পরবর্তীতে চেয়ারম্যান মানিকের কাছ থেকে নগদ ৪০ হাজার টাকা ও পরে আরো ৩ লাখ টাকার দেওয়ার আশ্বাসে অপহরণকারীরা তাকে মুক্তি দেয়। ঘটনাটি গোয়েন্দা পুলিশের অ্যান্টি-কিডন্যাপিং স্কোয়াডকে জানানো হলে মাসুমাসহ এই চক্রের ছয় সদস্যকে আটক করেন তারা। বুধবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এই তথ্য সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।  এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম, গোয়েন্দা পুলিশের (দক্ষিণ) উপপুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়, পূর্বের উপপুলিশ কমিশনার জাহাঙ্গীর হোসেন মাতুব্বর এবং মিডিয়া সেন্টারের উপপুলিশ কমিশনার মাসুদুর রহমান। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নিম্নবিত্ত পরিবারের উঠতি বয়সী কিছু মেয়েদের অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা অর্থের প্রলোভন দেখায়। পরে তাদের টার্গেট করা লোকদের ফোন নম্বর দিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলার উৎসাহ জোগায়। এরপর তারা বিভিন্নভাবে ওই সব লোকদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে ঢাকায় আসতে বলেন। পরবর্তীতে ওই মেয়ের সঙ্গে টার্গেট করা ব্যক্তির আপত্তিকর ছবি তুলে প্রকাশ করার হুমকি দিয়ে টাকা দাবি করা হয়। এছাড়াও টার্গেট করা ব্যক্তিকে মারধরও করে অপহরণকারীরা। পরে সামাজিক ও পারিবারিক মর্যাদার কারণে অনেকে টাকা দিয়ে মুক্তি পান।  সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেন, আতাউর রহমানের সঙ্গে মাসুমা এ ধরনের সম্পর্ক তৈরি করে। চেয়ারম্যান আতাউর রহমান গত ১১ মে ঢাকায় আসেন চিকিৎসার জন্য। রাতের বেলা তিনি অ্যাপোলো হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে ফেরার পথে সুবাস্তু টাওয়ারের সামনে মাসুমা তাকে দেখা করতে বলে। এরপর তিনি সেখানে তার প্রাইভেটকারটি থামান। এ সময় অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বাড্ডা এলাকার ভেতরে এক বাড়িতে আটকে রাখেন। এরপর তাকে মারধর করে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। এক পর্যায়ে নিজের কাছে থাকা ৪০ হাজার টাকা তাদের দিয়ে বাকি টাকা দেওয়ার আশ্বাস দিলে অপহরণকারীরা তাকে ১২ মে ছেড়ে দেয়। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেন, ঘটনার পর আতাউর রহমান গোয়েন্দা পুলিশের অ্যান্টি-কিডন্যাপিং স্কোয়াডে যোগাযোগ করেন এবং গুলশান থানায় একটি মামলা করেন। স্কোয়াডের সদস্যরা মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে অপহরণকারী চক্রের ৬ সদস্যকে আটক করে। আটকরা হলেন- মাসুমা (২৫), রাজিব ওরফে সজিব (২৭), নিকুল (২৬), আবুল কাশেম (৪৭), ইকবাল হোসেন ওরফে কবির (৩৬) এবং এমদাদুর রহমান (৩০)। তবে এই চক্রের অন্যতম দলনেতা জাহাঙ্গীর পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। তারা বলেন, চক্রটি এর আগেও সিলেটের বিভিন্ন উপজেলার চেয়ারম্যানদের এভাবে অপহরণ করে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। পলাতক জাহাঙ্গীরকে আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর আগেও নারী দিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করেছে। একই সঙ্গে এই চক্রের নারী সদস্যদের আটকের ঘটনাও রয়েছে।

No comments:

Post a Comment