জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল
ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে রিট আবেদন করেছেন বিএনপির
চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এতে বিচারক নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা
হয়েছে। আগামী সপ্তাহে আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে।

আজ
সোমবার খালেদা জিয়ার পক্ষে আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট
শাখায় রিট দায়ের করেন। রিট দায়েরের বিষয়টি জানিয়ে মো. আসাদুজ্জামান প্রথম
আলোকে বলেন, মামলা দুটি বিশেষ জজ আদালতে গেছে। ক্রিমিনাল ল’ অ্যামেনমেন্ট
অ্যাক্ট (১৯৫৮)-এর সেকশন ৩ অনুসারে ওই মামলায় বিচারের জন্য যিনি
দায়িত্বপ্রাপ্ত হবেন তাঁর নিয়োগে নতুন করে অফিশিয়াল গেজেট হতে হবে। এ
ক্ষেত্রে অফিশিয়াল গেজেট হয়নি। ওই নিয়োগ কেন অবৈধ হবে না এবং গৃহীত
কার্যক্রম কেন বাতিল হবে না, এ বিষয়ে রুল চাওয়া হয়েছে। রিটে মামলা দুটির
কার্যক্রমও স্থগিত চাওয়া হয়েছে। আবেদনে আইনসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, দুর্নীতি
দমন কমিশন (দুদক), বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারককে বিবাদী করা হয়েছে। গত ১৯
মার্চ এই দুই মামলায় খালেদা জিয়া ও তাঁর বড় ছেলে তারেক রহমানসহ নয়জনের
বিরুদ্ধে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩-এর বিচারক বাসুদেব রায় অভিযোগ গঠন করেন।
এই দুটি মামলায় অভিযোগ গঠনের আদেশ বাতিল চেয়ে খালেদা জিয়ার করা আবেদন গত ২৩
এপ্রিল খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবনে স্থাপিত
বিশেষ জজ আদালত-৩-এ মামলার বিচার কার্যক্রম চলছিল। এই দুই মামলায় ২১ মে
সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে। ৭ মে আইন মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে
জানানো হয়, নিরাপত্তার দিক বিবেচনায় মামলা দুটির বিচারকাজ পরিচালিত হবে
ঢাকার বকশীবাজারে সরকারি আলিয়া মাদ্রসাসংলগ্ন মাঠে স্থাপিত বিশেষ জজ
আদালত-৩-এর অস্থায়ী এজলাসে। ২০১১ সালের ৮ আগস্ট জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের
নামে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের নামে
তেজগাঁও থানায় দুদকের সহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ মামলাটি করেন। ২০১২
সালের ১৬ জানুয়ারি খালেদা জিয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় দুদক।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে অনিয়মের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন ২০০৮ সালের ৩
জুলাই রমনা থানায় মামলা করে। ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট দুদক খালেদা জিয়া, তাঁর
ছেলে তারেক রহমানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়।
No comments:
Post a Comment