একটা নিষেধাজ্ঞা, আর তাতেই ফুঁসে উঠেছে
‘পবিত্র শহর’ বারানসি৷ গোটা শহরটা ভাগ হয়ে গেছে দুই শিবিরে৷ একটা শিবির
বারানসির জেলা প্রশাসকের মুণ্ডুপাত করে চলেছে, অন্য শিবির তাঁকেই মনে করছে
‘নির্ভয় হিরো’৷ শেষ পর্বের ভোটের চার দিন আগে বারানসির অলিগলিতে গতকাল
বৃহস্পতিবার দিনভর শুধু এই আলোচনা৷ আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে আশঙ্কায়
শহরের বেনিয়াবাগ পার্কে গতকাল নরেন্দ্র মোদির প্রস্তাবিত জনসভার অনুমতি
দিতে অস্বীকার করেন জেলা প্রশাসক প্রাঞ্জল যাদব৷ গত বুধবার রাতে এই
সিদ্ধান্তের কথা জানাজানি হওয়ামাত্র ক্ষুব্ধ বিজেপি এই নিষেধাজ্ঞাকেই
প্রচারের হাতিয়ার করে তোলে৷ গতকাল বেলা ১১টা থেকে বেনারস হিন্দু
বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে শুরু হয় বিক্ষোভ সমাবেশ ও ধরনা৷

অরুণ
জেটলি, অমিত শাহসহ রাজ্য ও কেন্দ্রীয় স্তরের নেতারা জেলা প্রশাসক ও রাজ্য
সরকারের মুণ্ডুপাত করতে থাকেন৷ একই সঙ্গে নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনে
অভিযোগ জানান কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব৷ বারানসিতে বিক্ষোভরত কয়েক হাজার মানুষের
সামনে অরুণ জেটলি বলেন, নির্বাচন কমিশনই এর জন্য দায়ী৷ সাংবিধানিক পদে
যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের নির্ভীক হওয়া দরকার৷ যাঁরা দুর্বল, তাঁরা
মর্যাদাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য ক্ষতিকর৷ আসলে হলোটা কী? বারানসিতে
প্রচারে এসে শহরের অভ্যন্তরে বেনিয়াবাগ ময়দান ও গ্রামীণ অঞ্চল রোহনিয়ায়
মোদি যাতে জনসভা করতে পারেন, তার জন্য দলের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে
অনুমতি চাওয়া হয় তিন দিন আগে৷ জেলা প্রশাসক রোহনিয়ায় সমাবেশের অনুমতি
দিলেও ‘গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে’ বেনিয়াবাগের অনুমতি দেননি৷ কী আছে
গোয়েন্দা প্রতিবেদনে? জেলা প্রশাসক প্রাঞ্জল যাদব বলেন, প্রতিবেদনের কথা
রাজ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলতে পারবে৷ আমি শুধু বলতে পারি, সব দিক খতিয়ে
দেখে ও পরিস্থিতি বিচার করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ প্রাঞ্জল কবুল না
করলেও গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ‘সাম্প্রদায়িক হানাহানির’ আশঙ্কার উল্লেখ করা
হয়েছে৷ নির্বাচনী প্রচারে পশ্চিমবঙ্গে গিয়ে যেভাবে অনুপ্রবেশের বিষয়টি
মোদি তুলে ধরেছেন, তাতে মুসলমান মননে একটা ভয় ঢুকে গেছে৷ বারানসিতে
মুসলমান ভোটার প্রায় সাড়ে তিন লাখ৷ পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা বহু বাঙালি
মুসলমানের বাসবাসও এখানে৷ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেনিয়াবাগের জনসভা চলাকালীন
মোদির জনসভায় হামলার আশঙ্কা করা হয়েছে৷ ১৯৯১ সালে ঠিক এই জায়গাতেই বিজেপির
তৎকালীন প্রার্থী শ্রীশ চন্দ্র দীক্ষিতের জনসভার সময় প্রধান বক্তা
শত্রুঘ্ন সিনহা আসার আগেই বোমাবাজি হয়েছিল৷ জায়গাটির তিন দিকে মুসলমানদের
বসবাস৷ প্রাঞ্জল যাদব তাই অকারণে ঝুঁকি নিতে চাননি৷ এ নিয়ে ৪৪ বছরের এই
আইএএস কর্মকর্তাকে নানা কথা শুনতে হচ্ছে৷ বিবাহসূত্রে প্রাঞ্জল হলেন মুলায়ম
সিং যাদবদের আত্মীয়৷ সে কারণে তিনি বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীর
জনসভার অনুমতি দিলেন না বলেও বিজেপি প্রচার করতে ছাড়ছে না৷ মোদিও
রোহনিয়ার জনসভায় প্রাঞ্জলকে এক হাত নিতে ছাড়েননি৷ তিনি বলেন, ‘আপনি কার
চাপে এ কাজ করেছেন, তা আমার জানা আছে৷ কিন্তু আপনার জানা নেই, মোদির
ভাষণের চেয়েও শক্তিশালী মোদির মৌনতা৷ বেনিয়াবাগে জনসভা করতে পারছি না বলে
দুঃখ নেই৷ দুঃখ হচ্ছে, মা গঙ্গার কোলে বসে সন্ধ্যারতি করতে পারব না বলে৷
মা গঙ্গা ডেকেছেন বলেই আমি এসেছি৷ আজ না হোক, একদিন না একদিন আবার আমি
আসব৷
মজাটা হলো, গঙ্গার ঘাটে সন্ধ্যারতি করার অনুমতি কিন্তু মোদি পেয়েছেন৷ শহরের দেড় শ জ্ঞানীগুণীর সঙ্গে বৈঠকের অনুমতিও প্রশাসন তাঁকে দিয়েছে৷ কিন্তু বেনিয়াবাগের কারণে মোদির বাকি সব কর্মসূচি বাতিল করে দেওয়া হয়৷ মোদি এবং তাঁর অনুগামীরাও সেই বেনিয়াবাগককেই হাতিয়ার হিসেবে আঁকড়ে থাকেন৷ মোদির প্রতিপক্ষ আম আদমি পার্টির (এএপি) অরবিন্দ কেজরিওয়াল তাই ঠাট্টাচ্ছলে বলেছেন, আরতি দেখতে অনুমতিই লাগে না৷ অনুমতি লাগে রাজনৈতিক জনসভার৷ মোদি আবার রোড শোর অনুমতি চাননি৷ তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে হেলিকপ্টার থেকে নেমে তিনি সারা শহর ঘুরে দলীয় কার্যালয়ে যাবেন রোড শো করে, তারও উপায় থাকল না৷ তবে তাঁর এই আগমনকে কেন্দ্র করে সারা শহরে যে উন্মাদনা দেখা গেল, তাতে জয় সম্পর্কে তাঁর মাথাব্যথা না থাকারই কথা৷
সত্যি বলতে িক, জেলা প্রশাসক প্রাঞ্জল যাদবকে নিয়ে সাধারণ মানুষের তেমন কোনো অভিযোগ নেই৷ বরং বন্যার সময় তাঁর রাত-দিন এক করে দেওয়া কিংবা শহরের রাস্তা চওড়া করায় তাঁর ভূমিকায় মানুষ প্রীতই৷ কিন্তু রাজনীতির আলোয় যাঁরা ঘটনাকে দেখতে ভালোবাসেন, তাঁদের চোখে প্রাঞ্জল সাক্ষাৎ ভিলেন৷ ভোটের ফলের মতো তাঁর ভাগ্যও আপাতত ঝুলে থাকল৷
এখানে এসে দেখছি, মুলায়ম-অখিলেশের যাদব ভূমির এই খণ্ডে সমাজবাদী পার্টি আলোচিত নয়, মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টিও দৌড়ে অনেক পেছনে৷ কংগ্রেসের অজয় রাইও কী করে তাঁর আত্মীয়ের হত্যাকারী বলে অভিযুক্ত কৌমি একতা পার্টির মুখতার আনসারির সঙ্গে হাত মেলালেন, সেই বিস্ময়ের ঘোরও দেখছি অনেকের কাটছে না৷ এর মধ্যে যিনি চরকির মতো ঘুরপাক খাচ্ছেন, তিনি একাকী সৈনিক৷ দেড় মাস আগে গঙ্গায় ডুব দিয়ে সেই যে তিনি বারানসিতে ঘাঁটি গেড়েছেন, সুচ হয়ে ঢুকে তিনিই এখন ফাল হয়ে বেরোতে চান৷ লোকবল, অর্থবল, বাহুবল, কৌশল কোনো কিছুতেই বিজেপির সমতুল্য নয় আম আদমি পার্টি৷ কিন্তু তবু বারানসিতে মোদির সঙ্গে লড়াইটা ক্রমশ হয়ে দাঁড়িয়েছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালেরই
মজাটা হলো, গঙ্গার ঘাটে সন্ধ্যারতি করার অনুমতি কিন্তু মোদি পেয়েছেন৷ শহরের দেড় শ জ্ঞানীগুণীর সঙ্গে বৈঠকের অনুমতিও প্রশাসন তাঁকে দিয়েছে৷ কিন্তু বেনিয়াবাগের কারণে মোদির বাকি সব কর্মসূচি বাতিল করে দেওয়া হয়৷ মোদি এবং তাঁর অনুগামীরাও সেই বেনিয়াবাগককেই হাতিয়ার হিসেবে আঁকড়ে থাকেন৷ মোদির প্রতিপক্ষ আম আদমি পার্টির (এএপি) অরবিন্দ কেজরিওয়াল তাই ঠাট্টাচ্ছলে বলেছেন, আরতি দেখতে অনুমতিই লাগে না৷ অনুমতি লাগে রাজনৈতিক জনসভার৷ মোদি আবার রোড শোর অনুমতি চাননি৷ তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে হেলিকপ্টার থেকে নেমে তিনি সারা শহর ঘুরে দলীয় কার্যালয়ে যাবেন রোড শো করে, তারও উপায় থাকল না৷ তবে তাঁর এই আগমনকে কেন্দ্র করে সারা শহরে যে উন্মাদনা দেখা গেল, তাতে জয় সম্পর্কে তাঁর মাথাব্যথা না থাকারই কথা৷
সত্যি বলতে িক, জেলা প্রশাসক প্রাঞ্জল যাদবকে নিয়ে সাধারণ মানুষের তেমন কোনো অভিযোগ নেই৷ বরং বন্যার সময় তাঁর রাত-দিন এক করে দেওয়া কিংবা শহরের রাস্তা চওড়া করায় তাঁর ভূমিকায় মানুষ প্রীতই৷ কিন্তু রাজনীতির আলোয় যাঁরা ঘটনাকে দেখতে ভালোবাসেন, তাঁদের চোখে প্রাঞ্জল সাক্ষাৎ ভিলেন৷ ভোটের ফলের মতো তাঁর ভাগ্যও আপাতত ঝুলে থাকল৷
এখানে এসে দেখছি, মুলায়ম-অখিলেশের যাদব ভূমির এই খণ্ডে সমাজবাদী পার্টি আলোচিত নয়, মায়াবতীর বহুজন সমাজ পার্টিও দৌড়ে অনেক পেছনে৷ কংগ্রেসের অজয় রাইও কী করে তাঁর আত্মীয়ের হত্যাকারী বলে অভিযুক্ত কৌমি একতা পার্টির মুখতার আনসারির সঙ্গে হাত মেলালেন, সেই বিস্ময়ের ঘোরও দেখছি অনেকের কাটছে না৷ এর মধ্যে যিনি চরকির মতো ঘুরপাক খাচ্ছেন, তিনি একাকী সৈনিক৷ দেড় মাস আগে গঙ্গায় ডুব দিয়ে সেই যে তিনি বারানসিতে ঘাঁটি গেড়েছেন, সুচ হয়ে ঢুকে তিনিই এখন ফাল হয়ে বেরোতে চান৷ লোকবল, অর্থবল, বাহুবল, কৌশল কোনো কিছুতেই বিজেপির সমতুল্য নয় আম আদমি পার্টি৷ কিন্তু তবু বারানসিতে মোদির সঙ্গে লড়াইটা ক্রমশ হয়ে দাঁড়িয়েছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালেরই
No comments:
Post a Comment