রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে
সাংবাদিকদের ওপরে হামলাকারী শিক্ষানবিশ চিকিত্সকেরা সনদ পাচ্ছেন। গতকাল
সোমবার রাতে ২০ জনকে সনদ দেওয়া হয়েছে। অন্যদের আজ মঙ্গলবার দেওয়া হবে। তবে
যাঁরা সাংবাদিকদের চিকিত্সা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, তাঁরা সদন পাচ্ছেন
না।

হাসপাতাল
সূত্রে জানা গেছে, ৪৯তম ব্যাচের ১১৫ জন শিক্ষার্থীর গত শনিবার শিক্ষানবিশ
কাল (ইন্টার্নশিপ) শেষ হয়। এই ব্যাচের আরও ৬৪ জন (সাপ্লিমেন্টারি)
শিক্ষার্থী আগামী নভেম্বর মাসে শিক্ষানবিশ মেয়াদ শেষ করবেন। গত ২০ এপ্রিল
রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে শিক্ষানবিশ
চিকিত্সকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজনকে মারধরের ঘটনার
খবর সংগ্রহ করতে গেলে শিক্ষানবিশ চিকিত্সকেরা সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন। এতে
১০ সাংবাদিক আহত হন। সাংবাদিকদের দুটি ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তিনটি
ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় শিক্ষানবিশ চিকিত্সকদের বিরুদ্ধে
সাংবাদিকেরা মতিহার থানায় দুটি মামলা করেন। তবে পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার
করেনি। গত ২ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্যকালীন কোর্স বাতিলের
দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ছবি তুলতে গিয়ে হামলায় আহত হন রাজশাহীতে
কর্মরত একটি জাতীয় ও একটি স্থানীয় পত্রিকার আলোকচিত্রী গুলবার আলী ওরফে
জুয়েল। তাঁর ভাঙা পায়ের রড খুলে প্লাস্টার করার জন্য ৪ মে তিনি রাজশাহী
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছিলেন। চিকিত্সকেরা
তাঁকে চিকিত্সা দিতেও চেয়েছিলেন, কিন্তু শিক্ষানবিশ চিকিত্সকেরা তাঁর
স্ত্রীকে জানিয়ে দেন, সাংবাদিকের চিকিত্সা এই হাসপাতালে হবে না। ঢাকায় যেতে
হবে। ৬ মে সন্ধ্যায় তিনি হাসপাতাল ছেড়ে চলে আসেন। পরে সাংবাদিকদের
চিকিত্সা দিতে অস্বীকৃতির বিষয়ে হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল দেন। এতে
কোন ক্ষমতাবলে শিক্ষানবিশ চিকিত্সকেরা সাংবাদিককে সেবা দিতে অস্বীকৃতি
জানিয়েছেন এবং অস্বীকৃতি জানানোয় সংশ্লিষ্ট শিক্ষানবিশদের চিকিত্সক হিসেবে
ভবিষ্যতে লাইসেন্স প্রদান থেকে বিরত থাকার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা
জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। স্বাস্থ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, স্বাস্থ্য
অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং রাজশাহী
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক, রাজশাহী জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং
বিএমডিসির সভাপতিকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
সাংবাদিকদের চিকিত্সা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু
হয়েছে। তবে আদালতের রুলের জবাব দেওয়া হয়নি। সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা
নিয়ে মন্ত্রণালয় থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি এখনো প্রতিবেদন দাখিল করেনি। এ
অবস্থায় গতকাল সোমবার রাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ২০ জন শিক্ষানবিশ চিকিত্সককে
সনদ প্রদান করে। আজ মঙ্গলবার বাকিদের সনদ দেওয়া হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে
আজ মঙ্গলবার সকালে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন
বলেন, মহামান্য আদালত যাঁরা সাংবাদিকদের চিকিত্সা দিতে অস্বীকৃতি
জানিয়েছেন, তাঁদের সনদ না দেওয়ার ব্যাপারে রুল দিয়েছেন। তাঁদের বিষয়ে তদন্ত
হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁদের সনদ দেওয়া হবে না। হামলার অভিযোগে
সাংবাদিকেরা যাঁদের সনদ না দেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছেন, তাঁদের ব্যাপারে
মন্ত্রণালয়, বিএমডিসি, অধিদপ্তর—কোনো নির্দেশনা দেয়নি। এ অবস্থায় ১০ মে
তাঁদের শিক্ষানবিশ কাল শেষ হয়ে গেছে। ১১ তারিখ থেকেই তাঁদের সনদ পাওনা হয়ে
গেছে। তিনি বলেন, কেউ অভিযুক্ত প্রমাণিত হলে এবং সরকার চাইলে সনদ দেওয়ার
পরও তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
No comments:
Post a Comment