Monday, May 19, 2014

মোদিকে ফোন হাসিনা-খালেদার

ভারতের হবু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ফোন করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গতকাল দিনের প্রথমার্ধে সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং রাত সোয়া দশটার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে মোদির এ ফোনালাপ হয়। 
এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মোদিকে শুভেচ্ছা জানাবার পাশাপাশি বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। অন্যদিকে বিএনপি চেয়ারপাসন খালেদা জিয়া শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি দু’দেশের সঙ্কট নিরসনে একসঙ্গে কাজ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
মোদিকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ হাসিনার
ভারতের হবু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে টেলিফোন করে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সকাল ৯টায় দু’নেতার মধ্যে টেলিফোনে কথা হয় বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মাহবুবুল হক শাকিল। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সরকার, জনগণ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং ব্যক্তি শেখ হাসিনার পক্ষ  থেকে নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। টেলিফোন আলাপকালে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সব সময় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের সঙ্গে অতীতের মতো আলোচনার মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সব সমস্যা নিরসনে আগ্রহের কথাও দেশটির ভাবী প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। মোদির নেতৃত্বে উভয় দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি। ভারতে ষোড়শ  লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতায় বসতে যাচ্ছে বিজেপি। আওয়ামী লীগের সঙ্গে কংগ্রেসের ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রতি ইঙ্গিত করে অনেকে বলছেন, বিজেপি সরকারের সঙ্গে  শেখ হাসিনার সম্পর্ক মনমোহন সিংয়ের সরকারের মতো হবে না।
মোদিকে ফোন খালেদার
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও ভারতের হবু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে টেলিফোন করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। গতকাল রাত সোয়া দশটার দিকে খালেদা জিয়া মোদিকে  ফোন করেন। পাঁচ মিনিটের ফোনালাপে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি আলাপ আলোচনার মাধ্যমে দু’দেশের মধ্যকার সঙ্কট নিরসনের উপায় নিয়েও কথা বলেন, দু’নেতা। খালেদা জিয়ার প্রেসসচিব মারুফ কামাল খান জানান, ফোনে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসন আশা প্রকাশ করেন আগামীতে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করে যাবে। এসময় দু’দশের মধ্যেকার সঙ্কট আলোচনার মাধ্যমে নিরসন হবে বলেও আশাপ্রকাশ করেন তিনি। বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকে  মোদিকে ফোন করা হয়। এসময় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সাংবাদিক শফিক রেহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান ও সাবিউদ্দিন আহমেদ এবং মারুফ কামাল খান।
গত শুক্রবার লোকসভা নির্বাচনে বিজয় ঘোষিত হওয়ার পরপরই মোদিকে অভিনন্দন বার্তা পাঠান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ওই দিন মোদি ও বিজেপির সভাপতি রাজনাথ সিং বরাবর অভিনন্দনপত্র পাঠান প্রধানমন্ত্রী। নিরঙ্কুশ বিজয়ের জন্য তিনি দুই নেতাকেই শুভেচ্ছা জানান। ওই অভিনন্দনপত্রেও তাদের সুবিধাজনক সময়ে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী।
নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী শেখ হাসিনা সরকার : ওদিকে আমাদের কূটনৈতিক রিপোর্টার জানান, ভারতের নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে শেখ হাসিনা সরকার অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। গতকাল দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় ভারত-পাকিস্তান-মিয়ানমারসহ সার্ক ও আসিয়ানের ১৪টি দেশের রাষ্ট্রদূতদের নিয়ে আয়োজিত কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ে তিনি এ আগ্রহের কথা জানান। এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ উপস্থিত ছিলেন। সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হকসহ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, দিল্লির নতুন সরকারের সঙ্গে শেখ হাসিনা সরকার ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার মধ্য দিয়ে দু’দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারবে। সফল নির্বাচন ও শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য দেশটির জনগণকে ধন্যবাদ জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

No comments:

Post a Comment