Sunday, May 4, 2014

আইভীকর্মী সুফিয়ানই নূর হোসেনকে হত্যাকাণ্ডে প্ররোচিত করেছিল

নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেছেন, নারায়ণগঞ্জের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন সরকারসহ ৭ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে হত্যাকাণ্ডে প্ররোচিত করেছিল মেয়র আইভীর কাছের লোক হিসেবে পরিচিত আবু সুফিয়ান। বেশ কিছুদিন পূর্বে নূর হোসেন, আবু সুফিয়ান ও সেলিম একত্রে বসে মদপান করার সময় ওসমান পরিবারকে গালাগাল করছিলো।
ওই সময় মদ্যপ অবস্থায় প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামকে খুন করতে কাউন্সিলর নূর হোসেনকে প্ররোচিত করেছিল সুফিয়ান। সে বলেছিল ‘রিকশাওয়ালা মারলেও ৩০২ আর প্রেসিডেন্ট মারলেও ৩০২।’ রোববার বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জে নজরুল ইসলামের পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ সমাবেশে যাওয়ার আগে শহরের চাষাঢ়ায় অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, আইভী বলেছে নারায়ণগঞ্জে জামায়াতের কোন বেস নাই। কিন্তু প্রকৃত সত্য হল জামায়াত আইভীকে ফাইন্যান্স করে। বজলুল হুদার ভাগ্নে তাকে ফাইন্যান্স করছে। নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন স্থানে মাদ্রাসাগুলো কারা পরিচালনা করছে তা একটু খতিয়ে দেখলেই প্রকৃত সত্য বের হয়ে আসবে। হাসান মাহমুদ আমাকে যা বলেছে সেটিই আমার কথা। প্রধানমন্ত্রী বলেছে মাটির ৩০ হাত নিচে থাকলেও খুনীরা রেহাই পাবে না। নজরুলের পরিবারের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, ওইটা নজরুল কিংবা এলাকাবাসীর অভিযোগের তীর ছিলনা। ওইটা ছিল আইভীর তীর। তার সঙ্গে প্রথম আলো, ত্বকী মঞ্চতো রয়েছেই। নজরুল আগের দিন আমার সঙ্গে দেখা করেছিল। আমি আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আনিছুর রহমান দিপুকে নজরুলের জামিন করিয়ে দিতে বলেছিলাম। যেদিন নজরুল অপহরণ হয় সেদিন নজরুলের শ্বশুর আমার কাছে এসে জানায় নজরুলকে অপহরণ করা হয়েছে। আমি নূর হোসেনকে ডেকে পাঠাই। নূর হোসেন এসে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে। পরে আমি র‌্যাব-১১ এর সঙ্গে কথা বলে নজরুলের শ্বশুর শহীদ চেয়ারম্যানকে ৠাব কার্যালয়ে যেতে বলি। শামীম ওসমান আরো বলেন, আমি নিজেই সো পাওয়ার লেস। মরলো তো সব আমার লোক। আমি নিজেও তো আমার জীবন নিয়ে শংকিত। এখনো থ্রেড আসতেছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে যদি দলের, প্রশাসনের কিংবা যেকেউ জড়িত থাকুক না কেন তাকে অতিদ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। নজরুলসহ ৭ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমার পরোক্ষ মদদ থাকে তাহলে যেনো আমার বিরুদ্ধে যাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ত্বকী হত্যাকাণ্ডে জড়িত আজমেরী ওসমানের প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, র‌্যাব কি কোথাও স্বীকার করেছে। ত্বকী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কারো বিরুদ্ধে কোন মামলা হয়নি। তারা এটা নিয়ে গেম খেলছে। তারা মামলা করলো না কেন। যতক্ষণ পর্যন্ত চার্জশিট দাখিলের পর আদালত চার্জ গঠন না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত কেউ আসামি হতে পারে না। আজমেরী ওসমান আসামি না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

No comments:

Post a Comment