Sunday, May 18, 2014

বিশ্বকাপে চেলসি’র আধিপত্য

ব্রাজিল বিশ্বকাপ সামনে রেখে রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও বায়ার্ন মিউনিখের মতো বাঘা বাঘা ক্লাবকে হারিয়ে দিয়েছে চেলসি। তবে শিরোপা কিংবা অর্থবিত্ত অর্জনে নয়, খেলোয়াড় দিয়ে। এই মওসুমে কোন শিরোপা জিততে পারেনি হোসে মরিনহোর চেলসি।
কিন্তু বিশ্বকাপে খেলোয়াড় সরবরাহের দিক দিয়ে সবার ওপরে রয়েছে ইংল্যান্ডের এই দলটি। বিশ্বকাপের আসরে চেলসির ১৮ জন ফুটবলার বিভিন্ন দেশের হয়ে মাঠে নামবেন। ক্লাব হিসেবে বিশ্বকাপে সর্বাধিক খেলোয়াড় সরবরাহ এটি। আয়োজক দেশ ব্রাজিল দলেই রয়েছে চারজন চেলসির ফুটবলার। অস্কার, উইলিয়ান, রামিরেস ও ডেভিড লুইজ ঐতিহ্যবাহী হলুদ জার্সি গায়ে ব্রাজিলের সাম্বা নৃত্যের তালে তাল মেলাবেন। এছাড়া, মরিনহোর দল থেকেই আরও দু’জন সুযোগ পেয়েছেন ইংল্যান্ডের দলেও। এরা হলেন- ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড এবং গ্যারি কাহিল। গতবারের চ্যাম্পিয়ন স্পেন দলেও রয়েছে চেলসির প্রতিনিধি। ফার্নান্দো তোরেস এবং সিজার আজপিলিকুয়েতা- এ দু’জনই চেলসির তারকা। শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপের ‘কালো ঘোড়া’ হিসেবে চমক দিতে পারে বলে অনেকেই বাজি ধরছেন বেলজিয়ামের ওপর। সেই বেলজিয়ামের বিশ্বকাপ দলে রয়েছেন চেলসির ইডেন হ্যাজার্ড, রোমেলু লুকাকু এবং থিবো কুরতোয়া। এছাড়াও চেলসির হয়ে খেলেন নাইজেরিয়ার বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়া জন ওবি মিকেল, ভিক্টর মোসেস এবং কেনেথ ওমেরো। অন্যদিকে ক্যামেরুনের স্যামুয়েল ইতো, জার্মানির আন্দ্রে শ্রুল, ঘানার ক্রিশ্চিয়ান আটসু এবং নেদারল্যান্ডসের প্যাট্রিক ফন আনহোল্টও চেলসির খেলোয়াড়। এই হিসেবে ব্রাজিল বিশ্বকাপে ফুটবলার পাঠানোর নিরিখে ইউরোপ তো বটেই, বিশ্বেরও এক নম্বর ক্লাব চেলসি। বিশ্বকাপে খেলোয়াড় পাঠানোর দিক দিয়ে তাদের পরেই আছে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও জার্মানির ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখ। তারা বিশ্বকাপে পাঠিয়েছে ১৬ জন করে খেলোয়াড়। এই মওসুমে মাঠে ভালো পারফরমেন্স করতে পারেনি ম্যানইউ। কিন্তু তাদের দলের ফুটবলাররা অনেকেই সুযোগ পেয়েছেন নিজ দেশের বিশ্বকাপ দলে। ম্যানইউ থেকে ইংল্যান্ড দলে সুযোগ পেয়েছেন ওয়েইন রুনি, টম ক্লেভারলি এবং মাইকেল ক্যারিক। যদিও শেষের দু’জনকে স্ট্যান্ডবাই ফুটবলার হিসেবে দলে রেখেছেন রয় হজসন। ‘রেড ডেভিলস’দের আরও দু’জন তারকাকে দেখা যাবে বিশ্বকাপের আসরে। তারা হলেন- মেক্সিকোর হাভিয়ের হার্নান্দেজ এবং নেদারল্যান্ডসের রবিন ফন পার্সি। ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন স্পেন দলের অধিকাংশ ফুটবলারই ছিলেন বার্সেলোনার সদস্য। তেমনই এবারের বিশ্বকাপে জার্মান দলে দেখা যাবে বায়ার্ন মিউনিখের একঝাঁক তারকাকে। জোয়াকিম লো’র ৩০ জনের প্রাথমিক দলে সুযোগ পেয়েছেন ম্যানুয়েল নায়ার, জেরোরে বোয়াটেং, বাস্তেইন সোয়াইনস্টেগার, টনি ক্রুস, থমাস মুলার, মারিও গোটশে এবং ফিলিপ লাম। প্রত্যেকেই জার্মানির চূড়ান্ত ২৩ সদস্যের দলে থাকার সম্ভাবনা প্রবল। বিশ্বকাপে ফুটবলারদের ক্লাবভিত্তিক প্রতিনিধিত্বের বিচারে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইতালির নাপোলি। সিরি আ’র এই ক্লাবটি থেকে বিশ্বকাপে দেখা যাবে মোট ১৪ জনকে। তবে এই হিসেবে অনেক পিছিয়ে আছে রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা, ম্যানচেস্টার সিটি, লিভারপুল আর্সেনাল ও জুভেন্টাস। রিয়াল, বার্সা ও ম্যানসিটি ১৩ এবং জুভেন্টাস, আর্সেনাল ও লিভারপুলের ১২ জন করে খেলোয়াড়কে এবার বিশ্বকাপে দেখা যাবে।

No comments:

Post a Comment