বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগামী ট্রেন তৈরি করে
জাপানই সবসময় শীর্ষে থেকেছে। তাদের বুলেট ট্রেনের গতিকে বহু বছর কোন দেশ
ছুঁতেও পারেনি। শেষ পর্যন্ত ফ্রান্স ঘন্টায় ৫৭৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার গতির
টিজিভি ট্রেন সার্ভিস চালু করলো। যদিও সাধারণভাবে যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে
ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪০০ কিলোমিটারের বেশি গতি তোলা হয় না। কারণ, অতিরিক্ত
গতি তুললে বাতাসের ঘর্ষণে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। আর এবার যদি বলা
হয় জাপান ও ফ্রান্সকে ছাড়িয়ে চীন এবার তৈরি করতে চলেছে ভবিষ্যতের ট্রেন যার
গতি হবে ঘণ্টায় ৩ হাজার কিলোমিটার, তাতে যে কেউই অবাক হবেন।

এ
গতিতে খুব দ্রুত বড় কোন দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে চলে যাওয়া
যাবে চোখের পলকেই। দ্রুতগামী বিমানের গতিকে মাটিতেই স্পর্শ করার প্রচেষ্টায়
সত্যিই নেমেছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির দেশ চীন। চীনের গবেষকরা এ ধরনের একটি
ট্রেন তৈরি করার কাজে এরই মধ্যে নেমে পড়েছেন। খবরটি দিয়েছে বার্তা সংস্থা
আইএএনএস। সিচুয়ান প্রদেশের চেংদু শহরের সাউথওয়েস্ট জিয়াওতোং ইউনিভার্সিটির
সহযোগী অধ্যাপক ডক্টর ডেং জিগ্যাং মানুষ নিয়ন্ত্রিত মেগাথার্মাল
সুপারকন্ডাক্টিং ম্যাগনেটিক লেভিটেশন (ম্যাগলেভ) লুপ উদ্ভাবন করেছেন। এ
ট্রেনগুলো চাকার পরিবর্তে একটি বিশেষভাবে তৈরি রেল-ট্র্যাকের ওপর দিয়ে চলে।
রেল-ট্র্যাকের চৌম্বকক্ষেত্রের সঙ্গে ট্রেনের চৌম্বকক্ষেত্র বিশেষ
প্রক্রিয়ায় কাজ করে ও প্রচণ্ড গতি সঞ্চারিত হয়। ফলে, ঘণ্টায় শ’ শ’
কিলোমিটার বেগে এগিয়ে যায় ট্রেন। অত্যাধুনিক সেই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়েই
বর্তমানের চেয়ে ৭ গুণ বেশি গতিসম্পন্ন ট্রেন তৈরি করা সম্ভব বলে জানান
জিগ্যাং। ঘণ্টায় ৩,০০০ কিলোমিটার গতি তুলতে পারাটা স্বপ্ন হলেও, তাকে
বাস্তবে রূপ দিতে বদ্ধপরিকর চীনের গবেষকরা। তবে ম্যাগলেভ ট্রেনের সর্বোচ্চ
গতি টিজিভি ট্রেনের চেয়ে এখনও অনেকটাই কম। সাংহাই ম্যাগলেভ বিশ্বের সবচেয়ে
দ্রুতগামী ম্যাগলেভ ট্রেন সার্ভিস, যা ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৩১ কিলোমিটার
পর্যন্ত গতি তুলতে পারে।
No comments:
Post a Comment