গুম-অপহরণের প্রতিবাদে বিশিষ্ট নাগরিকদের মানববন্ধনে বাধা দিয়েছে পুলিশ।
বাধা উপেক্ষা করে সংক্ষিপ্ত পরিসরে তারা কর্মসূচি পালন করেছেন। গতকাল
বিকালে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মৌলিক অধিকার
সুরক্ষা কমিটি নামে উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজের সদস্যরা এই মানববন্ধনের আয়োজন
করেন। বিকাল পাঁচটার দিকে এই মানববন্ধন হওয়ার আগ মুহূর্তে পুলিশ গিয়ে বাধা
দেয়।

এর
আগেই মানিক মিয়া এভিনিউয়ে একাধিক জলকামান ও রায়ট কার প্রদিক্ষণ করতে দেখা
যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশ সেখানে গিয়ে সমাবেশের ব্যানার, ফেস্টুন
ও লিফলেট কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করে। মাইক কেড়ে নেয়। যে রিকশায় মাইক লাগানো
ছিল ওই রিকশার চালককেও আটক করে। এ সময় বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে পুলিশের
বাগ্বিত-া হয়। এর মধ্যেই সংক্ষিপ্ত পরিসরে কর্মসূচি শেষ করা হয়।
মানববন্ধনে টিআইবি’র চেয়ারপারসন এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী
পরিচালক সুলতানা কামাল, ড. আইনজীবী শাহদীন মালিক, সুজন সম্পাদক ড. বদিউল
আলম মজুমদার, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে. চৌধুরী,
সিপিডি’র ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড.
ইফতেখারুজ্জামান, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী,
ব্যারিস্টার সারা হোসেন, নারীনেত্রী খুশী কবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন
বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল, আইনজীবী জেডআই খান পান্না, সাবেক এমপি ও
চিত্রনায়িকা সারা বেগম কবরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সুলতানা কামাল
বলেন, সারা দেশে গুম, অপহরণ হত্যা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন, শঙ্কিত। আমাদের এই
শঙ্কা জানাতেই এই সমাবেশের আয়োজন করেছি। এতেও যে পুলিশ বাধা দিয়েছে, তার
প্রতি আমরা ধিক্কার জানাই। আমাদের শেষ মৌলিক অধিকারটুকু সঙ্কুচিত হতে
চলেছে। এটা হতে পারে না। আমরা আশা করি সরকার তা বুঝতে পারবে। শাহদীন মালিক
বলেন, এদেশে যেন গুম ও অপহরণ না হয় সে দাবি জানাতেই আমরা একত্রিত হয়েছি। এ
সমস্ত অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। নারায়ণগঞ্জের
র্যাব-১১’র সব সদস্যকে প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। ড. বদিউল আলম
মজুমদার বলেন, যে কোন অন্যায়ের প্রতিবাদ জানানো নাগরিকের মৌলিক অধিকার। সেই
অধিকারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাধা সৃষ্টির ক্ষমতা রাখে না। রাশেদা
কে. চৌধুরী বলেন, হেফাজতে ইসলামের লাখো লাখো সদস্য সশস্ত্র অবস্থায় সমাবেশ
করতে পারে। আর আমরা অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতে এলে তাতে বাধা দেয়া হচ্ছে।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, গুম, অপহরণ ও হত্যাকারীদের বিচার সরকারও চায়।
তাহলে এই বিচার চাওয়া কর্মসূচিতে বাধা দেয়া হচ্ছে কেন? ড. ইফতেখারুজ্জামান
বলেন, শঙ্কিত, ক্ষুব্ধ, আমরা বিব্রত বোধ করছি। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি
বিব্রত বোধ করছি। সাংবিধানিক অধিকার কিভাবে খর্ব করা হয়, তা আমাদের চোখে
আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়া হচ্ছে। সরকার নিজেদেরকে নিজেরাই ধ্বংসের দিকে ঠেলে
দিচ্ছে। আমাদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় যা করার প্রয়োজন, তা করা দরকার।
অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, আমাদের আজ বাধা দিয়ে সরকার গুম, খুনকারীদের
প্রশ্রয় দিচ্ছে। তাদের মদত দিচ্ছে। জেড আই খান পান্না বলেন, পুলিশের ক্ষমতা
খর্ব করা হয়েছে। পুলিশের সব ক্ষমতা র্যাব কেড়ে নিয়েছে। পুলিশকে তার
ক্ষমতা ফিরে পেতে সোচ্চার হতে হবে। এদিকে মানববন্ধন করার অনুমতি না দেয়ার
বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) বিপ্লব কুমার
সরকার বলেন, তারা সমাজের উচ্চ শ্রেণীর নাগরিক। তারা আইনের শাসনের কথা
বলেন। অথচ তারাই সংসদ ভবনের মতো একটি সংরক্ষিত এলাকায় স্পিকার বা ডিএমপি
কমিশনারের অনুমতি ছাড়া মানববন্ধন ও সমাবেশ করছিলেন। পুলিশের পক্ষ থেকে
তাদের যথাযথ অনুমতি নেয়ার কথা বলা হয়। ব্যানার কেড়ে নেয়া প্রসঙ্গে তিনি
বলেন, সেই অর্থে ব্যানার ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটেনি। এ ঘটনায় কাউকে আটক বা
বাধা দেয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
No comments:
Post a Comment