Sunday, May 4, 2014

বিএনপি’র অনশন আজ, যোগ দেবেন খালেদা জিয়া

সাম্প্রতিক সময়ে অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠা অপহরণ ও গুম-খুনের প্রতিবাদে দেশব্যাপী গণঅনশন করছে বিএনপি। এ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারবিরোধী আন্দোলনে বৃহত্তর ঐক্যের পটভূমি রচনা করতে চায় দলটি। কেন্দ্রীয়ভাবে আজ কর্মসূচিটি পালিত হবে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে। বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিরোধী জোট নেতা খালেদা জিয়া এ কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করবেন। দলটির মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সকাল নয়টায় শুরু হয়ে অনশন চলবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। মহানগর বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পাশাপাশি সমমনা পেশাজীবীদের অংশগ্রহণে বড় আয়োজনে গণঅনশন কর্মসূচি সফল করার সবধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিএনপি। উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের প্রথম মেয়াদে বিরোধী জোট নেতা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দু’বার গণঅনশন কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। ২০১১ সালের ১৩ই জুলাই প্রথমবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে গণঅনশন করে বিএনপি। জাতীয় সংসদের তৎকালীন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের ওপর পুলিশের বর্বরোচিত হামলা ও হরতালের দিন বিএনপি নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল রেখে পাস হওয়া পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের দাবিতে এ গণঅনশন কর্মসূচি পালন করে দলটি। সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর তাসমেরি এস ইসলাম ও কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন পানি খাইয়ে খালেদা জিয়ার অনশন ভাঙন। ২০১২ সালের ২০শে মে ১৮দলের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় দফায় গণঅনশন কর্মসূচি পালন করা হয়। বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নিখোঁজ এম ইলিয়াস আলীকে জীবিত ফেরত দেয়া, মিথ্যা মামলায় আটক নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তি, গুম-খুন বন্ধ এবং নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিতে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চের উন্মুক্ত চত্বরে এ গণঅনশন কর্মসূচি পালিত হয়। সকাল ১০টা থেকে বিকাল পর্যন্ত ৫টায় পর্যন্ত এ কর্মসূচিতে খালেদা জিয়াকে শরবত পান করিয়ে গণঅনশন ভাঙান নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলীর শিশুকন্যা সাইয়ারা নাওয়াল। একই দিন দেশের সব জেলা ও মহানগরে এ কর্মসূচি পালন করে বিএনপি। বাংলাদেশের সঙ্গে মিল রেখে একই দিন লন্ডনের শহীদ আলী পার্কে অনশন করে বৃটেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। বিএনপির দাবির সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে দু’টি গণঅনশনেই সংহতি প্রকাশ করেন জোটের বাইরের রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট নাগরিকরা। কিন্তু বিএনপির সব ক’টি দাবিই থেকে যায় উপেক্ষিত। প্রথম দফা যে হামলার ঘটনায় অনশন করেছিল বিএনপি সে ঘটনার অভিযুক্তরা পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয় পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। দ্বিতীয় অনশনের দাবি ছিল নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর সন্ধান। কিন্তু দু’বছরেও তার সন্ধান মেলেনি। অন্যদিকে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের দাবিটি উপেক্ষিত হওয়ার প্রেক্ষিতে ৫ই জানুয়ারির দশম জাতীয় নির্বাচন বয়কট করেছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট। ফলে ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন পর্যবসিত হয়েছে একতরফায়। 
এদিকে আজকের গণঅনশন কর্মসূচি সফল করতে নানামুখী প্রস্তুতি নিয়েছে বিএনপি ও অঙ্গদলগুলো। দলের যৌথসভার মাধ্যমে ২৬শে কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর মহানগর বিএনপি ও অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনগুলো আলাদাভাবে প্রস্তুতি সভা করেছে। মহানগর বিএনপি সূত্র জানায়, অনশন কর্মসূচিতে মহানগরের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক কর্মী-সমর্থককে উপস্থিত করার জন্য চেষ্টা চলছে। এ জন্য ওয়ার্ড নেতাদের জোরালো তাগাদা দেয়া হয়েছে। এছাড়া জোটের শরিক দল ও জাতীয়তাবাদী ঘরানার একাধিক পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অনশনে যোগ দেবেন। সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগরের বাইরে অন্তত ৫টি জেলা থেকে বিএনপি নেতাকর্মীরা অনশনে যোগ দেবেন। বিএনপি নেতারা জানান, দলের সাংগঠনিক অবস্থান মজবুত, সরকারের বিরুদ্ধে জোরালো জনমত তৈরি, সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচন ও দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের পথ সুগম করতেই খালেদা জিয়া আপসহীন ভূমিকায় ফের বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন। তারই প্রাকপ্রস্তুতি হিসেবে গণঅনশনসহ কিছু শান্তিপূর্ণ গুচ্ছ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। ওদিকে গতকাল বিকালে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গণঅনশন কর্মসূচির সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, চলমান গুম-খুন ও অপহরণের প্রতিবাদে এবং খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সারা দেশের জেলা, উপজেলা ও মহানগরে গণঅনশন করবে বিএনপি। রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। বিকাল ৪টায় ওই অনশন কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। আমাদের এই কর্মসূচি হবে শান্তিপূর্ণ। বিএনপি ও দলের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সকাল ৯টায় কর্মসূচিতে উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গুম-খুনের ঘটনায় সরকারকে দায়ী করে রিজভী আহমেদ বলেন, ৫ই জানুয়ারির ভোটারবিহীর নির্বাচনের পর সরকার ক্ষমতায় এসে গণবিধ্বংসী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। প্রতিদিনই মানুষ গুম খুন হচ্ছেন। চারদিকে শুধু লাশ আর লাশ। রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ এসব ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্কিত। রিজভী আহমেদ বলেন, গুম-খুনের সঙ্গে সরকারের অনুগত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও যুবলীগ-ছাত্রলীগ জড়িত। সরকারি বাহিনী জড়িত থাকায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলছেন। কোথাও কোন জবাবদিহি নেই। প্রধানমন্ত্রীর যেন মাথাব্যথা নেই।

No comments:

Post a Comment