Monday, May 19, 2014

ভারতের সব আম কি এক ঝুড়িতে থাকবে?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে হঠাৎ চাঞ্চল্য। গুমোট আবহাওয়া শেষে যেন এক ধরনের অস্থিরতা। স্বস্তি-অস্বস্তির খেলা। দিল্লির মসনদে পরিবর্তনে তৈরি হয়েছে এ পরিস্থিতি। ভারতের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি তথা নরেন্দ্র মোদির নিরঙ্কুশ বিজয় বাংলাদেশের রাজনীতিতে কি প্রভাব ফেলে সে হিসাব মেলানোর চেষ্টা করছেন পর্যবেক্ষকরা। আওয়ামী লীগ-বিএনপি নিজস্ব স্টাইলে তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। এক ধরনের অস্বস্তি দেখা গেছে ক্ষমতাসীনদের মধ্যে।
যদিও তারা প্রকাশ্যে বলছেন, ভারতে ক্ষমতার পরিবর্তন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোন প্রভাব ফেলবে না। তবে ক্ষমতায় টিকে থাকতে আগের মতো ভারতের নিরঙ্কুশ সমর্থন পাওয়া যাবে কিনা এ নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকায় বিরোধী শিবিরে এক ধরনের স্বস্তি দেখা গেছে। বাংলাদেশ থেকে সম্ভবত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াই সর্বপ্রথম নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানান। যদিও বিজেপি’র কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বিএনপির কোন ধরনের যোগাযোগ তৈরি হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব সব সময়ই আলোচিত বিষয়। তবে ‘৫ই জানুয়ারি নির্বাচনে’ সৃষ্ট পরিস্থিতিতে এ প্রভাব বেড়েছে বহু গুণ। এ নির্বাচনের আগে-পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দুনিয়ার অবস্থান ছিল স্পষ্ট। একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পক্ষপাতী ছিল এসব দেশ। কিন্তু এর বিপরীত অবস্থান ছিল ভারতের। বাংলাদেশের রাজনীতিতে অনেকেই বিশ্বাস করেন কেবল ভারতের সমর্থনের কারণেই আওয়ামী লীগ ৫ই জানুয়ারি নির্বাচন আয়োজনে সমর্থ হয়। নির্বাচনের পর অবশ্য রাশিয়া এবং চীনকেও আওয়ামী লীগ সরকারকে সমর্থন দিতে এগিয়ে আসতে দেখা গেছে। মূলত ৫ই জানুয়ারি নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতির কারণেই ভারতে মোদির বিজয়কে বাংলাদেশে এতটা গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে সব সময়ই একটি বিষয় আলোচিত হয়েছে, ভারত কি সব আম এক ঝুড়িতেই রাখবে? বেশির ভাগ সময় তা ঘটতে দেখা গেলেও কখনও কখনও তার ব্যতিক্রমও হয়েছে। ২০০১ সালের নির্বাচনে ভারত সরকার বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছিল- এমন আলোচনাও রয়েছে। এখন ভারত কি তার এক ঝুড়িতে রাখা সব আমের ক্ষেত্রে কোন পরিবর্তন আনবে? এ প্রশ্নটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সরকার পরিবর্তন হলেও সাধারণত ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে তেমন কোন পরিবর্তন আসে না। সাউথ ব্লকের আমলা আর ভারতের শক্তিশালী গোয়েন্দা সংস্থাই এ নীতি নির্ধারণ করে থাকে। তবে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, কংগ্রেসের সঙ্গে আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতার কংগ্রেসের নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ রয়েছে। যে কারণে দেশ চাপিয়ে আওয়ামী লীগ এবং কংগ্রেসের মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি হয়েছিল। বিজেপি ক্ষমতায় এলে তাতে পরিবর্তন আসবে। কারণ বিজেপি নেতাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাদের ব্যক্তিগত পর্যায়ে তেমন কোন যোগাযোগ নেই। তাই দিল্লিতে মসনদে পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক দল ও ব্যক্তি পর্যায় থেকে আবারও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ফিরে যাবে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার বিষয়টিও আলোচিত হচ্ছে। পর্যবেক্ষকরা স্মরণ করছেন, ৫ই জানুয়ারি নির্বাচনপূর্বে বাংলাদেশ নীতি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের মধ্যে বিস্তর দর কষাকষি হয়। সর্বোচ্চ পর্যায়েও এ নিয়ে কথা হয়। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা এ নিয়ে আলোচনার জন্য ভারত সফরেও গিয়েছিলেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তখন উষ্মা প্রকাশ করা হয়েছিল। এটা স্পষ্ট, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে সব দলের অংশগ্রহণে একটি নতুন নির্বাচন চায়। ওবামা প্রশাসন এ ব্যাপারে মোদির সরকারের ওপর কোন প্রভাব বিস্তার করে কিনা- তাই হবে দেখার বিষয়। ভারতে ক্ষমতার পরিবর্তনে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে কোন পরিবর্তন আসবে কিনা- এ প্রশ্নে সম্প্রতি দুই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ। শুরুতে তিনি বলেছিলেন, ক্ষমতায় পরিবর্তন সম্পর্কে কোন পরিবর্তন আসবে না। তবে সর্বশেষ বুধবার তিনি বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক কেমন হবে তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে। তবে এটা নিশ্চিত করেই বলা যায়, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোন পরিবর্তন আসবে কিনা তা সহসাই খোলাসা হয়ে যাবে।

No comments:

Post a Comment