ব্রাজিলের অস্কারকে নিয়ে বিশেষ রচনা—>
অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডের নাম অস্কার কেন হলো, তা নিয়ে একটি মজার গল্প আছে। ১৯৩১ সালে একদিন অ্যাকাডেমির লাইব্রেরিয়ান মার্গারেট হেরিক মূর্তিটি দেখে বলে ওঠলেন, ‘আরে, এটা দেখতে তো একদম আমার চাচা অস্কারের মতো! অস্কার নামটি বেশ ভালো লেগে যায় কর্তৃপক্ষের। তখন থেকেই মূর্তিটির নাম অস্কার।
অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডের নাম অস্কার কেন হলো, তা নিয়ে একটি মজার গল্প আছে। ১৯৩১ সালে একদিন অ্যাকাডেমির লাইব্রেরিয়ান মার্গারেট হেরিক মূর্তিটি দেখে বলে ওঠলেন, ‘আরে, এটা দেখতে তো একদম আমার চাচা অস্কারের মতো! অস্কার নামটি বেশ ভালো লেগে যায় কর্তৃপক্ষের। তখন থেকেই মূর্তিটির নাম অস্কার।

>>২২ বছর বয়সেই ব্রাজিলের প্রত্যাশার ভার অস্কারের কাঁধে
পাঠক
অবাক হতেই পারেন এ ভেবে, খেলার পাতায় কেন অস্কার নিয়ে কথা হচ্ছে। অস্কারে
তো আর খেলাধুলা কোটা নেই! কিন্তু বিশ্বকাপকে ফুটবলজগতের অস্কার বলতেই
পারেন। আর স্বাগতিক ব্রাজিলকে সেই ‘অস্কার’ জিততে হলে তাকিয়ে থাকতে হবে
অস্কারের দিকে! আর দশজন ব্রাজিল তারকার মতো তাঁর নামটাও এক বিঘত লম্বা।
অস্কার দস সান্তোস এমবোয়াবা জুনিয়র। মাত্র ২২ বছর বয়সেই ব্রাজিলের বিশ্বকাপ
জয়ের অন্যতম মূল সারথি। ব্রাজিলের সাও পাওলোর হয়ে ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু
অস্কারের। তারপর ইন্টারন্যাসিওনালের হয়ে খেলেন বেশ কিছুদিন। দুই কোটি ইউরো
গুনে তাঁকে দলে টেনে নেয় চেলসি।
দুর্দান্ত ড্রিবলিং, দ্রুতগতির দৌড়, মাঝমাঠে সৃজনশীলতা—সব মিলিয়েই এই তারকা ধারাবাহিকভাবেই পারফর্ম করে যাচ্ছেন। যেন নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। এ মৌসুমের শেষভাগে নিতম্বের চোটের কারণে অবশ্য খানিকটা খেই হারিয়ে ফেলেছেন। তবে ওই যে প্রবাদবাক্য, ‘ফর্ম ইজ টেম্পোরারি, ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট।’
ক্লাবের হয়ে পজিশন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়েছে মাতার সঙ্গে। মাতা অবশ্য পরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে নাম লিখিয়েছেন। জাতীয় দলের চ্যালেঞ্জটা আরও বড় ছিল। এই পজিশনে খেলেছেন কাকা কিংবা রোনালদিনহো। খুব বেশি সুযোগ না পেলেও স্বাভাবিকভাবেই এই দুই মহাতারকার বদলে যাঁকে নেওয়া হবে, তাঁর সঙ্গে কাকা-রোনালদিনহোর তুলনা তো হবেই। একটু খারাপ খেললেই বাদ পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে।
কিন্তু প্লেমেকার হিসেবে দিন দিন নিজেকে আরও পরিণত করে গড়ে তুলছেন। মাঝমাঠের যেকোনো প্রান্তে খেলাতে পারেন কোচ। কখনো উইংয়ে, কখনোবা স্ট্রাইকারের পেছনে খেলে গড়ে দেন ব্যবধান। প্রতাপশালী সম্রাটের মতো মাঝমাঠে গড়ে তোলেন সাম্রাজ্য।
প্রতি বিশ্বকাপে ফেভারিট হিসেবেই যাত্রা শুরু করে ব্রাজিল। সেলেসাওদের মতো আর কোনো দেশকেই এত চাপ সামলে ফুটবল মাঠে নামতে হয় না। শিরোপাই একমাত্র সাফল্য বলে বিবেচিত, রানার্সআপও ব্যর্থতা। এই সাফল্যের আসল কারিগর হিসেবে কাজ করতে হয় মাঝমাঠকেই। অস্কারের তরুণ কাঁধে কী ভীষণ চাপের বোঝা, নিশ্চয়ই অনুমান করতে পারছেন। স্কলারিরও আসল বাজির ঘোড়া অস্কারই। কদিন আগে ব্রাজিল কোচ বলেছেন, ‘অস্কার যেন বিশ্বকাপে নিজের সেরা ফর্মে থাকে। নেইমারের দক্ষতা, লুকাসের দ্রুততার পাশাপাশি অস্কারের বুদ্ধিমত্তাই ব্রাজিলের আক্রমণভাগের সাফল্যের নিয়ন্তা হয়ে উঠবে।’
ব্রাজিলের সব ধরনের বয়সভিত্তিক দলের হয়েই অস্কারের রয়েছে দুর্দান্ত সাফল্য। অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে ফাইনালে পর্তুগালের সঙ্গে হ্যাটট্রিক করে ম্যাচ জিতিয়েছেন। ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে দলকে তুলে এনেছিলেন ফাইনাল পর্যন্ত। কনফেডারেশনস কাপে সর্বজয়ী স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে স্নায়ু সামলে অসাধারণ পারফর্ম করে অস্কার দেখিয়ে দিয়েছেন, বড় ম্যাচেই জ্বলে উঠতে বেশি ভালোবাসেন।
অস্কারের প্রতিটি পাসেই যেন থাকে তার বুদ্ধিমত্তার ছাপ। আক্রমণভাগে বলের জোগান দেন চাতুর্যের সঙ্গে। ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরাল শট নিতেও দ্বিধা করেন না। প্রয়োজনের সময় নিচে এসে রক্ষণ সামলানোর কাজটাও ভালোই করেন। সব মিলিয়ে যেন একজন আদর্শ মিডফিল্ডারের প্রতিচ্ছবি। সব সময় বলের জোগান দিলেও যে খেলোয়াড়ের রয়েছে গোল করার দুর্দান্ত ক্ষমতা, তিনি গোল না করে থাকতে পারেন? দেশের হয়ে প্রতি তিন ম্যাচে একটি করে গোল—বোঝাই যাচ্ছে, গোল করার সুযোগ পেলে সেই সুযোগ হাতছাড়া করার মত কাঁচা খেলোয়াড় তিনি নন।
অস্কার হয়তো ব্রাজিল দলে বছরের পর বছর ধরে খেলে যাওয়া জাদুকরি মিডফিল্ডারদের মতো ততটা চমকপ্রদ নন। কিন্তু যেখানে বিগত বেশ কয়েকটি বছর ধরে ব্রাজিল দল সর্বোচ্চ পর্যায়ের ডিফেন্সিভ ও অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের সংকটে ভুগছে, তখন এ রকম শৈল্পিক ঘরানার কার্যকরী একজন মাঝমাঠের খেলোয়াড় পাওয়া দলের জন্য আশীর্বাদ হয়েই এসেছে। হয়তোবা নেইমারের মতো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নেই। কিন্তু বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সাফল্যের জন্য অস্কার জ্বলে উঠতে হবে। নেইমার এবং আক্রমণভাগের সবাইকে বল জোগান দেওয়ার গুরুদায়িত্ব যে সামলাতে হবে তাঁকেই।
ফুটবল শুধু একটি খেলাই নয়, ফুটবল একটি শিল্পও। সেই শিল্পের ভাষা অনেকেই বোঝে না। বতিচেল্লি-মিকেলঅ্যাঞ্জোলোদের সৃষ্টি কি সবার মনে রস সৃষ্টি করে? এখনকার ফল নির্ভরতার কারণে ফুটবল যখন সৌন্দর্য হারাচ্ছে, তখন অস্কার ফুটবল-মন্দিরে ধ্যানমগ্ন এক পূজারি যেন। ফুটবল-দেবীর আরাধনাতেই কাটে তাঁর দিন।
দুর্দান্ত ড্রিবলিং, দ্রুতগতির দৌড়, মাঝমাঠে সৃজনশীলতা—সব মিলিয়েই এই তারকা ধারাবাহিকভাবেই পারফর্ম করে যাচ্ছেন। যেন নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। এ মৌসুমের শেষভাগে নিতম্বের চোটের কারণে অবশ্য খানিকটা খেই হারিয়ে ফেলেছেন। তবে ওই যে প্রবাদবাক্য, ‘ফর্ম ইজ টেম্পোরারি, ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট।’
ক্লাবের হয়ে পজিশন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়েছে মাতার সঙ্গে। মাতা অবশ্য পরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে নাম লিখিয়েছেন। জাতীয় দলের চ্যালেঞ্জটা আরও বড় ছিল। এই পজিশনে খেলেছেন কাকা কিংবা রোনালদিনহো। খুব বেশি সুযোগ না পেলেও স্বাভাবিকভাবেই এই দুই মহাতারকার বদলে যাঁকে নেওয়া হবে, তাঁর সঙ্গে কাকা-রোনালদিনহোর তুলনা তো হবেই। একটু খারাপ খেললেই বাদ পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে।
কিন্তু প্লেমেকার হিসেবে দিন দিন নিজেকে আরও পরিণত করে গড়ে তুলছেন। মাঝমাঠের যেকোনো প্রান্তে খেলাতে পারেন কোচ। কখনো উইংয়ে, কখনোবা স্ট্রাইকারের পেছনে খেলে গড়ে দেন ব্যবধান। প্রতাপশালী সম্রাটের মতো মাঝমাঠে গড়ে তোলেন সাম্রাজ্য।
প্রতি বিশ্বকাপে ফেভারিট হিসেবেই যাত্রা শুরু করে ব্রাজিল। সেলেসাওদের মতো আর কোনো দেশকেই এত চাপ সামলে ফুটবল মাঠে নামতে হয় না। শিরোপাই একমাত্র সাফল্য বলে বিবেচিত, রানার্সআপও ব্যর্থতা। এই সাফল্যের আসল কারিগর হিসেবে কাজ করতে হয় মাঝমাঠকেই। অস্কারের তরুণ কাঁধে কী ভীষণ চাপের বোঝা, নিশ্চয়ই অনুমান করতে পারছেন। স্কলারিরও আসল বাজির ঘোড়া অস্কারই। কদিন আগে ব্রাজিল কোচ বলেছেন, ‘অস্কার যেন বিশ্বকাপে নিজের সেরা ফর্মে থাকে। নেইমারের দক্ষতা, লুকাসের দ্রুততার পাশাপাশি অস্কারের বুদ্ধিমত্তাই ব্রাজিলের আক্রমণভাগের সাফল্যের নিয়ন্তা হয়ে উঠবে।’
ব্রাজিলের সব ধরনের বয়সভিত্তিক দলের হয়েই অস্কারের রয়েছে দুর্দান্ত সাফল্য। অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে ফাইনালে পর্তুগালের সঙ্গে হ্যাটট্রিক করে ম্যাচ জিতিয়েছেন। ২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে দলকে তুলে এনেছিলেন ফাইনাল পর্যন্ত। কনফেডারেশনস কাপে সর্বজয়ী স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে স্নায়ু সামলে অসাধারণ পারফর্ম করে অস্কার দেখিয়ে দিয়েছেন, বড় ম্যাচেই জ্বলে উঠতে বেশি ভালোবাসেন।
অস্কারের প্রতিটি পাসেই যেন থাকে তার বুদ্ধিমত্তার ছাপ। আক্রমণভাগে বলের জোগান দেন চাতুর্যের সঙ্গে। ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরাল শট নিতেও দ্বিধা করেন না। প্রয়োজনের সময় নিচে এসে রক্ষণ সামলানোর কাজটাও ভালোই করেন। সব মিলিয়ে যেন একজন আদর্শ মিডফিল্ডারের প্রতিচ্ছবি। সব সময় বলের জোগান দিলেও যে খেলোয়াড়ের রয়েছে গোল করার দুর্দান্ত ক্ষমতা, তিনি গোল না করে থাকতে পারেন? দেশের হয়ে প্রতি তিন ম্যাচে একটি করে গোল—বোঝাই যাচ্ছে, গোল করার সুযোগ পেলে সেই সুযোগ হাতছাড়া করার মত কাঁচা খেলোয়াড় তিনি নন।
অস্কার হয়তো ব্রাজিল দলে বছরের পর বছর ধরে খেলে যাওয়া জাদুকরি মিডফিল্ডারদের মতো ততটা চমকপ্রদ নন। কিন্তু যেখানে বিগত বেশ কয়েকটি বছর ধরে ব্রাজিল দল সর্বোচ্চ পর্যায়ের ডিফেন্সিভ ও অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের সংকটে ভুগছে, তখন এ রকম শৈল্পিক ঘরানার কার্যকরী একজন মাঝমাঠের খেলোয়াড় পাওয়া দলের জন্য আশীর্বাদ হয়েই এসেছে। হয়তোবা নেইমারের মতো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নেই। কিন্তু বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সাফল্যের জন্য অস্কার জ্বলে উঠতে হবে। নেইমার এবং আক্রমণভাগের সবাইকে বল জোগান দেওয়ার গুরুদায়িত্ব যে সামলাতে হবে তাঁকেই।
ফুটবল শুধু একটি খেলাই নয়, ফুটবল একটি শিল্পও। সেই শিল্পের ভাষা অনেকেই বোঝে না। বতিচেল্লি-মিকেলঅ্যাঞ্জোলোদের সৃষ্টি কি সবার মনে রস সৃষ্টি করে? এখনকার ফল নির্ভরতার কারণে ফুটবল যখন সৌন্দর্য হারাচ্ছে, তখন অস্কার ফুটবল-মন্দিরে ধ্যানমগ্ন এক পূজারি যেন। ফুটবল-দেবীর আরাধনাতেই কাটে তাঁর দিন।
No comments:
Post a Comment