সাত খুনের ঘটনায় ১০ দিন পেরিয়ে গেল, এজাহারভুক্ত সাত আসামির কেউ ধরা পড়ল
না। সন্দেহভাজন হিসেবে আটক ১৬ জনের কেউ অপরাধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত, এমন
প্রমাণও মেলেনি। জানতে চাইলে পুলিশ ও তদন্ত কর্মকর্তারা যথারীতি বলছেন,
তদন্ত অব্যাহত আছে।

আসামিদের
গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও প্যানেল
মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাতজনকে অপহরণ ও হত্যা মামলার এই
হলো সর্বশেষ অগ্রগতি। নজরুলের পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় র্যাবের
সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলা হয়েছে। অভিযুক্ত র্যাবের তিন কর্মকর্তাকে
সেনাবাহিনীতে ফেরত পাঠানো হলেও তদন্ত কর্মকর্তারা এখনো তাঁদের সঙ্গে কথা
বলেননি। তাঁরা বলছেন, বিষয়টি উচ্চপর্যায়ের কমিটি তদন্ত করবে।
এদিকে নূর হোসেন ও র্যাবের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলার পর নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে নজরুলের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম ওরফে শহীদ চেয়ারম্যানকে। এ পরিস্থিতিতে নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ও শ্বশুর শহীদুল ইসলাম গতকাল মঙ্গলবার জেলা পুলিশ সুপার খন্দকার মহিদ উদ্দিনের সঙ্গে দেখা করেছেন। তাঁরা শুরু থেকে এ পর্যন্ত ঘটে যাওয়া সবকিছু জানিয়েছেন পুলিশ সুপারকে। সেলিনা ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই। আমি পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করে জানিয়েছি, প্রশাসনের কোনো বাহিনীর সহায়তা ছাড়া নূর হোসেনরা এ কাজ করতে পারে না। পুলিশ সুপার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।’ গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ শহরে একটি মামলার হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহূত হন নজরুল ইসলাম, তাঁর সহযোগী তাজুল, লিটন, স্বপন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম। প্রায় একই সময়ে একই জায়গা থেকে তুলে নেওয়া হয় আইনজীবী চন্দন সরকার ও তাঁর গাড়িচালককে। ঘটনার তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল ছয়জনের এবং ১ মে আরেকজনের লাশ পাওয়া যায় শীতলক্ষ্যায়।
সেলিনা জানান, ঘটনার পরপরই তিনি মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। তবে পরদিন ফতুল্লা মডেল থানা মামলা নিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, র্যাব পরিচয়ে তাঁর স্বামীকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও কাউন্সিলর নূর হোসেন এ ঘটনার মূল হোতা। অন্য আসামিরা হলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মিয়া, নজরুলের শ্বশুরের সৎভাই ও নূর হোসেনের সহযোগী হাসমত আলী ওরফে হাসু, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রাজু, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আনোয়ার এবং বিএনপির সমর্থক ও নূর হোসেনের ভূমি ব্যবসার সহযোগী ইকবাল হোসেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, আসামিরা সবাই নূর হোসেনের ঘনিষ্ঠ এবং তাঁরা এলাকায় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, জুয়াসহ নানা কার্যকলাপে জড়িত। এলাকার একটি রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে আসামি নূর হোসেন হত্যার হুমকি দেন নজরুলকে। ঘটনার দিন একটি মামলার সাক্ষ্য দিতে গেলে নজরুলকে তুলে নিয়ে যান আসামিরা। এ ঘটনায় সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি হলেও নারায়ণগঞ্জের পুলিশ প্রশাসনকে তেমন তৎপর দেখা যায়নি। ৩ মে নূর হোসেনের বাড়িতে প্রথম অভিযান চালায় পুলিশ। পরদিন শামীম ওসমানের মামাশ্বশুরের মালিকানাধীন একটি ফ্যাক্টরি থেকে নূর হোসেনের ভাইয়ের একটি গাড়ি উদ্ধার করা হয়। দুই দিনে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয় ১৬ জনকে। তবে গত রোববার নজরুলের শ্বশুর শহীদ চেয়ারম্যান র্যাবকে দায়ী করে বক্তব্য দেওয়ার পর সরকার ও প্রশাসন কিছুটা নড়েচড়ে বসে। শহীদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ছয় কোটি টাকা নিয়ে র্যাব এ কাজ করেছে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মামলার সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা নারায়ণগঞ্জের ডিবির পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল আউয়াল বলেন, ‘তিন দিন আগে আমরা তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছি। আমরা কাজ শুরু করেছি।’ নজরুলের শ্বশুর র্যাবের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলেছেন, তা আমলে নিচ্ছেন কি না, তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে কিংবা তাঁদের মুঠোফোনের কললিস্ট চেয়েছেন কি না, জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘এসব বিষয়ে আমি কিছু বলত পারব না। আমাদের তদন্তকাজ এগিয়ে নেওয়ার জন্য ১০ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি আছে। তাদের জিজ্ঞেস করুন।’ হুমকি: নজরুলের পরিবার ও জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শহীদ চেয়ারম্যান র্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার পর থেকেই মুঠোফোনে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নজরুলের ছেলে সাইদুল ইসলাম জানান, সোমবার থেকে তাঁদের বাড়িতে ছয়জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে তাঁর বাবা ও বোন জেলা পুলিশ সুপার খন্দকার মহিদ উদ্দিনের সঙ্গে দেখা করে সবকিছু জানিয়েছেন। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা ধরে পুলিশ সুপার তাঁদের কথা শুনেছেন। শহীদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘পুলিশ সুপারকে আমি সব জানিয়েছি। আমি বলেছি, নূর হোসেনসহ আসামিদের কাছ থেকে ছয় কোটি টাকা নিয়ে র্যাব এই অপহরণ ও খুনে সহায়তা করেছে। এ ছাড়া কারা নজরুলকে হুমকি দিচ্ছিল, কার কী ভূমিকা—সব জানিয়েছি।’ পুলিশ সুপার আন্তরিকভাবে ঘটনার তদন্ত করবেন বলে তাঁকে জানিয়েছেন।
পুলিশ সুপার খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেন, ‘নজরুলের পরিবারের সব কথা শুনেছি। শহীদুল ইসলামের নিরাপত্তায় পুলিশ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা যে অভিযোগগুলো করেছেন, সবগুলো তদন্ত করছি।’
এদিকে নূর হোসেন ও র্যাবের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলার পর নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে নজরুলের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম ওরফে শহীদ চেয়ারম্যানকে। এ পরিস্থিতিতে নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ও শ্বশুর শহীদুল ইসলাম গতকাল মঙ্গলবার জেলা পুলিশ সুপার খন্দকার মহিদ উদ্দিনের সঙ্গে দেখা করেছেন। তাঁরা শুরু থেকে এ পর্যন্ত ঘটে যাওয়া সবকিছু জানিয়েছেন পুলিশ সুপারকে। সেলিনা ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই। আমি পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করে জানিয়েছি, প্রশাসনের কোনো বাহিনীর সহায়তা ছাড়া নূর হোসেনরা এ কাজ করতে পারে না। পুলিশ সুপার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন।’ গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ শহরে একটি মামলার হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহূত হন নজরুল ইসলাম, তাঁর সহযোগী তাজুল, লিটন, স্বপন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম। প্রায় একই সময়ে একই জায়গা থেকে তুলে নেওয়া হয় আইনজীবী চন্দন সরকার ও তাঁর গাড়িচালককে। ঘটনার তিন দিন পর ৩০ এপ্রিল ছয়জনের এবং ১ মে আরেকজনের লাশ পাওয়া যায় শীতলক্ষ্যায়।
সেলিনা জানান, ঘটনার পরপরই তিনি মামলা করতে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। তবে পরদিন ফতুল্লা মডেল থানা মামলা নিয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, র্যাব পরিচয়ে তাঁর স্বামীকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও কাউন্সিলর নূর হোসেন এ ঘটনার মূল হোতা। অন্য আসামিরা হলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মিয়া, নজরুলের শ্বশুরের সৎভাই ও নূর হোসেনের সহযোগী হাসমত আলী ওরফে হাসু, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রাজু, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আনোয়ার এবং বিএনপির সমর্থক ও নূর হোসেনের ভূমি ব্যবসার সহযোগী ইকবাল হোসেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, আসামিরা সবাই নূর হোসেনের ঘনিষ্ঠ এবং তাঁরা এলাকায় চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, জুয়াসহ নানা কার্যকলাপে জড়িত। এলাকার একটি রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে আসামি নূর হোসেন হত্যার হুমকি দেন নজরুলকে। ঘটনার দিন একটি মামলার সাক্ষ্য দিতে গেলে নজরুলকে তুলে নিয়ে যান আসামিরা। এ ঘটনায় সারা দেশে তোলপাড় সৃষ্টি হলেও নারায়ণগঞ্জের পুলিশ প্রশাসনকে তেমন তৎপর দেখা যায়নি। ৩ মে নূর হোসেনের বাড়িতে প্রথম অভিযান চালায় পুলিশ। পরদিন শামীম ওসমানের মামাশ্বশুরের মালিকানাধীন একটি ফ্যাক্টরি থেকে নূর হোসেনের ভাইয়ের একটি গাড়ি উদ্ধার করা হয়। দুই দিনে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয় ১৬ জনকে। তবে গত রোববার নজরুলের শ্বশুর শহীদ চেয়ারম্যান র্যাবকে দায়ী করে বক্তব্য দেওয়ার পর সরকার ও প্রশাসন কিছুটা নড়েচড়ে বসে। শহীদুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ছয় কোটি টাকা নিয়ে র্যাব এ কাজ করেছে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মামলার সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা নারায়ণগঞ্জের ডিবির পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল আউয়াল বলেন, ‘তিন দিন আগে আমরা তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছি। আমরা কাজ শুরু করেছি।’ নজরুলের শ্বশুর র্যাবের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলেছেন, তা আমলে নিচ্ছেন কি না, তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে কিংবা তাঁদের মুঠোফোনের কললিস্ট চেয়েছেন কি না, জানতে চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘এসব বিষয়ে আমি কিছু বলত পারব না। আমাদের তদন্তকাজ এগিয়ে নেওয়ার জন্য ১০ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি আছে। তাদের জিজ্ঞেস করুন।’ হুমকি: নজরুলের পরিবার ও জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শহীদ চেয়ারম্যান র্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার পর থেকেই মুঠোফোনে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নজরুলের ছেলে সাইদুল ইসলাম জানান, সোমবার থেকে তাঁদের বাড়িতে ছয়জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। গতকাল দুপুরে তাঁর বাবা ও বোন জেলা পুলিশ সুপার খন্দকার মহিদ উদ্দিনের সঙ্গে দেখা করে সবকিছু জানিয়েছেন। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা ধরে পুলিশ সুপার তাঁদের কথা শুনেছেন। শহীদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘পুলিশ সুপারকে আমি সব জানিয়েছি। আমি বলেছি, নূর হোসেনসহ আসামিদের কাছ থেকে ছয় কোটি টাকা নিয়ে র্যাব এই অপহরণ ও খুনে সহায়তা করেছে। এ ছাড়া কারা নজরুলকে হুমকি দিচ্ছিল, কার কী ভূমিকা—সব জানিয়েছি।’ পুলিশ সুপার আন্তরিকভাবে ঘটনার তদন্ত করবেন বলে তাঁকে জানিয়েছেন।
পুলিশ সুপার খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেন, ‘নজরুলের পরিবারের সব কথা শুনেছি। শহীদুল ইসলামের নিরাপত্তায় পুলিশ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা যে অভিযোগগুলো করেছেন, সবগুলো তদন্ত করছি।’
No comments:
Post a Comment