বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’ দেশের আইনশৃঙ্খলা ও বিচারব্যবস্থাকে
বিতর্কিতভাবে পৃথিবীর মানুষের সামনে তুলে ধরছে বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ
প্রশাসন।
“স্পেনে যেভাবে নিজ দেশের বিরুদ্ধে লেখানোর জন্য পঞ্চম বাহিনীকে ব্যবহার
করা হয়েছিল, বাংলাদেশেও সেই অপতৎপরতা লক্ষণীয়।” বলেছে পুলিশ প্রশাসন।
এ সংস্থাটির বরাত দিয়ে কথিত ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ সম্পর্কে পত্রিকায়
প্রকাশিত প্রতিবেদনও পুলিশ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং তীব্র প্রতিবাদ
জানিয়েছে।
রোববার বার্তা সংস্থা বাসসের এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়।
একই অভিযোগ আনা হয়েছে আরেকটি বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের
(বামাক) বিরুদ্ধেও।
পুলিশের ভাষায়, “স্পেনে যেভাবে নিজ দেশের বিরুদ্ধে লেখানোর জন্য পঞ্চম
বাহিনীকে ব্যবহার করা হয়েছিল, বাংলাদেশেও সেই অপতৎপরতা লক্ষণীয়। বিদেশি
অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন সংস্থার রিপোর্ট এদেশের আইনশৃঙ্খলা,
বিচারব্যবস্থাকে বিতর্কিতভাবে পৃথিবীর মানুষের সামনে তুলে ধরা হয়। এতে
বিদেশের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি, বিদেশি বিনিয়োগ এবং রাজনৈতিক ও
অন্যান্য ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, যা নাশকতামূলক কাজ হিসেবে
বিবেচিত।”
এ ধরনের অপপ্রচার সম্পর্কে সতর্ক থাকতে জনগণকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানোর
পাশাপাশি পুলিশের পক্ষ থেকে সাংবাদিক মহলকেও অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
রোববার পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি-মিডিয়া) মো. নজরুল
ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়।
এতে বলা হয়, “সংস্থা দুটোর বক্তব্য বাংলাদেশের বিদ্যমান আইনের পরিপন্থী,
যা আইনের শাসন এবং বিচারব্যবস্থাকেই চ্যালেঞ্জ জানানোর শামিল।”
বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশের বিভিন্ন দায়িত্ব ও কর্তব্যনিষ্ঠার উদাহরণ দিয়ে বলা
হয়, ২০১৪ সালে কর্তব্যরত অবস্থায় মারা গেছে ১০২ জন পুলিশ সদস্য। যারা
পুলিশের বা সাধারণ মানুষের প্রাণ হরণ করবে তাদের প্রতিহত করতে গিয়ে মৃত্যু
পর্যন্ত ঘটানোর আত্মরক্ষার অধিকার স্বীকৃত রয়েছে বাংলাদেশের আইনে।
“পুলিশ আত্মরক্ষার সেই অধিকার সঠিকভাবে প্রয়োগ করছে কি না, অতিরিক্ত শক্তি
প্রয়োগ করেছে কি না তা অনুসন্ধান করেন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বাধীন
নির্বাহী কমিটি। এমনকি সেটা আদালতেও বিচারযোগ্য। আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগে
পুলিশের ভূমিকা আইনানুগ কি বেআইনি; সেটা বলার এখতিয়ার রয়েছে ম্যাজিস্ট্রেট
বা আদালতের।”
শনিবার অধিকার তাদের জুলাই মাসের (১-৩১ জুলাই) মানবাধিকার প্রতিবেদন
প্রকাশ করে। যার ভিত্তিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
মানবাধিকার প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, “অধিকারের প্রাপ্ত তথ্য মতে, জুলাই
মাসে সাতজন বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিহত সাতজনই ‘ক্রসফায়ার/এনকাউন্টার/বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ
রয়েছে। এঁদের মধ্যে পাঁচজন র্যাবের হাতে এবং দুজন পুলিশের হাতে নিহত
হয়েছেন।”
পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে এ অভিযোগ অস্বীকার করে উল্লেখ করা হয়, “জুলাই মাসে
পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের কোনো ঘটনাকে ম্যাজিস্ট্রেট এবং আদালত
বিচারবহির্ভূত বলেননি। আগ বাড়িয়ে ওই এনজিও দুটি বাংলাদেশ পুলিশের ওপর
হত্যাকাণ্ডের দায়ভার চাপাচ্ছে, যা পুলিশের কাজকে বিতর্কিত করছে;
ভাবমূর্তিকে জনসমক্ষে ক্ষুণ্ণ করেছে। এটা মানহানিকর এবং ফৌজদারি অপরাধের
শামিল। আদালতের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার অধিকার কোনো এনজিওকে দেয়নি এদেশের
আইন। তাই ওই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বলে দুটি এনজিওর বক্তব্য এ দেশের আইন
এবং আদালতকে চ্যালেঞ্জ জানানোর শামিল।”
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment