৬৮
বছরের বিচ্ছিন্নতার অবসান ঘটিয়ে ভারত আর বাংলাদেশের ছিটমহলগুলো বিলীন
হয়ে গেছে আজ থেকে। ছিটমহলবাসী এখন আনন্দে মেতে আছেন। কিন্তু বিচ্ছেদের সুর
বাজছে দুই ভাই-বোনের পরিবারে। দাশিয়ারছড়ার মনোয়ারা বেগম। মেনে নিতে
পারছেন না ছোট ভাইয়ের ভারতে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত। দাশিয়ারছড়ার
মনোয়ারা বেগম আর মোজাম্মেল খন্দকার। আপন ভাই বোন। কিন্তু ছিটমহল বিনিময়ের
পর সীমান্ত তাদের আলাদা করে দিতে চলেছে। মনোয়ারা বেগম থেকে যাচ্ছেন
বাংলাদেশের কুড়িগ্রামের দাশিয়ারছড়ায়। ভাই মোজাম্মেল খন্দকার সিদ্ধান্ত
নিয়েছেন পরিবার পরিজন নিয়ে চলে যাবেন ভারতে। "আমার জন্ম এখানেই, আমাদের
সব আত্মীয়-পরিজন এখানে। মোজাম্মেল আমার আপন ছোট ভাই। ওকে আমি কোলে-পিঠে
মানুষ করেছি। কিন্তু ও ভারতে চলে যাচ্ছে," বলছিলেন মনোয়ারা বেগম। "পূর্ব
পুরুষের ভিটে ছেড়ে যাচ্ছি। সেটা তো আমার খারাপ লাগবেই। এটাই স্বাভাবিক,"
বলছিলেন মোজাম্মেল খন্দকার। জীবিকার টানে তাকে চলে যেতে হচ্ছে ভারতে।
দিল্লিতে দিনমজুরি করেন তিনি। এদিকে কাজের সুবিধে নেই। তাই সিদ্ধান্ত
নিয়েছেন ভারতে চলে যাওয়ার। ভাইকে বাংলাদেশে থেকে যাওয়ার জন্য অনেক
বুঝিয়েছেন মনোয়ারা বেগম। কিন্তু রাজী করাতে পারেন নি। বাংলাদেশে খাব কি?
আমার সংসার কেমন করে চলবে? প্রশ্ন মোজাম্মেলের। ভাইয়ের জন্য মন কাঁদে
মনোয়ারা বেগমের। ভাইয়ের কথা বলতে বলতে চোখ হয়ে উঠে অশ্রুসজল। মোজাম্মেল
অবশ্য ভারতে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে অতটা নৈরাশ্যবাদী নন। ভারত সরকার সেখানে
যাওয়া ছিটমহল বাসীদের জন্য যেসব সুযোগ-সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে
শুনেছেন, তাতে তার জীবন বদলে যাবে বলে আশা করছেন। মনোয়ারা বেগমেরও আশা,
তার ছোট ভাই যেখানেই যাক, যেন খেয়ে-পড়ে সুখে-শান্তিতে থাকতে পারে।-
বিবিসি
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment