![]() |
| আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে খাগড়াছড়িতে শোভাযাত্রা করা হয়। ছবিটি গতকাল শহরের মহিলা কলেজ সড়ক থেকে তোলা l প্রথম আলো |
নানা
আয়োজনের মধ্য দিয়ে গতকাল রোববার চট্টগ্রাম, রাঙামাটি, বান্দরবান ও
খাগড়াছড়িতে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদ্যাপিত হয়েছে। এসব আয়োজনে
আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি জানানো হয়। এদিকে বান্দরবানে
আয়োজিত কর্মসূচিতে পার্বত্য চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে ১৯ আগস্ট
জেলার সব হাটবাজার বর্জনের ডাক দিয়েছেন বক্তারা।
রাঙামাটি: সাহস ও মনোবল দিয়ে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন ও আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি আদায় করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদেশিদের আসা বন্ধ করে দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আদিবাসীদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা যাবে না।
গতকাল রাঙামাটি পৌরসভা কার্যালয় চত্বরে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের পার্বত্য অঞ্চল শাখার সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা।
আলোচনা সভায় চাকমা সার্কেলের প্রধান রাজা দেবাশীষ রায় বলেন, স্বকীয়তা, কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষা ছাড়া উন্নয়নের স্থায়িত্বশীলতা সম্ভব নয়। বড় দালান ও রাস্তাঘাট দিয়ে উন্নয়ন চিন্তা করলে হবে না।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন সাংসদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহসভাপতি ঊষাতন তালুকদার, এম এন লারমা ফাউন্ডেশনের সভাপতি বিজয় কেতন চাকমা। স্বাগত বক্তব্য দেন আদিবাসী দিবস উদ্যাপন কমিটির সদস্যসচিব ইন্টুমণি চাকমা।
আলোচনা সভা শেষে পৌরসভা প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।
চট্টগ্রাম নগর: এ দেশের নাগরিক হয়েও আদিবাসীরা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গতকাল নগরের মুসলিম ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, চট্টগ্রাম অঞ্চল এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত। সম্মানিত অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার সোমনাথ হালদার। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. মুজিবুল হক। আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাহমান নাসির উদ্দিন।
রানা দাশগুপ্ত বলেন, আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদানে সরকার আন্তরিক নয় বলে বাংলাদেশের আদিবাসীরা পরিচয়হীন। তারা এ দেশের নাগরিক হয়েও নাগরিক অধিকার ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন আদিবাসী ফোরামের চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি শরৎ জ্যোতি চাকমা। সভা শেষে শোভাযাত্রা বের করা হয়।
খাগড়াছড়ি: বেলা ১১টায় আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদ্যাপন কমিটির উদ্যোগে খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজ এলাকা থেকে শোভাযাত্রা বের করা হয়। মহাজনপাড়ার একটি কমিউনিটি সেন্টারে গিয়ে শোভাযাত্রা শেষ হয়। শোভাযাত্রা শেষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক রবিশংকর তালুকদার।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আলোচনা সভার আগে অনুমতি নেই জানিয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। এ সময় আয়োজক কমিটির নেতাদের সঙ্গে পুলিশের সামান্য বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সবুর আলী আয়োজক কমিটির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে ১৫ মিনিটের মধ্যে সভা শেষ করার নির্দেশ দেন। এরপর আয়োজকেরা মুঠোফোনে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সভার অনুমতি পান। সভাটি এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে।
বান্দরবান: সকালে জেলা শহরের রাজার মাঠ থেকে শোভাযাত্রা বের করা হয়। শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার রাজার মাঠে এসে শোভাযাত্রা শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা হয়।
আদিবাসী ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্য জলিমং মারমার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং মারমা। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য লয়েল ডেভিড বম, মানবাধিকার নেত্রী ডনাইপ্রু নেলী, বিশিষ্ট লেখক ক্যশৈপ্রু মারমা।
সভায় বক্তারা অবিলম্বে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে ১৯ আগস্ট জেলার সব হাটবাজার বর্জন করার আহ্বান জানান।
[প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম; রাঙামাটি অফিস; বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি]
রাঙামাটি: সাহস ও মনোবল দিয়ে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়ন ও আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি আদায় করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদেশিদের আসা বন্ধ করে দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে আদিবাসীদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা যাবে না।
গতকাল রাঙামাটি পৌরসভা কার্যালয় চত্বরে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের পার্বত্য অঞ্চল শাখার সভাপতি প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা।
আলোচনা সভায় চাকমা সার্কেলের প্রধান রাজা দেবাশীষ রায় বলেন, স্বকীয়তা, কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষা ছাড়া উন্নয়নের স্থায়িত্বশীলতা সম্ভব নয়। বড় দালান ও রাস্তাঘাট দিয়ে উন্নয়ন চিন্তা করলে হবে না।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন সাংসদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সহসভাপতি ঊষাতন তালুকদার, এম এন লারমা ফাউন্ডেশনের সভাপতি বিজয় কেতন চাকমা। স্বাগত বক্তব্য দেন আদিবাসী দিবস উদ্যাপন কমিটির সদস্যসচিব ইন্টুমণি চাকমা।
আলোচনা সভা শেষে পৌরসভা প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।
চট্টগ্রাম নগর: এ দেশের নাগরিক হয়েও আদিবাসীরা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গতকাল নগরের মুসলিম ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, চট্টগ্রাম অঞ্চল এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত। সম্মানিত অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার সোমনাথ হালদার। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. মুজিবুল হক। আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাহমান নাসির উদ্দিন।
রানা দাশগুপ্ত বলেন, আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদানে সরকার আন্তরিক নয় বলে বাংলাদেশের আদিবাসীরা পরিচয়হীন। তারা এ দেশের নাগরিক হয়েও নাগরিক অধিকার ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন আদিবাসী ফোরামের চট্টগ্রাম অঞ্চলের সভাপতি শরৎ জ্যোতি চাকমা। সভা শেষে শোভাযাত্রা বের করা হয়।
খাগড়াছড়ি: বেলা ১১টায় আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদ্যাপন কমিটির উদ্যোগে খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজ এলাকা থেকে শোভাযাত্রা বের করা হয়। মহাজনপাড়ার একটি কমিউনিটি সেন্টারে গিয়ে শোভাযাত্রা শেষ হয়। শোভাযাত্রা শেষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক রবিশংকর তালুকদার।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আলোচনা সভার আগে অনুমতি নেই জানিয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। এ সময় আয়োজক কমিটির নেতাদের সঙ্গে পুলিশের সামান্য বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সবুর আলী আয়োজক কমিটির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে ১৫ মিনিটের মধ্যে সভা শেষ করার নির্দেশ দেন। এরপর আয়োজকেরা মুঠোফোনে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সভার অনুমতি পান। সভাটি এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে।
বান্দরবান: সকালে জেলা শহরের রাজার মাঠ থেকে শোভাযাত্রা বের করা হয়। শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার রাজার মাঠে এসে শোভাযাত্রা শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা হয়।
আদিবাসী ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্য জলিমং মারমার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং মারমা। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য লয়েল ডেভিড বম, মানবাধিকার নেত্রী ডনাইপ্রু নেলী, বিশিষ্ট লেখক ক্যশৈপ্রু মারমা।
সভায় বক্তারা অবিলম্বে পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে ১৯ আগস্ট জেলার সব হাটবাজার বর্জন করার আহ্বান জানান।
[প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম; রাঙামাটি অফিস; বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি]

No comments:
Post a Comment