![]() |
| প্রথম আলোর চট্টগ্রাম কার্যালয়ে গতকাল অনুষ্ঠিত ‘চাক্তাই–খাতুনগঞ্জের ব্যবসার সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে আলোচকেরা -প্রথম আলো |
চাক্তাই ও খাতুনগঞ্জের সঙ্গে নদীপথে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পণ্য
পরিবহন কার্যত বন্ধ। ফলে দিন দিন জৌলুশ হারাচ্ছে দেশের বড় এই পাইকারি
বাণিজ্যকেন্দ্র। ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়কপথের পাশাপাশি এই
বাণিজ্যকেন্দ্র থেকে নৌপথেও পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি করতে হবে। গতকাল শনিবার সকালে প্রথম আলোর চট্টগ্রাম কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল
বৈঠকে ব্যবসায়ী ও বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় উঠে আসে এসব বিষয়।
‘চাক্তাই–খাতুনগঞ্জের ব্যবসার সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এ বৈঠকের আয়োজন
করে প্রথম আলো। গোলটেবিল
বৈঠক সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক বিশ্বজিৎ চৌধুরী। এতে
ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ, নগর পরিকল্পনাবিদ, প্রকৌশলী ও জনপ্রতিনিধিরা অংশ
নেন।
| মাহফুজুল হক শাহ |
বৈঠকে আলোচকেরা বলেন, জলাবদ্ধতা, যানজট, টার্মিনাল ও পর্যাপ্ত
গুদাম না থাকায় বাণিজ্যকেন্দ্রটি স্তিমিত হয়ে যাচ্ছে। এর ঐতিহ্য ফিরিয়ে
আনতে সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নিতে
হবে।
অবকাঠামোগত সংকটের পাশাপাশি গোলটেবিল বৈঠকে ব্যবসা-বাণিজ্যের নানা সমস্যা দূর করতে প্রস্তাব তুলে ধরেছেন ব্যবসায়ীরা। এসব প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে ব্যাংকঋণের সুদের হার কমিয়ে আনা, দেশের অন্য এলাকার সঙ্গে সমন্বয় করে পণ্য ওঠানো-নামানোর মাশুল নির্ধারণ, প্রাকৃতিক কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে কর রেয়াত–সুবিধা দেওয়া ইত্যাদি।
আলোচনায় ইস্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ সিকান্দর খান বলেন, ‘স্বাভাবিক যে প্রক্রিয়ায় উন্নয়ন হওয়া উচিত ছিল, তার চেয়ে ভিন্ন প্রক্রিয়ায় চলে গেছি আমরা। আজ থেকে বহু বছর আগে অধ্যাপক আবু মাহমুদ নামে আমাদের এক শিক্ষক বলেছেন, ‘‘আমাদের দেশের উন্নয়নগুলো আমাদের নদী ও জলকে অস্বীকার করে হচ্ছে।’’ ভূপ্রাকৃতিক কারণে এখানে নদী ও জলকে অস্বীকার করে উন্নয়ন হলে সেটি হবে বিকৃত উন্নয়ন।’
সিকান্দর খান আরও বলেন, ‘নদীপথগুলোকে স্বীকৃতি দিয়ে উন্নয়নের ধারা শুরু করতে পারলে খাতুনগঞ্জের সমস্যাগুলো অনেকাংশ সমাধান হয়ে যাবে। রেলপথ ও সড়কপথও করব। কিন্তু এই দুই পথের যে সীমাবদ্ধতা আছে, সেটিও মনে রাখতে হবে।’
অবকাঠামোগত সংকটের পাশাপাশি গোলটেবিল বৈঠকে ব্যবসা-বাণিজ্যের নানা সমস্যা দূর করতে প্রস্তাব তুলে ধরেছেন ব্যবসায়ীরা। এসব প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে ব্যাংকঋণের সুদের হার কমিয়ে আনা, দেশের অন্য এলাকার সঙ্গে সমন্বয় করে পণ্য ওঠানো-নামানোর মাশুল নির্ধারণ, প্রাকৃতিক কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে কর রেয়াত–সুবিধা দেওয়া ইত্যাদি।
আলোচনায় ইস্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ সিকান্দর খান বলেন, ‘স্বাভাবিক যে প্রক্রিয়ায় উন্নয়ন হওয়া উচিত ছিল, তার চেয়ে ভিন্ন প্রক্রিয়ায় চলে গেছি আমরা। আজ থেকে বহু বছর আগে অধ্যাপক আবু মাহমুদ নামে আমাদের এক শিক্ষক বলেছেন, ‘‘আমাদের দেশের উন্নয়নগুলো আমাদের নদী ও জলকে অস্বীকার করে হচ্ছে।’’ ভূপ্রাকৃতিক কারণে এখানে নদী ও জলকে অস্বীকার করে উন্নয়ন হলে সেটি হবে বিকৃত উন্নয়ন।’
সিকান্দর খান আরও বলেন, ‘নদীপথগুলোকে স্বীকৃতি দিয়ে উন্নয়নের ধারা শুরু করতে পারলে খাতুনগঞ্জের সমস্যাগুলো অনেকাংশ সমাধান হয়ে যাবে। রেলপথ ও সড়কপথও করব। কিন্তু এই দুই পথের যে সীমাবদ্ধতা আছে, সেটিও মনে রাখতে হবে।’
| মুহাম্মদ সিকান্দার খান |
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের
গুরুত্ব তুলে ধরে বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, শত বছরের ঐতিহ্যবাহী
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ থেকে এখনো ভোগ্যপণ্যের বড় অংশ সারা দেশে সরবরাহ করা
হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময়ে এখানে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। ফলে ব্যবসায়ীরা
প্রতিনিয়ত নানা বাধার মুখে পড়ছেন।
চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, ভেজালে খবর পেলে কিংবা পণ্যের দাম বাড়লে দ্রুততার সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু ব্যবসায়ীদের সমস্যার সমাধান দ্রুত হয় না, তখন সময়ক্ষেপণ করা হয়। ব্যবসা-বাণিজ্যের কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, খেলাপি ঋণের বিরুদ্ধে পত্রিকাগুলো সব সময় লেখে। কিন্তু তাঁরা কেন খেলাপি হয়েছেন, সেই বিষয় তুলে ধরে না। অব্যবসায়ীদেরই নির্বিচারে ঋণ দিয়েছে ব্যাংকগুলো। আর্থিক প্রতিষ্ঠান অব্যবসায়ীদের সক্ষমতা যাচাই না করে ঋণ দিয়েছে। এর ফলে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ বলেন, ভেজালে খবর পেলে কিংবা পণ্যের দাম বাড়লে দ্রুততার সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু ব্যবসায়ীদের সমস্যার সমাধান দ্রুত হয় না, তখন সময়ক্ষেপণ করা হয়। ব্যবসা-বাণিজ্যের কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, খেলাপি ঋণের বিরুদ্ধে পত্রিকাগুলো সব সময় লেখে। কিন্তু তাঁরা কেন খেলাপি হয়েছেন, সেই বিষয় তুলে ধরে না। অব্যবসায়ীদেরই নির্বিচারে ঋণ দিয়েছে ব্যাংকগুলো। আর্থিক প্রতিষ্ঠান অব্যবসায়ীদের সক্ষমতা যাচাই না করে ঋণ দিয়েছে। এর ফলে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
| আবুল বশর চৌধুরী |
চট্টগ্রাম
মেট্রোপলিটন চেম্বারের পরিচালক ও বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর
চৌধুরী বলেন, ২০ থেকে ২৫ বছর আগে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ ও আছদগঞ্জ থেকে সারা
দেশের ৯০ শতাংশ আমদানি পণ্যের ব্যবসা পরিচালনা হতো। বর্তমানে তা ৪০ থেকে ৪৫
শতাংশে নেমে এসেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই বাণিজ্যকেন্দ্রের অবকাঠামোগত
সুযোগ-সুবিধার প্রসার না হওয়াই এর মূল কারণ। তিনি আরও বলেন, দেশের অনান্য
স্থানের তুলনায় চট্টগ্রামে পণ্য পরিবহন খরচ বেশি। বিশেষ করে পণ্য
ওঠানো-নামানোর খরচ সারা দেশের চেয়ে চট্টগ্রামে তিন গুণ বেশি। আবার
জোয়ারসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হন চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের
ব্যবসায়ীরা। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তাঁরা কর রেয়াত–সুবিধা পান না। এ
বিষয়গুলোর প্রতি নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।খাতুনগঞ্জ
ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ছগীর
আহমেদ বলেন, ২০০৭ সালে এবং এবার জোয়ারের জলাবদ্ধতায় খাতুনগঞ্জের
ব্যবসায়ীরা শত কোটি টাকার ক্ষতি গুেনছেন। এ ব্যাপারে কোনো সরকার পদক্ষেপ
নেয়নি। এই বাণিজ্যকেন্দ্র রক্ষা করতে হলে কর্ণফুলী নদীর তীর রক্ষা বাঁধ
নির্মাণ, শাখা খাল সংস্কার ও নতুন খাল খননের উদ্যোগ নিতে হবে।
| ওমর আজম |
চাক্তাই
চাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর আজম বলেন, কর্ণফুলী নদীর পাড়ে
খাসজমি পরিত্যক্ত হিসেবে পড়ে আছে। এসব জায়গায় ট্রাক টার্মিনাল গড়ে তোলা
দরকার।
অবকাঠামোগত সুবিধার বাইরে ব্যবসা-বাণিজ্যের সাম্প্রতিক হালচাল তুলে ধরে মেট্রোপলিটন চেম্বারের পরিচালক নুরুল আলম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় স্থানীয় বাজারে কোনো পণ্যের দাম বাড়লে সবাই আমদানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এ সুযোগে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও পণ্য আমদানিতে অর্থায়ন করছে বাছবিচার ছাড়াই। ফলে ব্যাংকের এই টাকা পরিশোধ না করে অনেকেই বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। এই টাকা আসলে জনগণের টাকা।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক আলমগীর পারভেজ বলেন, চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে ব্যবসা-বাণিজ্যে এখন মন্দাবস্থা চলছে। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ থেকে অনেকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গুটিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু ঐতিহ্যের কারণে তাঁরা খাতুনগঞ্জের প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ থেকে নৌপথে যোগাযোগও স্তিমিত হয়ে পড়েছে।
অবকাঠামোগত সুবিধার বাইরে ব্যবসা-বাণিজ্যের সাম্প্রতিক হালচাল তুলে ধরে মেট্রোপলিটন চেম্বারের পরিচালক নুরুল আলম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় স্থানীয় বাজারে কোনো পণ্যের দাম বাড়লে সবাই আমদানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এ সুযোগে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোও পণ্য আমদানিতে অর্থায়ন করছে বাছবিচার ছাড়াই। ফলে ব্যাংকের এই টাকা পরিশোধ না করে অনেকেই বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। এই টাকা আসলে জনগণের টাকা।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক আলমগীর পারভেজ বলেন, চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে ব্যবসা-বাণিজ্যে এখন মন্দাবস্থা চলছে। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ থেকে অনেকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গুটিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু ঐতিহ্যের কারণে তাঁরা খাতুনগঞ্জের প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ থেকে নৌপথে যোগাযোগও স্তিমিত হয়ে পড়েছে।
| আলী আশরাফ |
চাক্তাই শিল্প ও ব্যবসায়ী
সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ জামাল হোসেন বলেন, ‘সিটি করপোরেশন শুধু
ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করে। সেবা বলতে শুধু এই একটি কাগজ। কিন্তু সিটি
করপোরেশন আমাদের কোনো সেবা দেয় না।’ অবকাঠামোর পাশাপাশি ব্যবসার চিত্র
তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, বৈধভাবে মসলা আমদানির পরিমাণ কমেছে। অবৈধভাবে
স্থলপথে দেশে মসলা ঢুকছে। ফলে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, বৈধ ব্যবসায়ীরা
বঞ্চিত হচ্ছেন।
সচেতন নাগরিক কমিটি চট্টগ্রামের সভাপতি প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ এলাকার ব্যবসার অন্যতম সমস্যা হচ্ছে জলাবদ্ধতা। বিভিন্ন কারণে এই সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এর কারণগুলো হচ্ছে নালা-খালগুলো দখল হয়ে যাওয়া। অনেক জায়গায় প্রকৌশলজনিত ত্রুটি রয়েছে। এ ছাড়া নগরবাসী নালা-খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভরাট করে ফেলছে। তিনি আরও বলেন, জলাবদ্ধতার সমস্যা নিরসনের জন্য শুধু কর্ণফুলী নদী খনন করলে হবে না, পাশাপাশি খালগুলোর মুখ সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের জলাবদ্ধতার সমস্যা দূর করতে চাক্তাই ও রাজাখালী খালের মুখে জলকপাট (স্লুইসগেট) স্থাপন করতে হবে।
সচেতন নাগরিক কমিটি চট্টগ্রামের সভাপতি প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ এলাকার ব্যবসার অন্যতম সমস্যা হচ্ছে জলাবদ্ধতা। বিভিন্ন কারণে এই সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। এর কারণগুলো হচ্ছে নালা-খালগুলো দখল হয়ে যাওয়া। অনেক জায়গায় প্রকৌশলজনিত ত্রুটি রয়েছে। এ ছাড়া নগরবাসী নালা-খালে ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভরাট করে ফেলছে। তিনি আরও বলেন, জলাবদ্ধতার সমস্যা নিরসনের জন্য শুধু কর্ণফুলী নদী খনন করলে হবে না, পাশাপাশি খালগুলোর মুখ সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের জলাবদ্ধতার সমস্যা দূর করতে চাক্তাই ও রাজাখালী খালের মুখে জলকপাট (স্লুইসগেট) স্থাপন করতে হবে।
| সৈয়দ ছগীর আহমেদ |
বাংলাদেশ
প্ল্যানার্স ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের সভাপতি আলী আশরাফ বলেন,
১৯৯৫ সালের মহাপরিকল্পনা ২০ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি। এ জন্য জনপ্রতিনিধি,
সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও আমলাদের বিচার হওয়া উচিত। কেননা, জনপ্রতিনিধিদের
উচিত ছিল এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সংসদে প্রস্তাব উত্থাপন করা এবং
মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প পাঠানো। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের উচিত ছিল
জনপ্রতিনিধিদের এসব প্রকল্পের ব্যাপারে অবগত করা। আর আমলাদের দায়িত্ব ছিল
প্রকল্প অনুমোদনে কার্যকর ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া। কিন্তু কেউ তাঁদের
দায়িত্ব পালন করেননি।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ এলাকার যানজট নিরসনে কালুরঘাট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মিত না হওয়াকে দায়ী করেন আলী আশরাফ। তিনি বলেন, ১৯৬১ সাল থেকে প্রধান অগ্রাধিকার ছিল এই সড়ক নির্মাণ করা। এর মধ্যে অনেক সড়ক তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু এই সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এই সড়ক নির্মাণে উদ্যোগ নিতে হবে। বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে চট্টগ্রামের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন আলী আশরাফ। তিনি বলেন, পৃথক পৃথক মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সরকারি সংস্থাগুলো নিজের মতো কাজ করে যাচ্ছে। এই সমস্যা দূর করতে হলে নগর সরকার দরকার। সিডিএ কিংবা সিটি করপোরেশনকে সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্ব দিতে হবে।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ এলাকার যানজট নিরসনে কালুরঘাট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সংযোগ সড়ক নির্মিত না হওয়াকে দায়ী করেন আলী আশরাফ। তিনি বলেন, ১৯৬১ সাল থেকে প্রধান অগ্রাধিকার ছিল এই সড়ক নির্মাণ করা। এর মধ্যে অনেক সড়ক তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু এই সড়ক নির্মাণ করা হয়নি। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এই সড়ক নির্মাণে উদ্যোগ নিতে হবে। বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে চট্টগ্রামের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন আলী আশরাফ। তিনি বলেন, পৃথক পৃথক মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সরকারি সংস্থাগুলো নিজের মতো কাজ করে যাচ্ছে। এই সমস্যা দূর করতে হলে নগর সরকার দরকার। সিডিএ কিংবা সিটি করপোরেশনকে সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্ব দিতে হবে।
| লুৎফুন্নেছা দোভাষ |
সিটি
করপোরেশনের সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর লুৎফুন্নেছা দোভাষ বলেন, বাংলাদেশের
ব্যবসার প্রাণকেন্দ্র হচ্ছে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ। বিকল্প খাল খনন না করলে এই
এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন হবে না। এই এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট
সবাইকে আন্তরিক হতে হবে। সিটি করপোরেশনের মেয়রসহ জনপ্রতিনিধিরা এ ব্যাপারে
আন্তরিক।
চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের ঐতিহ্য ফেরাতে ১০ সুপারিশ
: নৌপথে বাণিজ্য পুনরুদ্ধার ও সম্প্রারণের জন্য কর্ণফুলী নদী কার্যকরভাবে খনন এবং চাক্তাই খালসহ শাখা খালগুলো নৌযান চলাচলের উপযোগী করে তোলা
: খাতুনগঞ্জের দক্ষিণে পাথরঘাটা, আশরাফ আলী সড়ক, উত্তরে দেওয়ান বাজার, পূর্বে শাহ আমানত সেতু পর্যন্ত বাণিজ্যিক অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা
: জলাবদ্ধতা নিরসনে চাক্তাই-রাজাখালী খালের মুখে জলকপাট (স্লুইসগেট) নির্মাণ ও দ্রুত সময়ের মধ্যে বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত নতুন খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন
: মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী নগরের বিপ্লব উদ্যান থেকে বহদ্দারহাট পর্যন্ত নতুন খাল খনন
: ব্যাংকঋণের সুদের হার এক অঙ্কের ঘরে নিয়ে আসা
: কর্ণফুলী নদীর তীরে চাক্তাই এলাকায় সরকারি খাসজমিতে ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ
: বিদ্যুৎ, সড়ক, গ্যাসের সংযোগসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া
: চাক্তাই খাল খনন ও সংস্কারে বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন
: কর্ণফুলী নদীর তীর দিয়ে সদরঘাট থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ ও নৌঘাট চালু
: আরএস জরিপ অনুযায়ী চাক্তাই খালকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা
: নৌপথে বাণিজ্য পুনরুদ্ধার ও সম্প্রারণের জন্য কর্ণফুলী নদী কার্যকরভাবে খনন এবং চাক্তাই খালসহ শাখা খালগুলো নৌযান চলাচলের উপযোগী করে তোলা
: খাতুনগঞ্জের দক্ষিণে পাথরঘাটা, আশরাফ আলী সড়ক, উত্তরে দেওয়ান বাজার, পূর্বে শাহ আমানত সেতু পর্যন্ত বাণিজ্যিক অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা
: জলাবদ্ধতা নিরসনে চাক্তাই-রাজাখালী খালের মুখে জলকপাট (স্লুইসগেট) নির্মাণ ও দ্রুত সময়ের মধ্যে বারইপাড়া থেকে কর্ণফুলী নদী পর্যন্ত নতুন খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন
: মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী নগরের বিপ্লব উদ্যান থেকে বহদ্দারহাট পর্যন্ত নতুন খাল খনন
: ব্যাংকঋণের সুদের হার এক অঙ্কের ঘরে নিয়ে আসা
: কর্ণফুলী নদীর তীরে চাক্তাই এলাকায় সরকারি খাসজমিতে ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ
: বিদ্যুৎ, সড়ক, গ্যাসের সংযোগসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া
: চাক্তাই খাল খনন ও সংস্কারে বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন
: কর্ণফুলী নদীর তীর দিয়ে সদরঘাট থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ নির্মাণ ও নৌঘাট চালু
: আরএস জরিপ অনুযায়ী চাক্তাই খালকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা

No comments:
Post a Comment