বাংলাদেশের
যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের সমালোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিমারা
সরব থাকলেও ভারত মনে করে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে সংঘটিত ভয়ঙ্কর সহিংসতার জন্য
দায়ীদের বিচারের আওতায় এনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভীষণ সাহসিকতা
দেখিয়েছেন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়। এতে আরও বলা হয়,
যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আপত্তি সত্ত্বেও
বাংলাদেশ গত সপ্তাহে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দুই বিরোধী রাজনীতিক আলি আহসান
মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ফাঁসি কার্যকর করে। এ ঘটনায়
পাকিস্তান উদ্বেগ ও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে। যুদ্ধাপরাধের ‘ত্রুটিপূর্ণ
বিচারের’ও সমালোচনা করে দেশটি।এ মৃত্যুদণ্ডের বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক ও
বহুপক্ষীয় কোন ফোরামে তোলা হলেও বাংলাদেশের পক্ষেই থাকবে ভারত। বাংলাদেশে
ক্রমবর্ধমান উগ্রপন্থা মোকাবিলায় অনেক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কিন্তু এটাও
জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রাপ্ত সর্বশেষ গোয়েন্দা
প্রতিবেদনে দেশে আইএস-এর কোন ঘাঁটির উপস্থিতির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মতে, যে উগ্রপন্থার কারণে বিদেশীদের ওপর মারাত্মক
আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে, তা বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গেই বেশি
মানায়।বাংলাদেশে আঞ্চলিক প্রধান নিয়োগের যে ঘোষণা সম্প্রতি আইএস দিয়েছে,
তার প্রেক্ষাপটে এটি গুরুত্বপূর্ণ। নিজেদের অনলাইন ম্যাগাজিন দাবিকে’র
সর্বশেষ সংস্করণে আইএস লিখেছে, বেঙ্গলে খিলাফতের সৈন্যরা খলিফা ইব্রাহিমের
(আবু বকর আল বাগদাদি) প্রতি নিজেদের আনুগত্য ঘোষণা করেছে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে
একজন আঞ্চলিক নেতাও বেছে নিয়েছে। ওই নেতার পেছনে সম্মিলিত হয়ে নিজেদের
সাবেক সংগঠন বিলুপ্ত করেছে। দাবিকে’র ওই লেখায় বাংলাদেশে আইএস-এর উপস্থিতি
অস্বীকার করায় বাংলাদেশ সরকারের সমালোচনাও করা হয়েছে।ভারতীয় কর্মকর্তারা
আত্মবিশ্বাসী যে, ফাঁসির ঘটনার ফলে দীর্ঘমেয়াদে কোন নেতিবাচক নিরাপত্তা
বিচ্যুতি সৃষ্টি হবে না। কেননা, প্রতিবেশী দেশটিতে (বাংলাদেশে) বেশিরভাগ
মানুষই এ ধরনের শাস্তিই প্রত্যাশা করেছিল। ভারতের মতে, ওই দণ্ডপ্রাপ্তরা
ধর্ষণকেও যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছিল।জামায়াতের ডাকা প্রতিবাদ
কর্মসূচির মুখে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ সরকারের সামর্থ্য
সম্পর্কেও ভারত আত্মবিশ্বাসী। সম্প্রতি মার্কিন হাউস ফরেইন অ্যাফেয়ার্স
কমিটি বলেছে, সহিংসতা, ভয় ও আত্ম-সেন্সরশিপের বর্ধিষ্ণু পরিবেশে বাংলাদেশের
গণতান্ত্রিক পরিবেশ সঙ্কুচিত হচ্ছে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment