চট্টগ্রামে এক কোটি টাকার টেন্ডারের কাজ নিয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে শিশুসহ দুইজনকে গুলি করে মারার ঘটনায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের দুই নেতাসহ ৬২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে তদন্ত কর্মকর্তা। দীর্ঘ আড়াই বছর চাপা থাকার পর গতকাল আদালতে এ চার্জশিট জমা দেয়া হলো। যার মধ্যে গত ৩ মাস ধরে অস্ত্রহাতে দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির নেতৃত্ব দেয়া যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর ও ছাত্রলীগনেতা সাইফুল আলম লিমনের নাম রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০১৩ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রামের রেলওয়ে যা সিআরবি বলে পরিচিত, সেখানে শিশু আরমান ও সাজু পালিত (২৮) নামের জনৈক দুইজন নিহত হয়। এদের মধ্যে আরমান রাস্তার ধারে খেলছিলো। অন্যদিকে সাজু ঘটনা পর্যবেক্ষণ করতে সেখানে যান।এমন সময় বিবদমান দুটি গ্রুপ অস্ত্রহাতে সেখানে জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পিস্তল হাতে দুই গ্রুপের কর্মীরা একে অপরকে গুলি ছুঁড়লে মারা যায় আরমান ও সাজু।মামলার চার্জশিটে দেখা যায়, তদন্ত কর্মকর্তার নাম আতিক আহমেদ চৌধুরী। তিনি নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক। আসামি করা হয়েছে ৬২ জনকে। এক নম্বরে রয়েছে হেলাল আকবর চৌধুরীর নাম। দুই নম্বরে রয়েছে লিমনের। সাক্ষী করা হয়েছে ৩৭ জনকে।যার মধ্যে রয়েছেন কোতয়ালী থানার এসআই, রেলওয়ের ম্যানেজার, টেন্ডার কমিটির আহ্বায়ক, স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ১০ ব্যক্তি, শিশু আরমানের বাবা, খালা, মা, সাজু পালিতের বোন ও মাসহ অনেককে। তবে ৮৭ জন আসামির মধ্যে ২৫ জনকে ঘটনা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।এর বাইরে অবশ্য শাহ আলম নামের পুলিশের তালিকাভুক্ত এক সন্ত্রাসীকে আসামি করা হয়েছে। পুরো ঘটনার চার্জশিটে ভিডিও ফুটেজ দেখে আসামিদের শনাক্ত করা হয়েছে।তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এদের মধ্যে অনেকে জামিন নিয়ে পালিয়ে আছেন। যাদের সংখ্যা ২০ জনের বেশি। এর বাইরে অমিত ও শিমুল নামের দুই নেতা বর্তমানে কারাগারে আছেন।এ বিষয়ে মানবজমিনের সঙ্গে কথা বলেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আতিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, চার্জশিট চূড়ান্ত করতে আমরা একাধিকবার ঘটনাস্থলে গিয়েছি। তাছাড়া একজন শিশুসহ দুইজন মারা গেছে। তাদের পরিবারের লোকজনের বক্তব্য শুনেছি। যারা মারামারিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন এই ব্যাপারে তাদের ছবি ও ফুটেজও আমরা সংগ্রহ করেছি। আদালতে অভিযোগপত্রটি জমা দেয়া হয়েছে সোমবার।তবে মামলায় অভিযুক্ত আসামি বাবর বলেন, ‘এই ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত না। কারণ, আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। লিমন উঠতি সন্ত্রাসী। সে টাইগারপাস এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করতে চায়। তাকে প্রতিহত করতে লোকজন জড়ো হয়েছিল সেদিন রেলওয়েতে। সেখানে গুলি ছুঁড়লে দুইজন মারা যায়।’অন্যদিকে লিমন বলেন, রেলওয়ের আশপাশ ও সিআরবি এলাকায় মাদক ব্যবসা জমজমাট। এলাকার তরুণরা বিপথে চলে যাচ্ছে। এসবের নেতৃত্ব দিচ্ছে বাবর। সে পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী। যে ঘটনার কথা বলা হচ্ছে সেখানে আমার জড়িত থাকার বিষয়টি হাস্যকর। আমার নাম যদি আসে তা হবে রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করার চেষ্টা।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment