Saturday, November 28, 2015

৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবীদের ফিরিয়ে নেবে অস্ট্রেলিয়া

নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে স্বেচ্ছাসেবী কর্মীদের ফিরিয়ে নেবে অস্ট্রেলিয়া। বৃহস্পতিবার বগুড়ায় শিয়া মসজিদে হামলার ঘটনায় গতকাল আইএসের দায় স্বীকারের পর দেশটির পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনার উল্লেখ করে নতুন করে বাংলাদেশে ভ্রমণরত নিজ দেশের নাগরিকদের জন্য সতর্কতা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। গতকাল অস্ট্রেলিয়া সরকারের ডিপার্টমেন্ট অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ট্রেডের ওয়েবসাইট স্মার্ট ট্রাভেলার ডটগভডটএইউ-তে বাংলাদেশে ভ্রমণসংক্রান্ত সতর্কতা হালনাগাদ করা হয়। এতে বলা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়া সরকার বাংলাদেশে অবস্থানরত কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিবর্গের স্বেচ্ছায় অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। এছাড়া, ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ান সরকারের অর্থায়নে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবীদের প্রত্যাহার করে নেয়া হবে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় একটি শিয়া মসজিদে হামলার দায় ২৭শে নভেম্বর স্বীকার করেছে আইএস। অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, পরামর্শের মাত্রা পরিবর্তিত হয়নি। বাংলাদেশে উচ্চমাত্রার সতর্কতা চর্চা করা উচিত। এছাড়া, বাংলাদেশ সেকশনের সারসংক্ষেপে বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলার উচ্চ ঝুঁকি এবং অনিশ্চিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকদের উচ্চ মাত্রার সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয়া আছে। বলা হয়েছে, সব সময় ব্যক্তিগত নিরাপত্তায় নিবিড় মনোযোগ দিন। সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়ে গণমাধ্যম ও অন্যান্য সূত্র পর্যবেক্ষণ করুন। এতে বলা হয়, সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশে সংঘটিত কয়েকটি হামলার দায় স্বীকার করেছে আইসিল। এর মধ্যে কয়েকটি হামলা করা হয় বিদেশীদের টার্গেট করে। সন্ত্রাসী ঝুঁকির কারণে বাংলাদেশে অবস্থানরত অস্ট্রেলিয়ান কর্মকর্তাদের রাতে চলাফেরা পরিহার করতে বলা হয়েছে। বার, হোটেল এবং বিদেশিদের যাওয়া আসা আছে এমন অনুষ্ঠান ও স্থানে যাওয়া আসা সীমিত রাখতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ঢাকায় চলাফেরার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র গাড়ি ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। সকল অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকের একই নিরাপত্তা সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয়া হয়। রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বলা আছে, বাংলাদেশে নিয়মিত রাজনৈতিক সহিংসতা হয়ে থাকে। বিরোধী পক্ষগুলোর ডাকা হরতাল, অবরোধ এবং যুদ্ধাপরাধ বিচার চলাকালীন বিশেষ করে সতর্কতা অবলম্বন করুন। কেননা, এসব ঘটনায় সহিংস প্রতিক্রিয়ার সূত্রপাত ঘটতে পারে। ঢাকায় সফরকারী অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকদের বলা হয়, তাদের উচিত স্থানীয় কর্তৃপক্ষগুলোর নিদের্শনা অনুসরণ করা। সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরার পরিকল্পনা করা এবং সকল ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচি এবং বড় জমায়েত এড়িয়ে চলা। কেননা, এগুলো হঠাৎ করেই সহিংস রূপ নিতে পারে। ঢাকার বনানী, বারিধারা ও গুলশানসহ বাংলাদেশে অপরাধ কর্ম এবং সশস্ত্র ডাকাতি, ছিনতাই সাধারণ ঘটনা। এসব এলাকায় বসবাসরত অভিবাসীরা ডাকাতি, ছিনতাই, পকেটমারের শিকার হয়েছে। টেরোরিজম বা সন্ত্রাসবাদ অনুচ্ছেদে বলা আছে, বাংলাদেশ অতীতে বেশ সন্ত্রাসী ঘটনার শিকার হয়েছে। আর দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলো নিয়মিত জঙ্গি ও সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করছে। এসব গ্রুপের কয়েকটি পশ্চিমা বিরোধী মনোভাব পোষণ করে। পশ্চিমা স্বার্থবিরোধীসহ আরও হামলার ঝুঁকি রয়েছে। একই অনুচ্ছেদে পরশু বগুড়ায় শিয়া মসজিদে হামলার বিষয়টি সংযোজন করা হয়েছে। এছাড়া বিদেশীদের ওপর হামলার সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো এবং লেখক, ব্লগার, প্রকাশকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার কথা উল্লেখ করা আছে। ‘অস্ট্রেলিয়ান সরকারের কর্মী, তাদের ওপর নির্ভরশীর এবং স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য পরামর্শ’ শীর্ষক অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, অনিশ্চিত নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং অব্যাহত নিরাপত্তা সীমাবদ্ধতার প্রভাবের কারণে অস্ট্রেলিয়ান সরকার বেশকিছু অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ বছর নভেম্বরের শেষের দিকে, অস্ট্রেলিয়ান সরকার নিয়োজিত অস্ট্রেলিয়ান কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের স্বেচ্ছায় অস্ট্রেলিয়া ফিরে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে। এছাড়া আমরা ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া সরকারের অর্থায়নে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকদের ফিরিয়ে নেবো। কেননা, তাদের জন্য দায়িত্ব পালন ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।উল্লেখ্য, ঢাকার ইতালিয়ান নাগরিক তাভেলা সিজার ও রংপুরে জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও হত্যাকাণ্ডের পর নিজ দেশের নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণের ওপর সতর্কতা জারি করে অস্ট্রেলিয়া। দেশটি ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর স্থগিত করা হয়। যদিও দেশটির ফুটবল দল বাংলাদেশ সফর করে গেছে সম্প্রতি।

No comments:

Post a Comment