স্বাধীন-সার্বভৌম
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পাকিস্তানের হস্তক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে
সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১। এইসঙ্গে সংগঠনটি সালাউদ্দিন কাদের
চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের ফাঁসি নিয়ে পাকিস্তানের মন্তব্যের
প্রতিবাদ জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস
ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।
এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফোরামের চেয়ারম্যান কেএম সফিউল্লাহ। তিনি বলেন,
দায়বদ্ধতার বিষয়টি সম্পূর্ণ এড়িয়ে গিয়ে একটি রাষ্ট্র এবং কয়েকটি
আন্তর্জাতিক সংগঠন যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা নানা ধরনের
বিভ্রান্তি ছড়িয়ে এই বিচার প্রক্রিয়াকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এর মধ্যে অন্যতম উল্লেখ
করে তিনি বলেন, আমরা এসব বিভ্রান্তিমূলক ও উদ্দেশ্যমূলক প্রচারণার প্রতিবাদ
জানাই। এই সংগঠনগুলো বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের লাখো শহীদ, ক্ষতিগ্রস্ত
ব্যক্তি ও পরিবারের বিরুদ্ধে বিংশ শতাব্দীর যে নিষ্ঠুরতম হত্যাযজ্ঞ এবং
নারী নির্যাতন ঘটেছে, তাকেও অস্বীকার করার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে। সংবাদ
সম্মেলনে বলা হয়, পাকিস্তান সরকার আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক রীতিনীতি লঙ্ঘন
করে সাকা ও মুজাহিদের পক্ষ নিয়ে ফাঁসির রায় কার্যকরের পর ‘গভীর উদ্বেগ ও
ক্ষোভ’ প্রকাশ করেছে। পাকিস্তান সরকারের এই ধরনের বিবৃতি ও বক্তব্য
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপের শামিল, কাজেই তা
সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য ও নিন্দনীয়। এটি শুধু মুক্তিযুদ্ধ নয়, দেশের
শীর্ষ আদালতের রায়ের প্রতি চরম অশ্রদ্ধা প্রকাশ। পাকিস্তানের এ ধরনের
হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারকে প্রতিবাদ জানাতে আহ্বান জানায়
সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম। এছাড়া পাকিস্তানের চিহ্নিত ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর
বিচার শুরুর বিষয়ে তাগিদ দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষ
নেওয়ায় বিএনপির সমালোচনা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বিচারের নানা আইনগত দিক
তুলে ধরেন সংগঠনের আইনবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান শওকত। এছাড়া উপস্থিত
ছিলেন সংগঠনের মহাসচিব ও লেখক-সাংবাদিক হারুন হাবিব, সিনিয়র ভাইস
প্রেসিডেন্ট এম হারুন অর রশিদ, সহ-সভাপতি মো. নুরুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক
একে মোহাম্মদ আলী শিকদার প্রমুখ।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment