Monday, November 23, 2015

কুড়িগ্রাম ও নীলফামারী সীমান্ত দিয়ে ভারতে গেলেন ১২০ বিলুপ্ত ছিটবাসী

বিলুপ্ত ছিটমহলের ১২০ জন গতকাল বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে গেছেন। কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ৭২ জন এবং নীলফামারীর চিলহাটি সীমান্ত দিয়ে ৪৮ জনসহ মোট ১২০ জন ছিটবাসী ভারতে গেছেন।
কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা জানান, গতকাল দ্বিতীয় দফায় ভারত গেলেন কুড়িগ্রামের সদ্য বিলুপ্ত ১২টি ছিটমহলের মধ্যে দুইটি ছিটমহলের ১৫ পরিবারের ৭২ জন বাসিন্দা। এর মধ্যে ফুলবাড়ী উপজেলার ১০টি পরিবারের ৪৯ জন ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাঁচটি পরিবারের ২৩ জন। ভুরুঙ্গামারী উপজেলার বাগভণ্ডার সীমান্তের অস্থায়ী চেক পয়েন্টের মাধ্যমে ভারতে প্রবেশ করেন।
এ সময় বাংলাদেশের পক্ষে কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো: রফিকুল ইসলাম সেলিম, ৪৫ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন কুড়িগ্রামের পরিচালক লে. কর্নেল মো: জাকির হোসেন, ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন মাহমুদ ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন ভূঁইয়াসহ জেলা প্রশাসনের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কুড়িগ্রাম জেলার বিলুপ্ত ১২টি ছিটমহলের মধ্যে শুধ দু’টি ছিটমহলের ৬৬ পরিবারের ২৬৫ জন বাসিন্দা ভারতে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। এর মধ্যে প্রথম দফায় গতকাল ভারত গেলেন ফুলবাড়ী উপজেলার দাসিয়ার ছড়ার ১০ পরিবারের ৪৯ জন ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলার গাড়োলঝাড়া সাবেক ছিটের পাঁচটি পরিবারের ২৩ জন। দ্বিতীয় দফায় আগামীকাল ভারতে যাবেন দাসিয়ারছড়ার ৩০ পরিবারের ১১৫ জন ও তৃতীয় দফায় আগামী ২৬ নভেম্বর ভারত যাবেন দাসিয়ারছড়ার ২৭ পরিবারের ৭৮ জন।
ফুলবাড়ী উপজেলার বিলুপ্ত দাসিয়ারছড়া ছিটের বাসিন্দা লক্ষ্মী রানী জানান, আমার দুই ছেলে, ছেলের বউ এবং নাতি-নাতনীসহ ১০ জন ভারতে যাচ্ছি। যেতে খুব খারাপ লাগছে; কিন্তু উপায় নেই। আমার কিছু আত্মীয়স্বজন ভারতে থাকায় সেখানে যেতে হচ্ছে।
একই ছিটের বাসিন্দা সামছুল হক জানান, আমরা একই পরিবারের ৯ জন ভারতে যাচ্ছি। আরো চার ভাইসহ বাবা-মা বাংলাদেশে থাকবে। জন্মভূমি ছেড়ে যেতে খুবই খারাপ লাগছে।
কুড়িগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো: রফিকুল ইসলাম জানান, জেলার ১২টি ছিটমহল থেকে ৩০৫ জন ভারতের নাগরিকত্ব নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলে শেষ পর্যন্ত ২৬৫ জন ভারতে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বিলুপ্ত ছিটের বাসিন্দারা ভালোভাবে যাতে ভারতে যেতে পারেন তার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
নীলফামারী সংবাদদাতা জানান, নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটি-হলদিবাড়ী চেকপোস্ট দিয়ে গতকাল পঞ্চগড়ের বিলপ্ত ছিটমহলের ভারতের নাগরিকতা গ্রহণকারী পরিবারগুলোর মধ্যে প্রথম দফায় ১৫টি পরিবারের শিশুসহ মোট ৪৮ জন সদস্য ভারতে গেছেন।
বেলা ৩টায় আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের নীলফামারী জেলা প্রশাসনের পক্ষে থেকে তাদের ভারতীয় হলদিবাড়ী জেলা কুচবিহারের এ ডি এম আয়শা রানী ও এস ডি এম রঞ্জন ঝাঁসহ ভারতীয় ৫৮-বিএসএফের হাতে তুলে দেয়া হয়। ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ডাঙ্গপাড়া বিজিবি ক্যাম্পের মেইন পিলার ৭৮২-সংলগ্ন সদ্য নির্মিত মাটির রাস্তা দিয়ে মালপত্রসহ তারা ভারতে গেলেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ৫৬ -বিজিবির অধিনায়ক লে. ক. জি.এম সারওয়ার হোসেন, নীলফামারীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মজিবর রহমান, ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবিহা সুলতানা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) হুমায়ুন হাফিজ প্রমুখ।
সূত্র মতে ভারতের নাগরিকতা গ্রহণকারী বিলুপ্ত ছিটমহলের নাগরিকদের চার দফায় চিলাহাটি-হলদিবাড়ী চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে পাঠানো হবে। এতে পঞ্চগড় জেলাধীন অবলুপ্ত ৩৬টি ছিটমহলের মধ্যে ১১টি ছিটমহলের ৯৯টি পরিবারের ৪৮৭ জন সদস্য ভারতে যাবেন। দ্বিতীয় দফা ২৩ নভেম্বর কোট ভাজনী ছিটমহলের ৩০টি পরিবার ও বালাপাড়া খাগড়াবাড়ী ছিটমহলের একটি পরিবারসহ মোট ৩১টি পরিবার, তৃতীয় দফা ২৪ নভেম্বর দহলা খাগড়াবাড়ী ছিটমহলের ২৯টি পরিবার এবং চতুর্থ দফা ২৬ নভেম্বর দহলা খাগড়াবাড়ী ছিটমহলের ১৭টি ও দইখাতা ছিটমহলের ছয়টি পরিবারসহ মোট ২৩টি পরিবার ভারতে যাওয়ার জন্য তাদের প্রয়োজনীয় কাগজাদি অর্থাৎ ট্রাভেল পাস হাতে পেয়েছে বলে জানা গেছে।

No comments:

Post a Comment