Saturday, November 21, 2015

মহেশখালীতে বাঁচার জন্য সরকারদলীয় লোকদের কাছে ধর্না দিচ্ছে এক মাদ্রাসা অধ্যক্ষ।

মহেশখালীতে বাঁচার জন্য সরকারদলীয় লোকদের কাছে ধর্না দিচ্ছে এক মাদ্রাসা অধ্যক্ষ।
 নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ                                           
     দূর্নীতির আঁকড়া, বহু অপকর্মের হোতা আর অনিয়মের অভিযোগে অভিযুক্ত মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া মঈনুল ইসলাম আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মৌলানা ছলিম উল্লাহ বাঁচার জন্য এখন শেষ ভরসা হিসাবে সরকার দলীয় লোকদের নিকট ধর্ণা দিচ্ছে। মাদ্রাসার সম্পদ আত্মসাত, ছাত্রদের নিকট থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়, পকেট কমিটি করে শিক্ষক নিয়োগ বানিজ্য, শিক্ষকদের নিকট থেকে মাসিক মাসোহারা আদায় সহ নানা অনিয়মে ভরা উক্ত মাদ্রাসার অধ্যক্ষ  দীর্ঘদিন থেকে ধারাবাহিক অনিয়ম করে পার পেলে ও সংবাদপত্রে বেশ কিছুদিন ধরে ফলাও করে ধারাবাহিক সংবাদ প্রচার আর শিক্ষাদরদী মহেশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ নোমান হোসেনের সততা আর বিচক্ষনাতার নিকট পরাস্ত অধ্যক্ষ সেলিম উল্লাহ দিশেহারা হয়ে এখন নিজেকে রক্ষা করার জন্য সরকার দলীয় লোকদের নিকট ধর্ণা দিচ্ছে এমন অভিযোগ স্থানিয়দের। সাম্প্রতিক সময়ে জেডিসি পরীক্ষা কেন্দ্রে বাইরে থেকে লিখিত খাতা সরবরাহের অভিযোগে আটক মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার দপ্তরী আবু ছৈয়দ জানিয়ে দেন দীর্ঘদিন থেকে অধ্যক্ষ ছলিম উল্লাহ পরীক্ষা কেন্দ্রে লিখিত খাতা সরবরাহ করে কিভাবে ফাঁয়দা লুটেছেন আর কিভাবে দুর্নীতির গোপন তথ্য ফাঁস করে তার শয়তানি চরিত্রের মুখোশ উম্মোচন করে দিয়েছে। তার এ গোপন খবর ফাঁস হয়ে যাওয়ায় নিজের সৃষ্ট সিন্ডিকেটকে বাঁচাতে ও নিজে বাঁচতে কোমর বেঁেধ নেমেছেন বলে অভিযোগ করেন এলাকার সচেতন মহল। মহেশখালী উপজেলা আওয়ামীলীগের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার করুনার জন্য মোটা অংকের টাকায় দেনদরবার করে ব্যর্থ হওয়ায় বর্তমানে চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের এক প্রভাবশালী নেতার আশ্রয়ে জেলা আওয়ামীলীগের এক নেতার মাধ্যমে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগের জোর তৎপরতা শুরু করেছেন বলে অভিযোগ করেন মাদ্রাসার ভুমি দাতার ছেলে মাও: মকছুদুল করিম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহেশখালী উপজেলা আওয়ামীলীগের এক নেতা জানান, অধ্যক্ষ ছলিম উল্লাহ গুরুতর অপরাধ থেকে কৌশলে দায় মুক্তি পাওয়ার জন্য বেশ কয়েকবার তার সাথে যোগাযোগ করেছেন। কিন্তু জঘন্য অপরাধে জড়িত থাকায় বিবেকের তাড়নায় তাকে সহযোগিতা করা হয়নি। সরজমিনে পরির্দশনে এলাকার সচেতন মহল অভিযোগ করেন, গণিত পরীক্ষার দিন সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মুহাম্মদ নোমান হোসেন কর্তৃক কেন্দ্রের পার্শ্ববর্তী একটি বাড়ি থেকে লিখিত খাতা উদ্ধারের পর বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল অধ্যক্ষ ছলিম উল্লার কু-কর্মের বাস্তব চিত্র। ঐ দিন খাতা উদ্ধারের পর নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসার অফিস কক্ষে উপস্থিত হয়ে অধ্যক্ষ ছলিম উল্লাহর কাছ থেকে খাতাগুলো কিভাবে বাইরে যায় জানতে চাইলে বোকার মতো নিরব থেকে মিনিট দু এক পর পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শী এক শিক্ষক। তাৎক্ষনিক মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যায় অধ্যক্ষ ছলিম উল্লাহ। পরে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মুহাম্মদ নোমান হোসেন মাদ্রাসার আশে পাশে লোকজন পাঠিয়ে অনেক খোজাখূজির পর সন্ধান মিলেনি পলাতক অধ্যক্ষ ছলিম উল্লার। প্রত্যক্ষদর্শী অপর এক ব্যক্তি জানান, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট যখন উদ্ধারকৃত খাতা ও আটক ব্যক্তিদের নিয়ে কেন্দ্র সচিব ও অন্যান্য দায়িত্ব প্রাপ্তদের সাথে আলাপ করছিলেন ঠিক ঐ মুহুর্তে অধ্যক্ষ ছলিম উল্লাহ মাদ্রাসা গেইট দিয়ে বের হয়ে দক্ষিনে কবর স্থানের খালী কবরে (গর্তে) পড়ে কাতরাচ্ছিলেন। অবস্থান নেওয়ার দৃশ্য অবলোকনকারী একজন পান চাষি জানান, তিনি (অধ্যক্ষ ছলিম উল্লাহ) বাইরে খাতা সরবরাহের অপরাধে জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হলে অধ্যক্ষের পালিয়ে যাওয়ার খবর প্রশাসনের লোকজনের কাছে জানিয়ে দিয়ে তাকে ধরিয়ে দিতেন। যাতে আর কোন দিন এধরনের জঘন্য কাজ করার জন্য কেউ সাহস না করেন। তিনি আরো জানান, শিক্ষক মানুষ গড়ার কারীগর। আর অধ্যক্ষ ছলিম উল্লাহ চোর বানানোর ও মেধাবি শিক্ষার্থী ধ্বংসের কারিগর। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মাদ্রাসা সুপার জানান, অধ্যক্ষ ছলিম উল্লার ইন্দনে কেন্দ্রে যাবতীয় অনিয়ম হয় বিধায় তিনি ভঁেয় পালিয়ে গিয়েছিলেন। এভাবে পালিয়ে যাওয়ায় কেন্দ্রে অনিয়মে তিনি-ই-যে জড়িত তা স্থানীয়দের কাছে পরিস্কার হয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল কালামের দৃষ্টি আর্কষন করলে তিনি জানান, গণিত পরীক্ষার দিন বাইরে খাতা নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় যারা জড়িত ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, ঐ ঘটনায় দীর্ঘদিন থেকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ছলিম উল্লার জড়িত থাকার বিষয়টি পরে তিনি শুনেছেন। তাই মাদ্রাসার মিটিং-এ বিষয়টি উপস্থাপন করে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষানুরাগী, অভিভাবক ও সচেতন মহলের একটাই প্রশ্ন এভাবে আর কতদিন অধরা থেকে যাবে বহু অপকর্মের হোতা দুর্নীতির নাটেরগুরু অধ্যক্ষ ছলিম উল্লাহ ? কবে পতন হবে মাদ্রাসায় অধ্যক্ষের পারিবারিক দূর্নীতি, কবে শেষ হবে পকেট কমিঠির কারুকাজ, কবে দেখা মিলবে মাদ্রাসায় শিক্ষার সুষ্ট পরিবেশ। মেধা যাচাইয়ের পরীক্ষা কবে হবে নকল মুক্ত এমন প্রশ্ন উত্তর মহেশখালীর সর্বত্র।

No comments:

Post a Comment