বগুড়ার শিবগঞ্জের হরিপুরে আল মোস্তফা মসজিদে গুলিবর্ষণের ঘটনায় শিয়া
বিদ্বেষের বিষয়টি সামনে নিয়ে পুলিশ মাঠে নামলেও জেএমবি কানেকশনসহ আরও কিছু
বিষয় মাথায় রেখেছে। কী কী কারণে এ ধরনের হামলা হতে পারে তার সবদিকই খতিয়ে
দেখছে। এ ঘটনা শুধু বগুড়ার পুলিশ নয়, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও ভাবিয়ে
তুলেছে। রাতদিন পুলিশ কর্মকর্তারা এ ঘটনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। বগুড়া
পুলিশের পাশাপশি সিআইডি, র্যাব, এসবি, ডিবি, পিবিআই ঘটনার মূল রহস্য
উদঘাটনে এবং গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে। ইতিমধ্যে ঢাকা থেকে সিআইডির একটি টিম
গতকাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। গুলিবর্ষণের ঘটনায় র্যাব ৩ জনকে
জিজ্ঞাসাবদের জন্য নিয়ে এসেছে। এছাড়াও গ্রেপ্তারকৃত আরও ৩ জন শিবগঞ্জের
মোলামগাড়ীর এবাদুল কওমী মাদরাসার পরিচালক শামছুল আলম, আনোয়ার হোসেন ও
জুয়েলকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। পুলিশ জানায়, এখনও মূল রহস্য উদঘাটনে
উল্লেখযোগ্য সাফল্য না পাওয়া গেলেও পুলিশ রহস্য উদঘাটনে সর্বাত্মকভাবে কাজ
করে যাচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যেই রহস্য উদঘাটনে সাফল্য পাওয়ার আশা ব্যক্ত
করেছে পুলিশ।জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নামাজের সময় ৩ জনের একটি
সন্ত্রাসী গ্রুপ মসজিদের ভেতরে ঢুকে গুলিবর্ষণ করলে মসজিদের ইমাম শাহীনুর,
মুয়াজ্জিন মোয়াজ্জেম আলী, আবতাব হোসেন, আবু তাহের গুলিবিদ্ধ হয়। মোয়াজ্জেম
হোসেন মৃত্যুবরণ করলেও আফতাব চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে যায়। আবু তাহের ও
শাহীনুর এখনও শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
দুজনের শরীর থেকে চিকিৎসকরা বুলেট বের করে। ওই ঘটনায় শুক্রবার ভোরে পুলিশ
দুজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত দুজনের মধ্যে আনোয়ার হোসেন জেএমবির
গায়েবে এহসার সদস্য। সে ২০১০ সালের জুন মাসে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জে
পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল। গতকাল শনিবার শামছুল আলমকে আদালতে হাজির
করে পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে তার ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়।
অন্যদিকে আনোয়ার হোসেন ও জুয়েলের ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে তাদের ৭ দিনের
রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। একটি সূত্রে জানা যায়, প্রায় বছর খানেক আগে
হরিপুরের কাছে আলীয়ারহাট নামক এলাকায় একটি ইসলামী জলসা থেকে শিয়াদের কাফের
হিসেবে চিহিত করে উসকানিমূলক বক্তব্য দেয়া হয়। মাওলানা শামছুল আলম ওই
ইসলামী জলসায় সভাপতিত্ব করেন। রিমান্ডে আনা ৩ জনকে বগুড়া গোয়েন্দা পুলিশের
কার্যালয়ে রাখা হয়েছে।বগুড়ার পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আকতার হোসেন জানান, ঘটনাস্থলের চিহ্ন ও আলামত
পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট করে তদন্তের দায়িত্ব না থাকলেও
আমরা ছায়া তদন্তকারী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের কাছে কোন তথ্য এলে তা
তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্টের হাতে তুলে দেয়া হবে। আমাদের মতো র্যাবও কাজ
করছে।জানা যায়, ঢাকা থেকে সিআইডির একটি বিশেষ দল এসেছে। তারা ঘটনাস্থলে
যান। এছাড়াও পুলিশের সব বিভাগ এ ঘটনা তদন্তে মাঠে নেমেছে। বাংলাদেশ
ইমামিয়া জনকল্যাণ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আলহাজ আবু জাফর জানান, ঘটনার পর
বিভিন্ন এলাকা থেকে শিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন ফোন দিচ্ছে। এ ঘটনার জন্য তিনি
রাষ্ট্রের কাছে উপযুক্ত বিচার দাবি করেন।সরেজমিন হরিপুরে গেলে
বিভিন্নজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা এখনও ওই রাতের কথা ভুলতে পারেনি।
অনেকটা শঙ্কায় রয়েছে। অনেকেই বলেছে, এলাকায় পুলিশের পাশাপাশি সুন্নি যারা
আছেন তারাও সাহস জোগাচ্ছেন।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment