Monday, December 7, 2015

টিউশন ফির লাগাম টানছে সরকার

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফির ক্ষেত্রে একক কোনো কাঠামো নেই। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের ব্যয়কে ভিত্তি করে টিউশন ফি নির্ধারণ করে থাকে। এজন্য এক সাবজেক্টে টিউশন ফি একেক বিশ্ববিদ্যালয়ে একেক রকম। শুধু তাই নয়, প্রতি সেমিস্টারে বিনা কারণে বাড়ানো হচ্ছে ফি। এই টিউশন ফির লাগাম টানার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ সংশোধন করতে গঠন করা হয়েছে ৫ সদস্যের কমিটি। কমিটি কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন বিষয়ে কত টিউশন ফি হবে তা নির্ধারণ করে দেবে। এ ছাড়া ট্রাস্টি বোর্ডে সরকারের সদস্য নিয়োগ, আর্থিক বিষয় তদারকি, জনবল নিয়োগসহ বেশ কিছু বিষয়ে নজরধারী করার বিষয় এসেছে বৈঠকের এজেন্ডায়। সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির ১২ও ১৩তম বৈঠকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফিসহ আরও কিছু বিষয়ের ওপর আলোচনা হয়। ফলে আইন পরিবর্তন হলে সরকারের নির্ধারিত টিউশন ফি নিতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে।  মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটি ১৩তম বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। এর আগে গত মাসে ১২তম বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করে দেয়া হয়। সংসদ সদস্য মো. আবদুল কুদ্দুসকে আহ্বায়ক এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয় শাখা) হেলাল উদ্দিনকে সদস্য সচিব করে ওই কমিটি করা হয়েছে। সদস্যরা হলেন ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান ও ইউজিসির সাবেক সদস্য অধ্যাপক আতফুল হাই শিবলী। বৈঠকে সদস্যরা জানান, এই আইনের সংশোধন করলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের ইচ্ছামতো ফি আদায় করতে পারবে না। ফলে একই বিষয়ে একেক বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি ব্যবধান কমে আসবে। প্রয়োজন ছাড়াই বাড়াতে পারবে না ফি। কোন আইন না থাকায় এতোদিন এর লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছিল না। এজন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ সংশোধন করতে হবে। বৈঠকের উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কিছু কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকরা বিদেশে টাকা পাচার করছে এরকম গোয়েন্দা রিপোর্ট আছে। কিন্তু এসব বিশ্ববিদ্যালয়কে সরকারি গণ্ডির মধ্যে আনতে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে সরকার। তারা টিউশন ফি নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে কোন নিয়মনীতি মানে না। বিষয়টি ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি সভাপতি মো. আফসারুল আমিন মানবজমিনকে বলেন, ১২ ও ১৩তম বৈঠকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফির বিষয়টি এসেছে। আমরা বলেছি, টিউশন ফি কিসের ভিত্তিতে নির্ধারণ হয় তা কারও জানা নেই। এভাবে চলতে পারে না। একটা নীতিমালা থাকা দরকার। কোনো প্রয়োজন ছাড়াই বছরে না পার হতেই টিউশন ফি বাড়িয়ে দিবে সেটা আর চলতে দেয়া যায় না। এই বিষয়ে সবাই একমত পোষণ করেছে। একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছি। তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির সঙ্গে কথা বলে কাজ করবে।  বৈঠকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বোর্ড অব ট্রাস্টিজের (বিওটি) সরকারের ৩ জন সদস্য রাখা সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়াও সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল, অর্থ কমিটি ও শৃঙ্খলা কমিটি গঠন, শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি নির্ধারণ, ট্রেজারার, ভিসি, প্রো-ভিসি, শিক্ষক নিয়োগ; চাকরিবিধি ও বেতন কাঠামোসহ সব কিছু তদারকি করবে সরকারের নিয়োজিত সদস্যরা। এজন্য ২০১০ সালের আইনের সংশোধন  করার দাবি আসে। বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদও আইন সংশোধন করার কথা বলেন। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধনী মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে সেটি মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপন করা হয়েছে। আরও কিছু সংশোধনী এনে পাঠালে আবারও সেটি মন্ত্রিপরিষদে পাঠানো হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি বছর বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফির ওপর সাড়ে ৭% ভ্যাট বসানোর পর তুমূল আন্দোলন করে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিক পক্ষ। আন্দোলনের একপর্যায়ে সরকার এই ভ্যাট প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়। এরপর থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বাগে আনতে বিকল্প ভাবনা শুরু করে সরকার। এরই অংশ হিসেবে টিউশন ফির ওপর নজরধারী শুরুর চিন্তা করা হচ্ছে।

No comments:

Post a Comment