বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে পৌর নির্বাচনে নেমেছে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। দলটির
চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ শুরু থেকেই বলে আসছেন ২৩৬টি পৌরসভাতেই একক
প্রার্থী দেবেন। কিন্তু এখনও এক-তৃতীয়াংশ প্রার্থী খুঁজে পায়নি দলটি। দলীয়
সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত ১০০ প্রার্থীও চূড়ান্ত করতে পারেনি দলটি।
যদিও দলটির পক্ষ দাবি করা হচ্ছে, প্রথম দিন দেড়শ’ প্রার্থীসহ মোট ১৮৪ জন
প্রার্থী চূড়ান্ত হয়ে গেছে এরই মধ্যে। মূলত এই পর্যন্ত ৫০-এর কিছু বেশি
প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানা গেছে। এছাড়া মনোনয়ন ফরম
বিক্রির দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় নেতারাও প্রার্থী নির্ধারণের বিষয়ে একেকজন
একেক তথ্য দিচ্ছেন। গত রোববার জাপা চেয়ারম্যানের নিজ কার্যালয়ে পৌরসভা
নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নিয়ে মতবিনিময় করেন এরশাদ। মূলত সেদিন থেকেই
দলটির মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু হয়। এর সার্বিক দায়িত্বে আছেন দলের সিনিয়র
যুগ্ম-মহাসচিব রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুমন আশরাফসহ
কয়েকজন নেতা। প্রথম দিনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাড়ার ব্যাপারে রেজাউল ইসলাম
ভূঁইয়া জানিয়েছেন, মতবিনিময়ে আসা উপস্থিতিদের মধ্যে থেকে প্রায় সাড়ে ৪শ’ জন
মনোনয়নের জন্য আবেদন করেছেন। কিন্তু সরেজমিন সেখানে ১শ’ থেকে সামান্য কিছু
বেশি নেতাকর্মী দেখা গেছে। রেজাউল আরও জানিয়েছিলেন, প্রথম দিন এই সাড়ে ৪শ’
থেকেই বাছাই করে দেড়শত প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। কিন্তু তার সঙ্গে
দায়িত্বে থাকা সুমন আশরাফ জানান, প্রথমদিন মাত্র ৭৮ জনকে চূড়ান্ত করা
হয়েছে। তবে দলীয় সূত্রে বলছে তারও কম। মনোনয়নের দায়িত্বে থাকা একজন নাম
প্রকাশে না করা শর্তে জানিয়েছেন, ওইদিন ৫০ জনেরও কম প্রার্থী চূড়ান্ত
করেছেন এরশাদ। এছাড়া দ্বিতীয় দিন সোমবারও তেমন কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
তৃতীয় দিন মঙ্গলবার দলীয় কার্যালয়ে বেশ কিছুক্ষণ অবস্থান করে দেখা গেছে,
মাত্র ২০ থেকে ৩০ জন লোক পার্টি অফিসে আছেন। এদের সবার সঙ্গে কথা বলে জানা
যায়, তাদের মধ্যে পৌরসভায় প্রার্থী মনোনয়ন নিতে যান মাত্র ৫-৬ জন। এরা সবাই
চট্টগ্রামের। বাকিরা মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে এসছেন। দলীয় সূত্র জানায়,
পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই জেলা কমিটিগুলোকে প্রার্থী দিতে
বলা হয় কেন্দ্রীয় ফোরামের পক্ষ থেকে। কিন্তু জেলা কমিটিগুলো বারবার
অনাগ্রহের কথা জানিয়েছে। যারা প্রার্থী হতে আগ্রহী, তারা স্থানীয়ভাবে তেমন
প্রভাবশালী বা গ্রহণযোগ্য না। আবার যেসব জায়গায় ভালো প্রার্থী রয়েছে,
সেখানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রার্থী না দিতে জাতীয় পার্টিকে চাপ দিচ্ছে
বলেও অভিযোগ রয়েছে। দলীয় সূত্র বলছে, সর্বশেষ অনুষ্ঠিত উপজেলা নির্বাচনে
যারা চেয়ারম্যান বা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছিলেন, তাদের বেশির
ভাগই পৌরসভার বাসিন্দা। ঘুরে-ফিরে পৌর নির্বাচনেও তাদেরই প্রার্থী হওয়ার
কথা ছিল। কিন্তু ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে সারাদেশে মাত্র ১ জন
চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। আর বেশির ভাগ প্রার্থীই তাদের জামানত
হারিয়েছিলেন। তাই তারা আর জাপার টিকিটে নির্বাচন করতে রাজি নয়। আর যারা
লাঙ্গল প্রতীক নির্বাচন করতে চায়, তারা স্থানীয়ভাবে তেমন পরিচিত না। জাপার
প্রভাবশালী এক নেতা জানান, অনেক প্রার্থীই ফোন করে অভিযোগ করছেন, ৫ই
জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনের পর জাপার এমপিরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে একাকার হয়ে
গেছে। ওইসব আসনে এখন আর জাতীয় পার্টির আলাদা কোনো সত্তা নেই। তাই তারা টাকা
খরচ করে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে রাজি নয়। তাদের মতামত, লাখ লাখ
টাকা খরচ করতে হয় নির্বাচনের জন্য। কিন্তু নির্বাচন করে জামানত চলে যাওয়া
সম্মানজনক নয়। এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জি এম কাদের
মানবজমিনকে বলেন, মানুষের মাঝে আওয়ামীবিরোধী একটা সেন্টিমেন্ট তৈরি হয়ে
গেছে। তারা আওয়ামী লীগের বিপক্ষে রায় দিতে চায়। সেক্ষেত্রে জাতীয় পার্টির
গুরুত্ব মানুষের কাছে রয়েছে। কিন্তু জাতীয় পার্টিকেও প্রমাণ করতে হবে, তারা
আওয়ামী লীগ বা তাদের কোনো অঙ্গসংগঠন নয়। এদিকে পৌরসভা নির্বাচনে ভালো
ফলাফল অর্জন করার ব্যাপারে আশাবাদী দলটির মহাসচিব জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু।
তিনি বলেন, সারাদেশ থেকে খুব ভালো সাড়া পাওয়া গেছে। জনগণ এরশাদের আমলে করা
উন্নয়নের কথা স্বীকার করবেন। জাতীয় পার্টির পক্ষে রায় দেবেন। তিনি আরও
বলেন, আমরা আমাদের নেতাকর্মীদের নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় ভূমিকায় থাকার
নির্দেশ দিয়েছি। প্রার্থী খুঁজে না পাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা ১৫০টি
পৌরসভা টার্গেট করেছি। প্রচুর মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দলীয় অফিসে আসছেন।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment