কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাদের চোখরাঙানিসহ বহিষ্কারের হুমকি ছিল। কিন্তু দমিয়ে
রাখা যায়নি আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থীদের। দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা
করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সদম্ভে নির্বাচনের মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন
তারা। ৩০শে ডিসেম্বর পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র
দাখিলের শেষ দিনে তারা নিজ নিজ নামে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তবে, এতদিন
বিদ্রোহীদের বিষয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা মুখে কঠোর মনোভাবের কথা
জানালেও এবার কিছুটা নমনীয় হয়েছেন। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে ‘স্বতন্ত্র’
হিসেবে অংশ নেয়া আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত
যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাবেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা। দলের
কেন্দ্র থেকে মনোনীত প্রার্থীর জয়লাভের ক্ষেত্রে বিদ্রোহীরা যাতে পথের
কাঁটা হতে না পারেন সেজন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবেন তারা। এজন্য দেশের
বিভিন্ন পৌরসভায় নিজ নিজ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও দলের কেন্দ্রীয়
নেতারা বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে তাদের প্রার্থিতা
প্রত্যাহারের আহ্বান ও অনুরোধ জানাবেন। এমনকি দলের প্রতি আনুগত্য থাকলে
ভবিষ্যতে শীর্ষ পদ পদবীর আশ্বাসও দেয়া হবে তাদের। তবে, এরপরও যদি কেউ দলের
সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নির্বাচনে অংশ নেয় তবে সেই প্রার্থীর বিরুদ্ধে
গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তি বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিতেও পিছপা হবে
না আওয়ামী লীগ। বিদ্রোহীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের এ প্রক্রিয়া চলবে
আগামী ১৩ই ডিসেম্বর পর্যন্ত। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী
এদিন প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এতদিন দলের বিদ্রোহীদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তেমন আলোচনা না হলেও গতকাল সকালে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বৈঠকে উপস্থিত সম্পাদকমণ্ডলীর একাধিক সদস্য। বুুুঝিয়ে কিভাবে তাদের নির্বাচনী মাঠ থেকে সরিয়ে দল মনোনীত প্রার্থীর জয়লাভের পথ পরিষ্কার করা যায় সে বিষয়ে কৌশল ঠিক করছেন নেতারা। বৈঠক শেষে নেতারা জানিয়েছেন, আগামী ১৩ই ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। এই সময়ের মধ্যে বিদ্রাহী প্রার্থীদের বোঝানো হবে, রাজনীতি করতে গেলে দলের সিদ্ধান্ত মানতে হয় এটাই নিয়ম। তাই দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য তাদের বলা হবে। নেতারা আরও বলেন, আওয়ামী লীগ আশা করে ওই দিনের মধ্যেই বিদ্রোহীরা তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন। আর যারা করবেন না তাদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের সাত বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকসহ দলের দায়িত্বশীল নেতারা দেশের বিভিন্ন পৌরসভায় অংশ নিতে ইচ্ছুক বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে আলোপ আলোচনার ভিত্তিতে তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ চেষ্টা করবেন। এজন্য ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকেই নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করে বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম মানবজমিনকে বলেন, যারা দলীয় নির্দেশ উপেক্ষা করে নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে যুক্তিতর্কের মাধ্যমে মানানোর চেষ্টা করা হবে। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিতে তাদের বোঝানো হবে। আমরা আশা করছি তারা তা করবেনও। তিনি বলেন, বিদ্রোহীরা হিসেবে যারা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন তাদের কেউ কেউ কৌশলগত কারণে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন। আবার কেউ পরিচিতির জন্য নির্বাচনের আগ্রহ দেখাচ্ছেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের বিধি ও আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুজন নয়, একজন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ পাবেন। সেক্ষেত্রে দল মনোনীত প্রার্থীর বাইরে গিয়ে কেউ যদি তা করেন তাহলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। জানতে চাইলে দলের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, ইতিমধ্যে আমি আমার নিজ এলাকায় অবস্থান করছি। বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা করে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের অনুরোধ করা হবে। দলের বাইরে না যাওয়ার জন্য তাদের বোঝানো হবে। আশা করছি ১৩ই ডিসেম্বরের আগেই সব ঠিক হয়ে যাবে। আওয়ামী লীগের সিলেট বিভাগের দায়িত্বে থাকা সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিছবাহ উদ্দিন সিরাজ মানবজমিনকে বলেন, তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী মনোনয়ন বোর্ড প্রার্থী মনোনীত করেছে। তাই সবাইকে এ সিদ্ধান্ত মানতে হবে। বিদ্রোহী প্রার্থীদের বুঝিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের অনুরোধ করা হবে। দলের প্রতি আনুগত্য থাকলে ভবিষ্যতে তাদের মূল্যায়ন করা হবে- এমন আশ্বাসও দেয়া হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল নেতা বলেন, আমাদেরও উচিত তাদের বোঝানো। দলে সিদ্ধান্তের বাইরে গেলে দলের ক্ষতি হয়। তাই দলের বাইরে গিয়ে যেন নির্বাচন না করে এজন্য তাদের বোঝানোর চেষ্টা করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভোটের মাঠে বিদ্রোহীরা ফ্যাক্টর না হলেও রাজনীতি করতে গেলে দলের সিদ্ধান্ত মানতে হয়। তাই বিদ্রোহীদের প্রার্থিতা বাতিলের আহ্বান জানানো হবে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, আমাদের জানামতে ৭১টি পৌরসভায় বিকল্প প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে চূড়ান্ত বাছাইয়ে যাতে কেউ বাদ না পড়ে যায় এজন্য কিছু জায়গায় কৌশলগত কারণেও আমাদের একাধিক প্রার্থী রয়েছে। তবে, আমরা আশ্বস্ত করতে পারি আমাদের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের কেউ নির্বাচনে অংশ নেবে না। ১৩ই ডিসেম্বরের পর কোনো প্রার্থী বিদ্রোহী হিসেবে থাকবে না। দলের প্রতি যাদের আনুগত্য আছে, শ্রদ্ধাবোধ আছে তারা তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে আওয়ামী লীগের এই শীর্ষ নেতা বলেন, এরপরও যদি কেউ দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে সভাপতির স্বাক্ষর করা প্রত্যয়নপত্রের বিপরীতে যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এতদিন দলের বিদ্রোহীদের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তেমন আলোচনা না হলেও গতকাল সকালে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বৈঠকে উপস্থিত সম্পাদকমণ্ডলীর একাধিক সদস্য। বুুুঝিয়ে কিভাবে তাদের নির্বাচনী মাঠ থেকে সরিয়ে দল মনোনীত প্রার্থীর জয়লাভের পথ পরিষ্কার করা যায় সে বিষয়ে কৌশল ঠিক করছেন নেতারা। বৈঠক শেষে নেতারা জানিয়েছেন, আগামী ১৩ই ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। এই সময়ের মধ্যে বিদ্রাহী প্রার্থীদের বোঝানো হবে, রাজনীতি করতে গেলে দলের সিদ্ধান্ত মানতে হয় এটাই নিয়ম। তাই দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য তাদের বলা হবে। নেতারা আরও বলেন, আওয়ামী লীগ আশা করে ওই দিনের মধ্যেই বিদ্রোহীরা তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন। আর যারা করবেন না তাদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, আওয়ামী লীগের সাত বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকসহ দলের দায়িত্বশীল নেতারা দেশের বিভিন্ন পৌরসভায় অংশ নিতে ইচ্ছুক বিদ্রোহী প্রার্থীদের সঙ্গে আলোপ আলোচনার ভিত্তিতে তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ চেষ্টা করবেন। এজন্য ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকেই নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করে বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম মানবজমিনকে বলেন, যারা দলীয় নির্দেশ উপেক্ষা করে নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে যুক্তিতর্কের মাধ্যমে মানানোর চেষ্টা করা হবে। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিতে তাদের বোঝানো হবে। আমরা আশা করছি তারা তা করবেনও। তিনি বলেন, বিদ্রোহীরা হিসেবে যারা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন তাদের কেউ কেউ কৌশলগত কারণে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন। আবার কেউ পরিচিতির জন্য নির্বাচনের আগ্রহ দেখাচ্ছেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের বিধি ও আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুজন নয়, একজন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ পাবেন। সেক্ষেত্রে দল মনোনীত প্রার্থীর বাইরে গিয়ে কেউ যদি তা করেন তাহলে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। জানতে চাইলে দলের একজন সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, ইতিমধ্যে আমি আমার নিজ এলাকায় অবস্থান করছি। বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগাযোগ ও আলোচনা করে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের অনুরোধ করা হবে। দলের বাইরে না যাওয়ার জন্য তাদের বোঝানো হবে। আশা করছি ১৩ই ডিসেম্বরের আগেই সব ঠিক হয়ে যাবে। আওয়ামী লীগের সিলেট বিভাগের দায়িত্বে থাকা সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিছবাহ উদ্দিন সিরাজ মানবজমিনকে বলেন, তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী মনোনয়ন বোর্ড প্রার্থী মনোনীত করেছে। তাই সবাইকে এ সিদ্ধান্ত মানতে হবে। বিদ্রোহী প্রার্থীদের বুঝিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের অনুরোধ করা হবে। দলের প্রতি আনুগত্য থাকলে ভবিষ্যতে তাদের মূল্যায়ন করা হবে- এমন আশ্বাসও দেয়া হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের একজন কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল নেতা বলেন, আমাদেরও উচিত তাদের বোঝানো। দলে সিদ্ধান্তের বাইরে গেলে দলের ক্ষতি হয়। তাই দলের বাইরে গিয়ে যেন নির্বাচন না করে এজন্য তাদের বোঝানোর চেষ্টা করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভোটের মাঠে বিদ্রোহীরা ফ্যাক্টর না হলেও রাজনীতি করতে গেলে দলের সিদ্ধান্ত মানতে হয়। তাই বিদ্রোহীদের প্রার্থিতা বাতিলের আহ্বান জানানো হবে। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, আমাদের জানামতে ৭১টি পৌরসভায় বিকল্প প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে চূড়ান্ত বাছাইয়ে যাতে কেউ বাদ না পড়ে যায় এজন্য কিছু জায়গায় কৌশলগত কারণেও আমাদের একাধিক প্রার্থী রয়েছে। তবে, আমরা আশ্বস্ত করতে পারি আমাদের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের কেউ নির্বাচনে অংশ নেবে না। ১৩ই ডিসেম্বরের পর কোনো প্রার্থী বিদ্রোহী হিসেবে থাকবে না। দলের প্রতি যাদের আনুগত্য আছে, শ্রদ্ধাবোধ আছে তারা তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেবেন এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে আওয়ামী লীগের এই শীর্ষ নেতা বলেন, এরপরও যদি কেউ দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে সভাপতির স্বাক্ষর করা প্রত্যয়নপত্রের বিপরীতে যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সর্বোচ্চ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

No comments:
Post a Comment