Tuesday, December 1, 2015

নাকচ

পৌর নির্বাচনের পুনঃতফসিল ঘোষণা ও প্রচারণায় এমপিদের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখাসহ রাজনৈতিক দলগুলো যেসব দাবি করেছিলো, তা নাকচ করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল সকালে দলগুলোর দাবির প্রেক্ষিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। বিকালে সাংবাদিকদের সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় এমপিদের অংশগ্রহণের সুযোগ রেখে এ পর্যায়ে আচরণবিধি পরিবর্তন করা ঠিক হবে না। পুনঃতফসিল দিয়ে নির্বাচনের সময়সীমা ১৫ দিন বাড়ানোরও কোনো অবকাশ নেই। এছাড়া মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়সীমা ১০ দিন বাড়ানোর দাবির ক্ষেত্রেও সিইসি একই বক্তব্য দেন। সিইসি জানান, মেয়র পদে রাজনৈতিক দলের একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন প্রদান করার কোনো সুযোগ নেই। আগামী ৩০শে ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য দেশের ২৩৬টি পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে গত রোববার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রতিনিধিদল। এ সময় পৌর নির্বাচনের আইন ও আচরণবিধি ত্রুটিপূর্ণ অভিযোগ করে বেশ কিছু দাবি কমিশনের কাছে উপস্থাপন করে দলগুলো। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে নির্বাচনী প্রচারণায় এমপিদের সুযোগ দেয়ার দাবি জানানো হয়। আর ১৫ দিন নির্বাচন পেছানোর দাবি জানায় বিএনপি, ওয়ার্কার্স পার্টি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগসহ আরও কিছু রাজনৈতিক দল। এছাড়া প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়সীমা আরও ১০ দিন সময় বাড়ানোর দাবি করে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। এদিকে গতকাল দুপুরে নির্বাচন কমিশনে যায় সরকারের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি। কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে দলটির সেক্রেটারি ফজলে হোসেন বাদশা সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচনী আইনি কিছু অসঙ্গতি রয়েছে। কোনো দল একজনের বেশি প্রার্থী মনোনয়ন দিতে না পারার যে বিধি রয়েছে, আমরা তার বিরোধিতা করেছি। কারণ, কারও প্রার্থিতা বাতিল হয়ে গেলে ওই পৌরসভায় আমাদের প্রার্থীহীন থাকতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর এসব দাবির বিষয়ে বৈঠকে নেয়া সিদ্ধান্ত জানাতে বিকাল সাড়ে ৫টায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সিইসি কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, আমরা খুব স্বল্প সময় পেয়েছি। তবুও রাজনৈতিক দলগুলো যেহেতু আবেদন করেছেন, তাই আমরা আবারও সবাই মিলে বসেছিলাম। যারা নির্বাচনে সহায়তা করেন তাদের সঙ্গেও আলোচনা করেছি। কিন্তু আমরা দেখলাম নির্বাচন একদিনও পেছানো সম্ভব নয়। নির্বাচন আরও আগে করতে চেয়েছিলাম। তিনি বলেন, ২০শে ডিসেম্বর নির্বাচন করতে পারলে ভালো হতো। কিন্তু সে সময় পাইনি। তারপরও শেষ সময়ে যেটুকু ?না রাখলেই নয়, সেটুকু সময় রাখা হয়েছে। ৩০শে ডিসেম্বরের পরে নির্বাচন করতে হলে আইনের বাধ্যকতা মানতে পারবো না। সিইসি বলেন, এমপিরা প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন কিনা, তা নিয়ে গভীরভাবে বিবেচেনা করেছি। কিন্তু আমরা যে আচরণবিধি জারি করেছি, সেটা এই মুহূর্তে পরিবর্তন করা সমীচীন হবে না। দলীয় প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা আইনে পরিষ্কারভাবে বলা আছে। একটি দলের শীর্ষ নেতারা প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন, অন্যরা পারবেন না। এতে কি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বজায় থাকলো? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা শেষ নির্বাচন নয়, আমরা অভিজ্ঞতা অর্জন করবো। যদি দেখি কোনোটাই সঠিক হচ্ছে না তাহলে সামনের নির্বাচনে শুধরে নেবো। এদিকে নির্বাচনের জন্য সব প্রস্তুতি শুরু করেছে কমিশন। এরই মধ্যে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ৩টি পরিপত্র পাঠানো হয়েছে। আগামী দু-একদিনের মধ্যে আচরণবিধি ও প্রতীক বরাদ্দের বিষয়ে আরও দুটি পরিপত্র পাঠানো হবে বলে কমিশন সূত্র জানায়। এছাড়া সব রিটার্নিং কর্মকর্তাকে কেন্দ্র স্থাপনের ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। কমিশন সূত্র জানায়, ব্যালট পেপার ছাপানোর কাজও শুরু হয়ে গেছে। সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলরের জন্য ৭০ লাখ করে মোট ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যালট পেপার ছাপানোর কাজ শুরু করেছে কমিশন। সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত ১০ লাখেরও বেশি ব্যালট পেপার ছাপানো হয়েছে। তবে মেয়র পদের ব্যালট পেপার ছাপানো হবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনের পরে। বাকি সব সরঞ্জামাদি নির্বাচন কমিশনের কাছে মজুত রয়েছে বলে জানান উপ-সচিব মো. শাহাজান।

No comments:

Post a Comment