দীর্ঘ ১০ মাস ৮ দিন পর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বিএনপির যুগ্ম
মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। গতকাল বিকালে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার
পার্ট-২ থেকে মুক্তি পান তিনি। এসময় তার স্ত্রী আঞ্জুমান আরা ও দলের
নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। কাশিমপুর কারাগার পার্ট-২-এর জেল
সুপার প্রশান্ত কুমার বণিক বলেন, দুপুরে রিজভী আহমেদের জামিনের কাগজপত্র
কারাগারে গিয়ে পৌঁছায়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে বিকাল পাঁচটা ৫ মিনিটে কারাগার
থেকে তাকে মুক্তি দেয়া হয়। কারামুক্তির পর রিজভী আহমেদ মানবজমিনকে বলেন,
স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে জীবনে অনেক জেল-জুলুম ও
নির্যাতনের শিকার হয়েছি। গত ৩১শে জানুয়ারি গ্রেপ্তারের পর টানা রিমান্ডে
নেয়ায় অসুস্থ পড়েছিলাম। এরপর বেশ কয়েকদিন হাসপাতালে ছিলাম। দীর্ঘদিন
কারাগারে থাকলে কখনও ভেঙে পড়িনি। তিনি বলেন, এখন কিছুটা সুস্থ বোধ করছি।
সোমবার বাসায় বিশ্রাম নেবো। উল্লেখ্য, ৫ই জানুয়ারি একতরফা নির্বাচনের
বর্ষপূর্তির কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে ৩রা জানুয়ারি রাতে নয়াপল্টনের
কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রিজভী আহমেদ অসুস্থ হয়ে পড়লে পুলিশ তাকে আটক করে
বসুন্ধরার অ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে যায়। তিনি সেখান থেকে কৌশলে বেরিয়ে
নিরাপদ অবস্থানে চলে যান। এরপর থেকে কৌশলী অবস্থানে থেকেই দলের বিবৃতি
দিলেন তিনি। তবে গত ৩১শে জানুয়ারি রাজধানী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেপ্তারের পর টানা ২৭ দিন রিমান্ডে নেয়া হয় তাকে।
এরপর কয়েকদফায় আরও বেশ কয়েকদিন রিমান্ডে নেয়া রিজভী আহমেদ। রিমান্ডে
থাকাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি হয়। বিএনপির তিন মাসের
আন্দোলনে নাশকতার অভিযোগে রিজভী আহমেদের বিরুদ্ধে ৩৬টি মামলা দায়ের করা হয়।
এর আগে ২০১৩ সালে ৩০শে নভেম্বর নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অভিযান
চালিয়ে রিজভী আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment