ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন ও সেনাপ্রধান মিন অং হলাইংয়ের
সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন মিয়ানমারের গণতন্ত্রীপন্থি নেত্রী অং সান সু চি। গত
৮ই নভেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি
(এনএলডি) ভূমিধস বিজয় পায়। এর ফলে তিনি হতে যাচ্ছেন মিয়ানমারের পরবর্তী
সরকারের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু। তবে কবে তার হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে
তা সুনির্দিষ্ট নয়। সেনাবাহিনী সমর্থিত ক্ষমতাসীন সরকারের মেয়াদ এখনও
প্রায় ২ মাস বাকি আছে। সেই মেয়াদ শেষ করেই ক্ষমতা হস্তান্তর নাকি তার আগেই
তা পরিষ্কার নয়। এ নিয়ে প্রেসিডেন্ট থেইন সেইনের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন সু
চি। এর আগে তিনি আলাদাভাবে সাক্ষাত করেন সেনাপ্রধানের সঙ্গে। অনলাইন বিবিসি
জানিয়েছে, তারা দু’জনেই সু চিকে মসৃণ পথে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি
দিয়েছেন। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সু চির সাক্ষাত স্থায়ী হয় ৪৫ মিনিট। এ সময়ে
কিভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে তা নিয়ে তারা আলোচনা করেন। উল্লেখ্য,
মিয়ানমারের সংবিধান অনুযায়ী অং সান সু চির স্বামী ও সন্তানরা বিদেশী নাগরিক
হওয়ায় তিনি মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না। তবে তাতে সু চির কিছু
যায় আসে না। তিনি নির্বাচনের আগেই বলে দিয়েছেন, তিনি থাকবেন প্রেসিডেন্টের
ওপরে। ৮ই নভেম্বর জাতীয় নির্বাচনে সু চির এনএলডি পার্লামেন্টের শতকরা ৮০
ভাগ আসন পায়। এর পর থেকে সু চি পর্যায়ক্রমে প্রেসিডেন্ট, পার্লামেন্টের
স্পিকার, সেনাপ্রধানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তারা কি নিয়ে
আলোচনা করেছেন তা নিয়ে কিছু সময় পর্যন্ত কোন কথা জানানো হয় নি। নির্বাচনের
আগে ও পরে সেনা বাহিনী সমর্থিত সরকারের প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন ও সেনাবাহিনী
কথা দিয়েছে তারা নির্বাচনের ফলের প্রতি সম্মান দেখাবে। ১৯৯০ সালের
নির্বাচনে যেমন সু চি বিজয়ী হওয়ার পরও সেই নির্বাচনের ফল বাতিল করে দিয়ে
সামরিক জান্তা চেপে বসে ক্ষমতার মসনদে, এবার দৃশ্যত সে অবস্থার পরিবর্তন
হয়েছে। সেনাবাহিনী বুঝতে পেরেছে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন একটি সরকার দেশের জন্য
মঙ্গলজনক নয়। জনগণের কণ্ঠ বন্ধ করে দিয়ে ক্ষমতায় থাকা যায় না। তাই তারা
এবার গণতন্ত্রের পথে ফিরেছে। ফলে দীর্ঘ সময় পরে পূর্ণ গণতন্ত্রের পথে চলা
শুরু হয়েছে মিয়ানমারের। তবে সেখানেও কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। কারণ, এখনও
পার্লামেন্টের এক চতুর্থাংশ আসন সংরক্ষিত রাখা হয়েছে সেনাবাহিনীর জন্য।
তারা যাদেরকে মনে করবে তাদেরকে ওই আসনগুলোতে বসিয়ে দিতে পারবে। তাদের কোন
নির্বাচন প্রয়োজন হবে না। এর ফলে পার্লামেন্টে সেনাবাহিনীর একরকম শক্তি
থেকেই যাবে। লক্ষ্যণীয়, এবারের নির্বাচনে মিয়ানমার গণতন্ত্রের পথে হাঁটলেও
উপেক্ষিত রয়ে গেছেন দেশটির কয়েক লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম। তাদেরকে ভোটাধিকার
থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment