Thursday, December 24, 2015

খালেদার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা চায় আওয়ামী লীগ

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ এবং স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা চায় আওয়ামী লীগ। বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা। গতকাল বিকালে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলেন এ বিষয়ে কথা বলেন দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে খালেদা জিয়া যে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন তা জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। এটা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর আঘাত করেছেন। এই চরম অবমাননাকর বক্তব্য দেয়ার পর তাঁকে বিচারের কাটগড়ায় দাঁড় করানো উচিত। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব সরকারের, আওয়ামী লীগের নয়। আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি করছি বেগম জিয়া মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর আঘাত করেছেন, এ জন্য তাকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বিচার করা হোক। মাহবুব-উল আলম হানিফ আরও বলেন, বিএনপি নেত্রী বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে দেশের মুক্তি পাগল মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছেন। এমন বক্তব্যের পর দেশে গণতন্ত্র আছে বলেই বিএনপি নেতারা দেশের জনগণের রোষানল থেকে অক্ষত রয়েছেন। অন্যথায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়তো। খালেদা জিয়া কখনই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ছিলেন না উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, উনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সৈন্যদের আতিথিয়েতায় পাকিস্তান ক্যান্টনমেন্টে বসবাস করেছেন। বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকের সমালোচনা করে হানিফ বলেন, আমরা খুব অবাক, বিস্মিত এবং লজ্জিত হয়েছি। কারণ, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ, পরনির্ভরশীল নয়। এখানে স্থানীয় পর্যায়ে একটি নির্বাচন হচ্ছে, এই দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কেন আমাদের বিদেশিদের কাছে ধরনা দিতে হবে? সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, আব্দুল মান্নান খান, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আকতার প্রমুখ। এদিকে মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে খালেদা জিয়ার বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা। দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, পাকিস্তান যা বলে, খালেদা জিয়াও তাই বলছেন। তিনি পাকিস্তানের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়েছেন। গতকাল রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন’ আয়োজিত ‘অ্যান্টি ডাম্পিং, কাউন্টার ভেইলিং ও সেইফগার্ড মেজার্স’ শীর্ষক এক কর্মশালায় এ মন্তব্য করেন তিনি। তোফায়েল বলেন, বিজয়ের মাসে তিনি (খালেদা) যা বলেছেন, পাকিস্তানও তাই বলে। পাকিস্তান বলেছে- যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নাকি ঠিক হয়নি, খালেদা জিয়া পাকিস্তানের কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়েছেন। আওয়ামী লীগের এই প্রবীণ নেতা আরও বলেন, তিনি বলেছেন, জাতির পিতা নাকি মুক্তিযুদ্ধ চাননি। এটা কত বড় মিথ্যাচার, তা বাংলার মানুষ জানে। বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার বক্তব্যকে ‘দূরভিসন্ধিমূলক’ আখ্যায়িত করে তাকে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। গতকাল রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু একাডেমি আয়োজিত প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাকের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভায় এ বিষয়ে বক্তব্য দেন তিনি। সুরঞ্জিত বলেন, খালেদা জিয়া আবারও একটি বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন। একটি ঐতিহাসিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং মীমাংসিত বিষয় নিয়ে হঠাৎ করে তিনি সংখ্যাতত্ত্বের বিশেষজ্ঞ হয়ে গেছেন। এটা দূরভিসন্ধিমূলক। তিনি বলেন, পাকিস্তান যেটা উচ্চারণ করে আসছে, তার এই বক্তব্যে তারই প্রতিধ্বনি হচ্ছে। বেগম খালেদা জিয়া এই বক্তব্যের সমর্থনে কোন যুক্তি দিতে না পারলে জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করতে হবে। তা না হলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে বিস্ফোরণ হবে। আওয়ামী লীগের এই প্রবীণ নেতা আরও বলেন, সরকারের উচিত স্বাধীনতার পর থেকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের নিয়ে যে সংখ্যাটি স্বীকৃত, এ নিয়ে একটি আইন করা। না হলে বেগম খালেদা জিয়া আবার কবে বলে ফেলবেন- ‘বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধই হয়নি’। ডা. এনামুল হক সেলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ফয়েজ উদ্দিন মিয়াসহ অন্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

No comments:

Post a Comment