আসন্ন পৌর নির্বাচনে দলের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমাদানে বাধা এবং
সরকারদলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছে বিএনপি।
একইসঙ্গে যেসব এলাকায় আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়েছে সেসব এলাকার রিটার্নিং
অফিসারদের প্রত্যাহারের পাশাপাশি নির্বাচনের নতুন তফসিল ঘোষণার দাবি
জানিয়েছে দলটি। পৌর এলাকাগুলোতে বিরোধী প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনের
পরিবর্তে গ্রেপ্তার আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে অভিযোগ করেছে দলটি। গতকাল
নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির
মুখপাত্র ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ঢাকার ধামরাই, ময়মনসিংহের গৌরিপুর, ভোলার দৌলতখান, যশোরের
কেশবপুর, বরগুনা জেলার বেতাগীসহ দেশের বিভিন্ন পৌরসভায় আওয়ামী লীগের
স্থানীয় এমপি, দলীয় নেতা এবং তাদের সমর্থিত মেয়র প্রার্থীদের দ্বারা
আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ধরে বিএনপির
মুখপাত্র বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলেও সংশ্লিষ্ট এলাকার রিটার্নিং
অফিসাররা কোন প্রকার ব্যবস্থা না নিয়ে চুপ করে আছেন। এসব রিটার্নিং
অফিসারকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানাই। এখন দেখার বিষয়
নির্বাচন কমিশন বিএনপির দাবির প্রেক্ষিতে কি ধরনের পদক্ষেপ নেয়। আচরণবিধি
লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে পৌর ভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে
কিনা তা নিয়ে দেশবাসীর মনে সংশয় থেকে যাবে বলেও মন্তব্য করেন রিপন। শাসক
দলের নিরপেক্ষতার অভাব আর নির্বাচন কমিশন নিত্য-নতুন সংশোধনী এনে
নির্বাচনের পরিবেশকে আরও কঠিন করে তুলেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, বিভিন্ন পৌরসভায় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা
বিপক্ষের প্রার্থীদের মনোনয়ন ফরম জমা দিতে বাধা এবং কোন কোন জায়গায় ফরম
ছিঁড়ে ফেলেছে। ফেনী সদর পৌরসভা, দাগনভুঁইয়া, পরশুরাম পৌরসভার ৩৩টি
কাউন্সিলর পদে অন্য কাউকে মনোনয়নপত্র জমা দিতে দেয়নি সরকারি দলের লোকজন।
এছাড়া ফেনী, দাগনভুইয়া পৌরসভায় বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা মনোনয়ন ফরম জমা
দিতে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। ফেনীতে জাতীয় পার্টির প্রার্থীর মনোনয়ন ফরম
ছিঁড়ে ফেলে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় শাসকদলের পক্ষ থেকে
এভাবে মনোননয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন রিপন।
রিপন বলেন, আমরা আগেই সারা দেশে গণগ্রেপ্তার বন্ধের দাবি জানিয়েছিলাম।
কিন্তু কোন লাভ হয়নি। জামালপুর জেলার ৭টি উপজেলা থেকে বৃহস্পতিবার
যৌথবাহিনী ৮৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এতে এলাকায় নির্বাচনের পরিবর্তে
গ্রেপ্তার আতঙ্ক বিরাজ করছে। এছাড়া নীলফামারীতে ৪৭ জন, সাতক্ষীরায় ৩৫ জন,
চট্টগ্রামে ৬৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে
আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, আশা করি, যতটুকু ব্যর্থতা আছে, তা সত্ত্বেও
নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক করতে পদক্ষেপ নেবে কমিশন। বিএনপির সমর্থিত
প্রার্থীরা যাতে নির্ভয়ে প্রচারণা চালাতে পারেন, কর্মীদের যাতে আর
গ্রেপ্তার করা না হয়, ভোটাররা যাতে উৎসবমুখর পরিবেশে তাদের ভোট প্রয়োগ করতে
পারেন সে ব্যবস্থা নেবে কমিশন। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা আবদুস সালাম
আজাদ, আবদুল লতিফ জনি, শামীমুর রহমান শামীম, আসাদুল করিম শাহীন প্রমুখ
উপস্থিত ছিলেন।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment