Wednesday, December 2, 2015

পুতিন, এরদোগান বাহাস

আইএসের সঙ্গে তেলবাণিজ্য রক্ষা করতে রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজ ভূপাতিত করেছিল তুরস্ক। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের এমন অভিযোগের পর পাল্টা জবাব দিয়েছে তুরস্ক। দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান এ অভিযোগ প্রমাণ করতে রাশিয়াকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘কোন কিছু অভিযোগ করতে তা প্রমাণ করা উচিত।’ বিবিসির খবরে বলা হয়, গত সপ্তাহে রাশিয়ার বিমান ভূপাতিত করার ঘটনার ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানায় তুর্কি সরকার। ওই ঘটনার পর দু’দেশের সম্পর্কে ব্যাপক টানাপড়েন সৃষ্টি হয়। ২৪শে নভেম্বর সিরীয় সীমান্তে তুরস্কের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান, রাশিয়ার এসইউ-২৪ বোমারু বিমানকে ভূপাতিত করে। এতে বিমানটির একজন পাইলট নিহত হন। অপর পাইলটকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। উদ্ধার অভিযানে একজন রাশিয়ান মেরিন নিহত হন। রাশিয়ার ওই বিমানটি আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছিল দাবি করে তুরস্ক তা ভূপাতিত করে। রাশিয়া এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এরপর থেকে দু’দেশের নেতাদের মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় পুতিন অভিযোগ করেছেন, আইএসের সঙ্গে তেলবাণিজ্য রক্ষা করতেই তাদের যুদ্ধাজাহাজ ভূপাতিত করে তুরস্ক। সোমবার প্যারিসে এক সংবাদ সম্মেলনে পুতিন বলেন, তুরস্কের ভূখণ্ডে তেল সরবরাহ লাইন রক্ষার জন্যই আমাদের বিমান গুলি করে ভূপাতিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল- এমনটা চিন্তা করার সকল কারণ আমাদের রয়েছে। এর জবাবে আইএসের সঙ্গে কোন প্রকার সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেছে তুরস্ক। এরদোগান বলেন, আপনার কাছে কোন নথিপত্র থাকলে তা উপস্থাপন করা উচিত। সেগুলো দেখা যাক। তিনি আরও বলেন, আমরা ধৈর্যের সঙ্গে পদক্ষেপ নিচ্ছি। দু’টি দেশ যারা কৌশলগত অংশীদারিত্বে পৌঁছেছে বলে বিবেচনা করা যায়, আবেগি কথাবার্তা বলা তাদের জন্য ইতিবাচক নয়। এরদোগান এ ছাড়াও বলেছেন, আইএসের কাছ থেকে তুরস্কের তেল কেনার অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে তিনি পদত্যাগ করবেন। আর পুতিনের ভুল হলে তারও সেটাই করা উচিত বলে পরামর্শ দেন এরদোগান। উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগেও আইএসের বিরুদ্ধে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোটে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে অনাগ্রহ দেখায় তুরস্ক। আগস্ট মাসে দেশটি তাদের একটি বিমান ঘাঁটি জোট বাহিনীকে ব্যবহার করতে সুযোগ দেয়। এদিকে, রাশিয়ার বিমান ভূপাতিত করার পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় দেশটি তুরস্কের ওপর কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা আরও করেছে। এর মধ্যে রয়েছে তুর্কি খাবার আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা এবং ভিসা-মুক্ত সফর বন্ধের সিদ্ধান্ত। 

No comments:

Post a Comment