Wednesday, December 2, 2015

খুলনায় পুলিশের গুলিতে কাভার্ড ভ্যান চালক নিহত

খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) গুলিতে চোরাচালানি পণ্য বহনকারী কাভার্ড ভ্যান চালক নিহত হয়েছেন। কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় এপিবিএন’র মাইক্রোবাস উল্টে এএসপি এহতেশামসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোর ৬টায় খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চাকুন্দিয়া এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। আহতদেরকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও চুকনগর এলাকার একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া দুটি কাভার্ড ভ্যান থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি ও থ্রিপিস উদ্ধার করা হয়েছে।ডুমুরিয়া থানার ওসি মসিয়ার রহমান জানান, সীমান্ত্ত থেকে কাভার্ড ভ্যানটি চোরাই পণ্য নিয়ে আসছে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে খুলনা এপিবিএনের এএসপি এহতেশামসহ পুলিশের ১৪ সদস্যের একটি দল কাভার্ড ভ্যানটিকে ধাওয়া দেয়। পরে ডুমুরিয়ার চুকনগর পার হয়ে চাকুন্দিয়া মাদরাসার সামনে এলে পুলিশবাহী মাক্রোবাসটি কাভার্ড ভ্যানটির সামনে গিয়ে ব্যারিকেড দেয়। এ সময় কাভার্ড ভ্যানের চালক পুলিশবাহী মাইক্রোবাসটিকে ধাক্কা দিয়ে খাদে উল্টে পড়ে। কাভার্ড ভ্যান উল্টে চালক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ ছাড়া মাইক্রোবাসটিও খাদে পড়ে এএসপি এহতেশাম, এসআই আনজির হোসেন ও হাবিবুর রহমান, এএসআই মহাদেব বর্মণসহ ১৪ জন আহত হন। আহত পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ডুমুরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কাভার্ড ভ্যানের চালক পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। কিন্তু ওসি গুলির কথা অস্বীকার করেছেন।  এপিবিএন এর খুলনার অধিনায়ক ও পুলিশ সুপার শহীদুল্লাহ চৌধুরী জানান, কাভার্ড ভ্যানে করে সাতক্ষীরা সীমান্ত থেকে খুলনার দিকে অস্ত্র ও ভারতীয় কাপড় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে- গোপন সূত্রে এমন সংবাদের ভিত্তিতে এপিবিএন’র একটি দল কাভার্ড ভ্যান দুটিকে ধাওয়া করে। একপর্যায়ে ডুমুরিয়ার চাকুন্দিয়া এলাকায় একটি কাভার্ড ভ্যানের গতিরোধ করা হয়।  তিনি জানান, এরপর এপিবিএন’র মাইক্রোবাস দিয়ে অপর কাভার্ড ভ্যানটির সামনে বেরিক্যাড দেয়া হয়। তখন কাভার্ড ভ্যান চালক মাইক্রোবাসটিকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এর ফলে মাইক্রোবাসটি রাস্তা থেকে ছিটকে পাশের খাদে পড়ে যায়। তখন আত্মরক্ষার্থে মোটরসাইকেলে থাকা এপিবিএন’র সদস্যরা কাভার্ড ভ্যান লক্ষ্য করে ৩ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। ওই কাভার্ড ভ্যানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। মাইক্রোবাস উল্টে তাদের এএসপি এহতেশামসহ ১০ জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে ২/৩ জনের অবস্থা গুরুতর।  খবর পেয়ে খুলনা জেলার পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, কাভার্ড ভ্যান দিয়ে মাইক্রোবাসটিকে চাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়। তখন মোটরসাইকেলে থাকা এপিবিএন সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে কাভার্ড ভ্যান লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে কাভার্ড ভ্যানের চালক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে। তবে তার নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। এদিকে আহত এপিবিএন সদস্যদের মধ্যে ৪ জনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপর ৬ জনকে চুকনগর এলাকার একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। এ ছাড়া আহত একটি কাভার্ড ভ্যানের হেলপারকে অচেতন অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান।  ডুমুরিয়া থানা পুলিশ অক্ষত কাভার্ড ভ্যানের চালক নাজমুল হোসেন ও হেলপার ইকবাল হোসেনকে আটক করেছে। তাদের দুইজনেরই বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া এলাকায়। এ ঘটনায় ডুমুরিয়া থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রেকার দিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাস ও কাভার্ড ভ্যান টেনে ডুমুরিয়া থানায় নেয়া হয়। এরপর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রফিকুল ইসলামের উপস্থিতিতে কাভার্ড ভ্যান দুটি খুলে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি ও থ্রিপিস উদ্ধার করা হয়। বিকালে এসব ভারতীয় কাপড়ের সংখ্যা গণনা ও মূল্য নির্ধারণের কাজ শুরু হয়।  এদিকে খুলনা রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি একরামুল হাবিব ও জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

No comments:

Post a Comment