থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত শিশু মানে
মৃত্যু পরোয়ানা নিয়ে জন্ম নেওয়ার সামিল। এই পরোয়ানায় কেবল মৃত্যুর সময় ও
তারিখ উল্লেখ থাকে না। আক্রান্ত শিশুর বেশির ভাগের জীবন প্রদীপ জন্মের ১০
থেকে ১৫ বছরের মধ্যে নিভে যায়। তাই আর একটি শিশুও যেন থ্যালাসেমিয়ায়
আক্রান্ত হয়ে মারা না যায় সে জন্য সচেতনতা বাড়াতে হবে, প্রয়োজনে আইন করে
হলেও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ বাধ্যতামূলক করতে হবে। বিশ্ব
থ্যালাসেমিয়া দিবস অনুষ্ঠিত উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব
মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের
সহযোগী অধ্যাপক ডা. রেজাউল করিম কাজল এ কথা বলেন। আজ শনিবার সকালে ঢাকা
রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে
ফ্যামিলি কেয়ার ও ডিএনএ সল্যুশন লিমিটেড। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা.
রেজাউল করিম বলেন, থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা নেই। চিকিৎসা
দিয়ে লাভও নেই। একমাত্র প্রতিরোধ করা ছাড়া কোনো উপায় নেই। প্রতিরোধ
করতে হলে ছেলে ও মেয়েকে বিয়ের আগে পরীক্ষায় নিশ্চিত হতে হবে তারা এই রোগের
বাহক নন। ছেলে-মেয়ে দুজন বাহক হলে তাদের মধ্যে বিয়ে দেওয়া যাবে না।
দ্বিতীয়ত, আত্মীয়দের মধ্যে বিয়ের প্রচলন বন্ধ করতে হবে। তিনি বলেন, যারা
বিয়ে করে ফেলেছেন তাদের পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে তারা থ্যালাসেমিয়ায়
আক্রান্ত নন। স্বামী-স্ত্রী দুজনই থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হলে বাচ্চা
নেওয়ার সময় গর্ভে বাচ্চা থাকায় অবস্থায় ১১ থেকে ১৫ সপ্তাহের মধ্যে পরীক্ষা
করে জানা যায় গর্ভের বাচ্চা থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত কি না। এজন্য মায়ের
গর্ভের পানি পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া যায়। রেজাউল করিম বলেন,
স্বামী-স্ত্রী দুজনই থ্যালাসেমিয়ার বাহক হলে সন্তানের এতে আক্রান্তের ঝুঁকি
থাকে প্রায় ৭৫ ভাগ। কিন্তু একজন আক্রান্ত হলে ঝুঁকি কমে যায়। তিনি বলেন,
বাচ্চা জন্মের পর প্রথম এক বছর বোঝা যায় না সে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত কি
না। কিন্তু যখন এটা জানা যায় তখন ওই পরিবারের সামনে ভয়াবহ অবস্থা নেমে আসে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের
চেয়ারম্যান শরীফ আখতারুজ্জামান বলেন, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার অন্তত সাড়ে ৬
শতাংশ থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। বাংলাদেশের এই রোগীর সংখ্যা ৩৬ লাখ। যা
মোট জনসংখ্যার তিন শতাংশ। তবে এই রোগের বাহক আছেন অন্তত ১০ শতাংশ।
অর্থাৎ প্রায় দেড় কোটি মানুষ জেনে না জেনে এই রোগের বাহক হিসেবে চলাফেরা
করছেন। প্রতিবছর বাংলাদেশে ৬ হাজারের বেশি শিশু থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত হয়ে
জন্মগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফ্যামিলি কেয়ারের মহাসচিব শেখ
রুহুল আমিন। বক্তব্য দেন রেডিওলজিস্ট সায়মা আখতার চৌধুরী, ডিএনএ
সল্যুশনের কাজী আফসারউদ্দিন, ডা, ফাতেমা জোহরা প্রমুখ।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment