Sunday, January 17, 2016

শিক্ষার প্রসারে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় কাজী মাহবুবউল্লাহ
স্মৃতি পদক পান প্রথম আালোর সহযোগী সম্পাদক
আনিসুল হক। ছবি: ফোকাস বাংলা
শিক্ষার প্রসারে ধনী ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘আমি সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি নিজ নিজ গ্রামের আশপাশের দরিদ্র মানুষকে সাহায্য করতে, মেধাবীদের উচ্চশিক্ষায় সহায়তা করতে, যাতে তারা বিদেশে গিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে পারে এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়।’
আজ শনিবার বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে কাজী মাহবুবউল্লাহ স্মৃতি পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। খবর বাসসের।
আজ ছিল বেগম জেবুন্নেছা ও কাজী মাহবুবউল্লাহ জনকল্যাণ ট্রাস্টের ২৭তম পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান, ১৯৭৮ সাল থেকে ট্রাস্ট এই পদক প্রদান করে আসছে। এবারের কাজী মাহবুব উল্লাহ স্মৃতি পদক প্রাপ্তরা হচ্ছেন-সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় আনিসুল হক, বিজ্ঞানে পাটের মলিকিউলার বায়োলজি নিয়ে বিশেষ গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাসিনা খান, খেলাধুলায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা এবং বিশেষ পুরস্কার হিসেবে আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন অধ্যাপক এ কে আজাদ চৌধুরী। পুরস্কার হিসেবে প্রত্যেককে এক লাখ টাকার চেক, সনদ, ক্রেস্ট এবং উত্তরীয় প্রদান করা হয়।
দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কেবল শিক্ষাই পারে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে।’
উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সর্বত্র ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। শ্রেণিকক্ষগুলোতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম সন্নিবেশিত করা হয়েছে যাতে করে শিক্ষার্থীরা আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতির সংস্পর্শে এসে তাদের মেধার পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটাতে সক্ষম হয়। বিত্তবানেরা এ ক্ষেত্রে এগিয়ে এসে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম প্রতিষ্ঠা এবং উচ্চশিক্ষায় সহায়তার মাধ্যমে মেধাভিত্তিক আলোকিত জাতি এবং জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আর্থসামাজিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের সামনে রোল মডেল। বিশ্বের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়া পাঁচটি দেশের একটি- বাংলাদেশ। অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র ও আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নিজস্ব অর্থায়নে আমরা পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করেছি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই নির্মাণকাজ শুরু করার পর সমগ্র বিশ্বে আমাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ দেখিয়ে দিয়েছে যে, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে যে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করতে পারে তারা নিজস্ব টাকায় পদ্মার ওপর সেতুও নির্মাণ করতে পারে।’
বেগম জেবুন্নেছা ও কাজী মাহবুবউল্লাহ জনকল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান জোবায়দা এম. লতিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, কথা সাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, সাংসদ বেগম নিলুফার জাফরউল্লাহ প্রমুখ।

No comments:

Post a Comment