Tuesday, May 24, 2016

রোয়ানুতে লক্ষাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত

ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে লণ্ডভণ্ড
চট্টগ্রাম নগরীর বিমানবন্দর সড়ক। ছবি: নয়া দিগন্ত
ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে দেশের উপকূলীয় ১৮ জেলার ৩৫টি উপজেলার লাধিক তিগ্রস্ত পরিবারের ৫৮ হাজার ৪৩০টি ঘরবাড়ি তিগ্রস্ত হয়েছে। আর উপকূলীয় এসব জেলার ৩৭৯৬টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪ লাখ ৯৬ হাজার ২৬০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। সরকারি হিসেবে ঘূর্ণিঝড়ে সারা দেশে মারা গেছেন ২৪ জন। নিহতদের দাফনের জন্য এসব পরিবারকে নগদ ২০ হাজার করে টাকা দেয়া হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে উপকূলীয় জেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি য়তি হয়েছে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার। গতকাল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কন্ট্রোল রুমের সর্বশেষ প্রাথমিক হিসাবে এ তথ্য জানা গেছে।
রোববার পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে সরকারি হিসাব অনুযায়ী দেশের উপকূলীয় ১৮টি জেলার ৩৫টি উপজেলার ২৪২টি ইউনিয়নের এক লাখ ৮ হাজার ৬৪০টি পরিবার তিগ্রস্ত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে সারা দেশে মারা গেছেন ২৪ জন। পানির স্রোত, ভূমিধস, মাটি চাপা, গাছ চাপা, নৌকা চাপা ও ঘর চাপায় এসব মানুষ মারা গেছেন। ঘূর্ণিঝড়ে তিগ্রস্ত ঘরবাড়ির মধ্যে সম্পূর্ণ তিগ্রস্ত ২২ হাজার ১৫২টি আর আংশিক তিগ্রস্ত হয়েছে ৩৬ হাজার ২৭৮টি।
গতকাল মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, ঘূর্ণিঝড়ে য়তির সার্বিক তথ্য সংগ্রহকার্যক্রম চলছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও মন্ত্রণালয়ের সচিব দুর্গত এলাকায় পরিদর্শনে গেছেন। ঢাকায় ফিরে আজ মঙ্গলবার এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাতে পারেন। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জাতীয় দুর্যোগ সাড়াদান ও সমন্বয় কেন্দ্র (এনডিআরসিসি) উপকূলীয় এসব এলাকা থেকে প্রাথমিকভাবে য়তির এসব তথ্য সংগ্রহ করেছে। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, জেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও), জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তার (ডিআরো) মাধ্যমে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে ওই কর্মকর্তা জানান।
তিগ্রস্ত জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে- চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, খুলনা, সাতীরা, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর। কন্ট্রোল রুমের তথ্যানুযায়ী চট্টগ্রামে ৭৬ হাজার ৬৪২টি পরিবার, কক্সবাজারে ৭ হাজার ৯৪৫, নোয়াখালীতে ৬ হাজার ৫০০, লক্ষ্মীপুরে ২ হাজার ৫০০, ফেনীতে ১৩৩, চাঁদপুরে ৩ হাজার, বরিশালে ২ হাজার ৮০০, ভোলায় ৪ হাজার, পটুয়াখালীতে ২ হাজার, পিরোজপুরের ২ হাজার ২০, খুলনার এক হাজার ১০০টি পরিবার তিগ্রস্ত হয়েছে। তা ছাড়া সম্পূর্ণ তিগ্রস্ত ঘরবাড়ির মধ্যে চট্টগ্রামে ২০ হাজার ৮৭৭, কক্সবাজারে এক হাজার ২২৮, পটুয়াখালীতে ৭, খুলনায় ৪০টি রয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ২৫ হাজার ৩২৬, কক্সবাজারে ৭ হাজার ২২, চাঁদপুরে এক হাজার ৫০০, বরিশালে ৮০০, পটুয়াখালীতে এক হাজার ৫০০, পিরোজপুরে ১০, খুলনায় ১২০টি ঘরবাড়ি আংশিক তিগ্রস্ত হয়েছে। তিগ্রস্ত বাঁধের মধ্যে ফেনীতে ১০টি, বরিশালে ৭টি ও খুলনায় ৭টি রয়েছে।
এ দিকে তিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে রোববার পর্যন্ত দুই কোটি ৭৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে। আর চাল দেয়া হযেছে ৭ হাজার ৫৭৫ টন। এর বাইরে ঢেউটিন বাবাদ দু’লাখ ৭৩ হাজার টাকাও রয়েছে।
এ বিষয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সত্যব্রত সাহা বলেন, তিগ্রস্ত পরিবারকে সরকারের প থেকে সব ধরনের সহায়তা দেয়া হচ্ছে। আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্রাণ রয়েছে। এ ছাড়া আমরা উন্নয়ন সহযোগীদের সাথেও মিটিং করেছি। প্রয়োজনে তারাও সহায়তা দিতে রাজি আছেন বলে জানিয়েছেন। অতিরিক্ত সচিব বলেন, মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া তার পূর্বনির্ধারিত বিদেশ সফরও বাতিল করেছেন। তিনি দুর্যোগ পরিস্থিতি সরেজমিনে তদারকিতে গতকাল পর্যন্ত দুর্গত এলাকায় রয়েছেন। তিনি বলেন, য়তির চূড়ান্ত হিসাব পেতে আমাদের আরো কিছুটা সময় লাগবে। তখন পুনর্বাসনের জন্য অন্যান্য পদপে নিতে পারব।
উল্লেখ্য, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’ গত শনিবার দুপুরের দিকে বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূলে আঘাত হানে। বিকেলের মধ্যে এটি উপকূল অতিক্রম করে।

No comments:

Post a Comment