দীর্ঘদিন
পালিয়ে থাকার পর চট্টগ্রামে গোপনে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে এসে ধরা
পড়েছে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামি। গতকাল সকালে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক
বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। এ সময় সে ঢাকা থেকে ফিরছিল।
ধরা পড়া আসামির নাম আনোয়ার আশরাফ। তার স্থায়ী ঠিকানা নগরীর পাঁচলাইশ
এলাকায়। ওই এলাকার জনৈক কাসেম চৌধুরীর পুত্র সে। ২০০৪ সালে সহকর্মীকে খুনের
ঘটনায় আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। র্যাব-৭-এর সদস্যরা জানান, ফটিকছড়িতে
বীমা কর্মকর্তা নূর খালেক মাস্টার হত্যার ঘটনায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।
তবে এ ঘটনায় খালাস দেয়া হয়েছে অপর এক সহযোগীকে। খালাস পাওয়া ওই ব্যক্তির
নাম গোলাম মোস্তফা কালু। অভিযোগ উঠেছিল, তারা দুজন হত্যার আগে খালেক
মাস্টারের সঙ্গে একই অফিসে কাজ করতেন। পরে দুর্নীতির দায়ে দুজনই বরখাস্ত
হয়। ২০১৪ সালের ১৯শে আগস্ট দুপুরে বিভাগীয় জননিরাপত্তা ট্রাইব্যুনালের
বিচারক মোহাম্মদ মমিন উল্লাহ ২৭ সাক্ষীর তথ্য খতিয়ে দেখে দুজনের একজনকে
মৃত্যুদণ্ড দেয়। ঘটনার পর থেকেই আনোয়ার আশরাফ হোসেন পালিয়ে যায়। অনেক
খোঁজাখুঁজি করেও পুলিশ তার কোনো ঠিকানার হদিস করতে পারেনি। খুন হওয়া খালেক
মাস্টার গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্স নামের একটি কোম্পানির ফটিকছড়ি ব্রাঞ্চের
সিনিয়র অফিসার ছিলেন। ২০০৪ সালে ফটিকছড়ির কারবালা টিলায় নূর খালেক
মাস্টারকে ছুরিকাঘাতে খুন করা হয়। খুনের পর পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসে,
দুর্নীতির দায়ে দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্তের জের ধরে এ খুনের ঘটনা ঘটেছে। এ
ঘটনায় বাদী হয়ে ওই বছরই নিহতের বাবা মোহাম্মদ দানেশ মিয়া বাদী হয়ে ফটিকছড়ি
থানায় হত্যা মামলা করেন। ২রা অক্টোবর এ ঘটনায় চার্জশিট দেয়া হয়। চার্জ গঠন
হয় ১৬ই জুন ২০০৯। এর পর চলে বিচারকাজ। র্যাব জানায়, দীর্ঘদিন পালিয়ে থাকার
পর গতকাল ঢাকা থেকে বেসরকারি একটি ফ্লাইটে চট্টগ্রামে এসে পৌঁছে আশরাফ।
তার আসার খবর আগে থেকে টের পেয়ে সেখানে আগে অবস্থান নেয় র্যাবের ১০ সদস্য।
এরপর বিমানবন্দর গেট দিয়ে বের হয়ে একটি সিএনজিতে ওঠার আগেই তাকে হাতেনাতে
ধরেন ফেলে র্যাব সদস্যরা। জানতে চাইলে এ বিষয়ে মানবজমিনের সঙ্গে কথা বলেন
চট্টগ্রামের র্যাব-৭-এর ?উপপরিচালক শাফায়েত জামিল ফাহিম। তিনি বলেন, বহু
দিন তাকে খোঁজা হয়েছে। আজ (গতকাল) কৌশলে আবার গ্রেপ্তার হলো। তার বিরুদ্ধে
খুনের মামলার রায় ঝুলছে। সে রায় ঘোষণার পর থেকে পালিয়ে রয়েছে। তিনি আরও
বলেন, দুর্নীতির দায়ে আনোয়ার আশরাফকে বরখাস্ত করার পর সে প্রতিশোধ নিতে
নিজের সহকর্মীকে খুন করে। এ ঘটনায় আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। দীর্ঘদিন
সে পালিয়ে থেকে কি করেছে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তা বেরিয়ে আসবে বলে আশা
করছি।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment