Sunday, January 31, 2016

প্রস্তুত অং সান সুচি, কে হচ্ছেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট!

প্রস্তুত অং সান সু চি। নভেম্বরে পার্লামেন্ট নির্বাচনে তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ী হওয়ার পর মিয়ানমারে নতুন সরকার গঠনের জন্য বেশ ভাল সময় পান সুচি। ১৯৬০ এর দশকের পর প্রথম গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর আগামীকাল প্রথমবারের মতো পার্লামেন্ট অধিবেশন বসছে মিয়ানমারে। আগামী সপ্তাহে সেখানে নির্বাচিত হবেন নতুন স্পিকার। এরপর পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনে হবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মার্চের শেষে তার মেয়াদ শুরু করবেন। তবে কে হবেন প্রেসিডেন্ট সে প্রশ্নে মুখে কুলুপ এঁটেছে সব পক্ষই।  বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, এই পার্লামেন্টে তার দলের থাকবে প্রাধান্য। কারণ তারা শতকরা ৮০ ভাগ আসনে বিজয়ী হয়েছেন। মিয়ানমার ৪৯ বছর ধরে শাসন করেছে সামরিক জান্তা। তাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের পর সু চির শিবির এখন নতুন সরকার গঠনের জন্য মুখিয়ে আছে। ওদিকে শুক্রবার বিদায়ী পার্লামেন্টের সদস্যদের অভিবাদন জানান। এতে উপস্থিত ছিলেন সব দলের বিদায়ী ও নতুন নির্বাচিত এমপি। ছিলেন সামরিক বাহিনী সমর্থিতরাও। ওই অনুষ্ঠানে তারা প্রচলিত রীতিতে নেচেছেন। খাবার খেয়েছেন। রাজধানী ন্যাপিডতে আবেগঘন অনুষ্ঠানে ছবি তুলেছেন। এনএলডির নতুন নির্বাচিত এমপি মিন্ট মিন্ট সোই বলেন, আমি ভীষণ খুশি। নারী অধিকার ও নারীদের জন্য অধিক সুবিধা সৃষ্টির জন্য আমি কঠোর কাজ করে যাব। রাজনীতিবিদরা আশাবাদী হলেও সামনের কিছুটা সময় উত্তেজনার হতে পারে। কারণ, সামরিক জান্তার করা খসড়া সংবিধানের অধীনে অং সান সুচি মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হতে পারবেন না। ওই সংবিধানের অধীনে নিরাপত্তা সংক্রান্ত তিনটি মন্ত্রণালয় ও পার্লামেন্টের এক চতুর্থাংশের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে সেনাবাহিনীর হাতে। আবার নির্বাচনের আগে ও পরে অং সান সুচি বলেছেন, তিনি থাকবেন প্রেসিডেন্টের ওপরে। কিভাবে তা হবে তা পরিষ্কার নয়। তবে তাকে যদি প্রেসিডেন্ট পদে বসাতে হয় তাহলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। এসব নিয়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বোঝাপড়ায় যেতে হবে এনএলডিকে। এরই মধ্যে এনএলডি নেতারা অতীতকে ভুলে, ভবিষ্যতকে সামনে এগিয়ে নেয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছেন সেনাবাহিনীকে। তারা বলেছেন, দ্রুততার সঙ্গে তারা সংবিধান নাড়াচাড়া করবেন না। দলের সবচেয়ে সম্মানীত নেতাদের অন্যতম টিন ও। তিনি বলেন, যদি তারা (সেনাবাহিনী) শুরুতে সংশোধনে সম্মত হয় তাহলে তার মাধ্যমে দেশের প্রতি তাদের আস্থার প্রকাশ পাবে। দেশবাসীর প্রতি তাদের সহানুভূতি প্রকাশ পাবে। তবে সেনাবাহিনীর ওপর এখনই চাপ প্রয়োগের নীতিতে নেই এনএলডি। উল্লেখ্য, নবনির্বাচিত এমপিরা আগামী সপ্তাহে পার্লামেন্টে তাদের স্পিকার নির্বাচিত করবেন। তারপরই পার্লামেন্ট প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হবে। ওদিকে অংশ সান সুচি তার দলের নেতৃত্ব দেয়ার পাশাপাশি দেশের নেতৃত্ব দেবেন এটা সবারই জানা। এক্ষেত্রে তিনি সংবিধানকে তুচ্ছ করে হলেও প্রেসিডেন্টের ওপরে থাকবেন। তার বক্তব্যে এটা স্পষ্ট। তাই চারদিকে আলোচনা শুরু হয়েছে কে প্রেসিডেন্ট পদে মনোনয়ন পাচ্ছেন? কিন্তু এ প্রশ্নের উত্তর এনএলডির কাছে গোপনীয়ই রয়ে গেছে। কোন সূত্র থেকে ইঙ্গিত দেয়া হয় নি কে হতে পারেন প্রেসিডেন্ট পদের প্রার্থী। ওদিকে এনএলডি ও সেনাবাহিনীর মধ্যে ক্ষমতা হস্তান্তরের সবচেয়ে পরিচিত মুখ পার্লামেন্টের স্পিকার শয়ে মান। তিনি এনএলডি ও সেনাবাহিনীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। আগামী দু’এক সপ্তাহের মধ্যে মিয়ানমার পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষ, নিম্ন কক্ষ ও সামরিক ব্লক প্রতিটি পক্ষ একজন করে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বাছাই করবে। তারপর তিনপক্ষের তিনজন প্রার্থীর ওপর পার্লামেন্টের যৌথ অধিবেশনে ভোট হবে। এই ভোটে বিজয়ী হবেন মিয়ানমারের বহুল কাঙ্খিত গণতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট। তিনি নতুন সরকার গঠন করবেন। তারপর মার্চের শেষে শুরু হবে সেই সরকারের কার্যকারিতা। সেনাবাহিনী সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির বিদায়ী এমপি টিন হতয়ে বলেন, বিভক্তি দূর করতে এবং স্বচ্ছতা আনার জন্য এক হয়ে কাজ করা উচিত সেনাবাহিনী ও এনএলডির। তাতে পরস্পরের মধ্যে বিশ্বাস বৃদ্ধি পাবে।

No comments:

Post a Comment