![]() |
| পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ভাইস চেয়ারম্যান সাদিক আহমেদ রচিত ‘সমতাসহ প্রবৃদ্ধি: বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে অতিথিরা |
‘আয় সমতাসহ প্রবৃদ্ধি: বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন
দেশের
উন্নতি হচ্ছে, সঙ্গে বাড়ছে আয়বৈষম্যও। গত ২০ বছরে এই বৈষম্য বেড়ে দ্বিগুণ
হয়েছে। এভাবে লম্বা সময় ধরে আয়বৈষম্য চলতে থাকলে সামাজিক ও রাজনৈতিক
অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
আয় সমতাসহ প্রবৃদ্ধি: বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ শীর্ষক গ্রন্থে এমন কথা উঠে এসেছে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) ভাইস চেয়ারম্যান সাদিক আহমেদ বইটির লেখক।
রাজধানীতে পিআরআইয়ের কার্যালয়ে মঙ্গলবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) প্রকাশিত এই গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর দুই উপদেষ্টা মসিউর রহমান ও এইচ টি ইমাম এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান।
সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামানের সঞ্চালনায় জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (আইএফএডি) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন আলমগীর এবং ইনস্টিটিউট অব মাইক্রোফিন্যান্সের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক মুস্তফা কে মুজেরী গ্রন্থটির ওপর আলোচনা করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর।
অনুষ্ঠানে ২৮০ পৃষ্ঠার এই বইটির সংক্ষিপ্তসার তুলে ধরেছেন সাদিক আহমেদ নিজেই। তিনি বলেন, গত ৩০ বছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ৫ শতাংশের ওপরে থাকছে, এমনকি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মন্দা থাকা সত্ত্বেও। দারিদ্র্যের হার কমছে প্রতিবছর, গ্রামীণ অর্থনীতিতে পরিবর্তন এসেছে। দেশ থেকে বিদায় নিয়েছে ‘মঙ্গা’। নারীর ক্ষমতায়নে আন্তর্জাতিক মহলেরও মনোযোগ আকর্ষণ করেছে বাংলাদেশ।
সাদিক আহমেদ বলেন, এই গল্প এখন দেশ-বিদেশের সবারই জানা। সামনে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা। সে অনুযায়ী জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৭-৮ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। এ জন্য বিনিয়োগের দরকার পড়বে জিডিপির বর্তমান হার ২৮ শতাংশ থেকে বেড়ে অন্তত ৩৪ শতাংশ।
বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের উদাহরণ সামনে এনে সাদিক আহমেদ কিছু নীতি-পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব দেন, যা তাঁর বইতে রয়েছে। তিনি বলেন, আজকের বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য অর্থ কোনো সমস্যা নয়, সমস্যা হচ্ছে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করতে পারাটা।
প্রবৃদ্ধির জন্য অবকাঠামো তৈরি এবং আয় সমতার জন্য সামাজিক ব্যয়—এই দুই বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে করনীতি ও কর প্রশাসনের সংস্কারের পরামর্শ দেন সাদিক আহমেদ। তিনি বলেন, ‘এত কিছুর পরও দক্ষ শ্রমিক তৈরিতে আমরা এখনো আগের জায়গাতেই আছি।’
গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাতে নীতি সংস্কার; গ্রামীণ অর্থনীতিতে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা এবং কিছু পদক্ষেপ থাকা সত্ত্বেও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য আরও সংস্কারের কথা গ্রন্থ তুলে ধরা হয়।
সবশেষে সাদিক আহমেদের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, দেশের ধনীরা ঠিকমতো আয়কর দেন না। এখন দরকার এমন একটা প্রগতিশীল ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করনীতি প্রণয়ন, যাতে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বেশি বেশি ব্যয়ের জন্য অর্থ পাওয়া যায়।
অর্থমন্ত্রী বইটি পড়ে প্রস্তুতি নিয়ে আসতে পারেননি বলে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আয়বৈষম্য বাড়ছে, এটা সত্য। তিনি মনে করেন, আয়বৈষম্য কমানো অত সহজ কাজ নয়। কয়েক বছরে দারিদ্র্যের হার কমার উদাহরণও দেন মন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী জানান, অবকাঠামো, বিশেষ করে রাস্তাঘাটের দিক থেকে ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের অবস্থা ভালো বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান বলেন, ‘আমরা যখন নতুন প্রবৃদ্ধির পথে এগোচ্ছি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে যখন গভীরভাবে যুক্ত, তখন সাদিক আহমেদের এই গ্রন্থ খুবই প্রাসঙ্গিক।’
বিশ্বের ১ শতাংশ লোকের হাতে ৯৯ শতাংশ সম্পদ থাকার উদাহরণ দিয়ে পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, অবিশ্বাস্য হলেও এটা সত্য এবং বাংলাদেশেও এ সমস্যা প্রকট হচ্ছে। ২০-২১ বছরে আয়বৈষম্য দ্বিগুণ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখনই নীতি-পদক্ষেপ না নিলে অবস্থা আরও খারাপের দিকে যাবে।
আয় সমতাসহ প্রবৃদ্ধি: বাংলাদেশের সাম্প্রতিক উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ শীর্ষক গ্রন্থে এমন কথা উঠে এসেছে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) ভাইস চেয়ারম্যান সাদিক আহমেদ বইটির লেখক।
রাজধানীতে পিআরআইয়ের কার্যালয়ে মঙ্গলবার বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) প্রকাশিত এই গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর দুই উপদেষ্টা মসিউর রহমান ও এইচ টি ইমাম এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান।
সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইদুজ্জামানের সঞ্চালনায় জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (আইএফএডি) সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন আলমগীর এবং ইনস্টিটিউট অব মাইক্রোফিন্যান্সের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক মুস্তফা কে মুজেরী গ্রন্থটির ওপর আলোচনা করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর।
অনুষ্ঠানে ২৮০ পৃষ্ঠার এই বইটির সংক্ষিপ্তসার তুলে ধরেছেন সাদিক আহমেদ নিজেই। তিনি বলেন, গত ৩০ বছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার ৫ শতাংশের ওপরে থাকছে, এমনকি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মন্দা থাকা সত্ত্বেও। দারিদ্র্যের হার কমছে প্রতিবছর, গ্রামীণ অর্থনীতিতে পরিবর্তন এসেছে। দেশ থেকে বিদায় নিয়েছে ‘মঙ্গা’। নারীর ক্ষমতায়নে আন্তর্জাতিক মহলেরও মনোযোগ আকর্ষণ করেছে বাংলাদেশ।
সাদিক আহমেদ বলেন, এই গল্প এখন দেশ-বিদেশের সবারই জানা। সামনে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা। সে অনুযায়ী জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৭-৮ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। এ জন্য বিনিয়োগের দরকার পড়বে জিডিপির বর্তমান হার ২৮ শতাংশ থেকে বেড়ে অন্তত ৩৪ শতাংশ।
বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের উদাহরণ সামনে এনে সাদিক আহমেদ কিছু নীতি-পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব দেন, যা তাঁর বইতে রয়েছে। তিনি বলেন, আজকের বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য অর্থ কোনো সমস্যা নয়, সমস্যা হচ্ছে বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করতে পারাটা।
প্রবৃদ্ধির জন্য অবকাঠামো তৈরি এবং আয় সমতার জন্য সামাজিক ব্যয়—এই দুই বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে করনীতি ও কর প্রশাসনের সংস্কারের পরামর্শ দেন সাদিক আহমেদ। তিনি বলেন, ‘এত কিছুর পরও দক্ষ শ্রমিক তৈরিতে আমরা এখনো আগের জায়গাতেই আছি।’
গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাতে নীতি সংস্কার; গ্রামীণ অর্থনীতিতে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা এবং কিছু পদক্ষেপ থাকা সত্ত্বেও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য আরও সংস্কারের কথা গ্রন্থ তুলে ধরা হয়।
সবশেষে সাদিক আহমেদের পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, দেশের ধনীরা ঠিকমতো আয়কর দেন না। এখন দরকার এমন একটা প্রগতিশীল ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করনীতি প্রণয়ন, যাতে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বেশি বেশি ব্যয়ের জন্য অর্থ পাওয়া যায়।
অর্থমন্ত্রী বইটি পড়ে প্রস্তুতি নিয়ে আসতে পারেননি বলে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আয়বৈষম্য বাড়ছে, এটা সত্য। তিনি মনে করেন, আয়বৈষম্য কমানো অত সহজ কাজ নয়। কয়েক বছরে দারিদ্র্যের হার কমার উদাহরণও দেন মন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রী জানান, অবকাঠামো, বিশেষ করে রাস্তাঘাটের দিক থেকে ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের অবস্থা ভালো বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান বলেন, ‘আমরা যখন নতুন প্রবৃদ্ধির পথে এগোচ্ছি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে যখন গভীরভাবে যুক্ত, তখন সাদিক আহমেদের এই গ্রন্থ খুবই প্রাসঙ্গিক।’
বিশ্বের ১ শতাংশ লোকের হাতে ৯৯ শতাংশ সম্পদ থাকার উদাহরণ দিয়ে পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, অবিশ্বাস্য হলেও এটা সত্য এবং বাংলাদেশেও এ সমস্যা প্রকট হচ্ছে। ২০-২১ বছরে আয়বৈষম্য দ্বিগুণ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখনই নীতি-পদক্ষেপ না নিলে অবস্থা আরও খারাপের দিকে যাবে।

No comments:
Post a Comment