Saturday, February 27, 2016

ঢাকায় ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ আজ

ক্রিকেটবিশ্ব আজ আরেকটি যুদ্ধ দেখতে যাচ্ছে। ঢাকার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ভারত-পাকিস্তান। এশিয়ার দুই ক্রিকেট শক্তি মাঠে নামে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লড়াইয়ে। এ লড়াই কেবল মাঠেই সীমাবদ্ধ থাকে না, ছড়িয়ে যায় রাজপ্রাসাদ থেকে জীর্ণ কুটিরেও। দুই দেশের কোটি কোটি দর্শক অপলক তাকিয়ে থাকবে টিভি’র দিকে। মাঠে আসা দর্শকরা গলা ফাটিয়ে দুই দলকে সমর্থন দিবে। এশিয়া কাপে এবারই প্রথম খেলা হচ্ছে টি-টোয়েন্টি ফরমেটে। তবে এশিয়া কাপের ওয়ানডে লড়াইয়ে এই দুই দল মুখোমুখি হয়েছে ১১ বার। সেখান একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হলেও দুই দলের জয়-পরাজয় সমানে সমান। এরই মধ্যে পাকিস্তান নিজেদেরকে এই টুর্নামেন্টে ফেবারিট দাবি করেছে। অন্যদিকে ধোনিরা বরাবরই ফেভারিট। এবারও শুরুটা বেশ দাপুটে। তবে মাঠের লড়াইয়ের আগে দুই দলের ক্রিকেটীয় পরিসংখ্যান ও র‌্যাঙ্কিং বিবেচনায় কার সম্ভাবনা বেশি তা বলা কঠিন। আজ সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় এই ক্রিকেট যুদ্ধে আরও একবার দুই দলের আপ্রাণ চেষ্টা থাকবে নিজেদের ছাড়িয়ে যাওয়ার।
আইসিসি’র টি-টোয়েন্টি র‌্যাঙ্কিংয়ে ভারত এখন শীর্ষে। আর পাকিস্তান আছে ৫ম স্থানে। দুই দলের এই পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি লড়ায়ে এগিয়ে ভারত। ৬ বারের দেখায় ভারতের জয় ৪ পাকিস্তানের ১ বার।  কারণ টি-টোয়েন্টি লড়াইয়ে প্রথম দেখা ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে সেই ম্যাচটি টাই হয়েছিল। একই আসরে দ্বিতীয় দেখাতে জয় পায় ভারত এরপর আরও ২ বার বিশ্বকাপেই দেখা হয় দুই দলের। ২০১২ সালে কলম্বো ও ২০১৪ সালে ঢাকাতেও জয় পায় ভারত। টি-টোয়েন্টিতে ভারতের বিপক্ষে প্রথম জয় আসে ২০১২ সালে সেটিও ভারতের মাটিতে ব্যাঙ্গালুরুতে। একটি মাত্র দ্বি-পক্ষীয় সিরিজই খেলেছিল দুই দল। দ্বিতীয় ম্যাচে অবশ্য ভারত আহমেদাবাদে জয় তুলে সিরিজে সমতা আনে। ২০১৪ বিশ্বকাপে ঢাকাতেই টি-টোয়েন্টিতে শেষ মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। আবারও এই দেশের মাটিতে তারা এশিয়া কাপে মুখোমুখি হচ্ছে দুই বছর পর।
এই পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি লড়াইয়ে দুই দলের সেরা ব্যাটসম্যানই আছেন এবার এশিয়াকাপে। ভারতের হয়ে এই পর্যন্ত পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৫০ রান করেছেন বিরাট কোহলি। অন্যদিকে পাকিস্তানের হয়ে ভারতের বিপক্ষে ১৪৭ রান করেছেন মো. হাফিজ। এছাড়াও ৬ ম্যাচে ১৩৪ রান করা  সোয়েব মালিকও একই সমান সংখ্যক ম্যাচে ১১৭ রান করা যুবরাজ সিংও আছেন ব্যাটিং লাইনআপে। পাকিস্তানের অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি ভারতের ৬টি ম্যাচ খেললেও ব্যাট হাতে খুব একটা সফল নন। তবে বল হাতে নিয়েছেন ৪টি উইকেট। এছাড়াও মো. আমির ভারতের বিপক্ষে এখনও কোনো টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেননি। ফিক্সিংয়ের কলঙ্ক কাটিয়ে তিনি ফিরেছেন পাকিস্তান দলে। এছাড়াও ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে ১১ উইকেটে নেয়া পাকিস্তানের সব চেয়ে সফল বোলার উমর গুল নেই দলে। সেই সঙ্গে ভারতের পক্ষে সফল বোলার ইরফান পাঠানও নেই দলে।
আজ  মিরপুর শেরে বাংলা মাঠে ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে মো. ইরফান, ওয়াহাব রিয়াজ, মো. সামি, মো. আমির পেস বোলিংয়ে বেশ কার্যকর হতে পারে। কারণ, ভারতের পেস দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশ বেশ সফল ছিল। হারলেও ভারতের ব্যাটিং লাইনআপকে খুব কঠিন সময় পার করতে হয়েছিল। তবে পাকিস্তানের বোলারদের বিপক্ষে দুই ওপেনার শিখর ধাওয়ান ও রোহিত শর্মাও হতে পারেন বড় ফ্যাক্টর। শিখর প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে ২ রানে আউট হলেও  রোহিত শর্মা ৮৩ রানের একটি ঝকঝকে ইনিংস খেলেন। অন্যদিকে বিরাট কোহলি অথবা অধিনায়াক ধোনি হতে পারেন পাকিস্তানের বিপক্ষে অন্যতম প্রতিবন্ধকতা। তবে পাক অধিনায়ক আফ্রিদি নিজে যে কোনো দলের বিপক্ষে একাই ম্যাচ বের করে নিতে পারেন। তবে লড়াইটা যখন দুই চিরশত্রুর তখন দুই দলের প্রতিটি বোলার-ব্যাটসম্যান প্রস্তুত থাকবে রণক্ষেত্রে নিজের সেরাটা দিতে।

No comments:

Post a Comment