সুবিস্তৃত
পরিসর আর চার দিকে কয়েক স্তরের নিরাপত্তার জাল। এমনই এক পরিবেশে দেশের
বইপ্রেমীদের অপেক্ষার পালা শেষ হচ্ছে। মহান ভাষার মাস ফেব্রুয়ারির প্রথম
দিনে আজ থেকে শুরু হচ্ছে প্রাণের অমর একুশে গ্রন্থমেলা। মাতৃভাষা বাংলার
মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান
জানিয়ে বাংলা একাডেমি প্রায় তিন দশক ধরে এ মেলার আয়োজন করে আসছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেলা ৩টায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে মাসব্যাপী
মেলার উদ্বোধন করবেন। তারপরই সর্বসাধারণের জন্য মেলা উন্মুক্ত করে দেয়া
হবে।
প্রতি বছরই নিয়মিত অমর একুশে গ্রন্থমেলার আয়োজন করা হলেও এবারের মেলাকেই সর্বশ্রেষ্ঠ বলে অভিহিত করছে বাংলা একাডেমি। প্রতিষ্ঠানটির হীরকজয়ন্তী উপলে এবারের গ্রন্থমেলার মূল থিম নির্বাচিত হয়েছে ‘বাংলা একাডেমির হীরকজয়ন্তী’। বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান উভয় অংশ মিলে গতবারের তুলনায় পরিসর প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি করে এবার প্রায় ৪ লাখ ৭০ হাজার বর্গফুট এলাকাজুড়ে বইমেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলার পরিসর যেমন বাড়ছে সাথে বাড়ছে নিরাপত্তাও। সম্পূর্ণ এলাকায় থাকছে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা।
অমর একুশে গ্রন্থমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশকে এবার ১৫টি গুচ্ছে সজ্জিত করা হয়েছে। চত্বরগুলো নামাঙ্কিত থাকবে ভাষাশহীদ আবুল বরকত, আবদুস সালাম, শফিউর রহমান, রফিকউদ্দিন আহমদ, আবদুল জব্বার, শহিদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরী, জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, আলতাফ মাহমুদ, সিরাজুদ্দীন হোসেন, ডা: আলীম চৌধুরী, সেলিনা পারভীন, শিশুসাহিত্যিক সাজেদুল করিম, হাবীবুর রহমান, ফয়েজ আহমদ এবং রোকনুজ্জামান খান দাদাভাইয়ের নামে। ৯২টি লিটল ম্যাগাজিনকে বর্ধমান হাউজের দণি পাশে লিটল ম্যাগাজিন কর্নারে স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
এবারের গ্রন্থমেলায় সার্বক্ষণিক বিপুল পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে। দুই শতাধিক সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি থাকবে বেশ কয়েকটি ওয়াচ টাওয়ার। গত বছরের বইমেলাকে কেন্দ্র করে খুন হয়েছেন ব্লগার অভিজিৎ রায়। সে কারণেই এবার থাকছে নিরাপত্তার বেড়াজাল।
কিছুটা শঙ্কার মধ্যেও এবার মেলা নিয়ে আশাবাদী প্রকাশকেরাও। চলমান রাজনৈতিক পরিবেশও তাদের কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে বলেই জানালেন তারা। আদর্শ প্রকাশনীর প্রকাশক মামুনুর রশিদ নয়া দিগন্তকে বলেন, এবার পরিসর বেড়েছে, বাড়তি নিরাপত্তাও থাকছে। নতুন পরিবেশে আমাদের আশাটাও বেশি। তারপরও গত বছর লেখক হত্যার ঘটনা ঘটেছে। পরেব কয়েকজন লেখক-প্রকাশক হামলার শিকার হয়েছেন। এ কারণে একটু আতঙ্কও আছে বলে জানান তিনি।
সূচীপত্র প্রকাশনীর প্রকাশক সাঈদ বারী নয়া দিগন্তকে বলেন, এবার পরিসর বেড়েছে, রাজনৈতিক পরিবেশও কিছুটা শান্ত। গত দু’তিন বছর বইয়ের বিক্রি খুব ভালো হয়নি। এবার সার্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আশাবাদী হওয়াই যায়। তবে লেখক-প্রকাশকদের ওপর হামলার বিষয়টিও তাদের ভাবাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এবারের মেলায় বাংলা একাডেমি প্রকাশিত বই ৩০ শতাংশ কমিশনে এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান প্রকাশিত বই ২৫ শতাংশ কমিশনে বিক্রি করবে। মেলায় আগত দর্শনার্থীদের চলাচলের সুবিধার্থে উদ্যানের সীমানা প্রাচীর ভেঙে এবার একটি গেট বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে দর্শনার্থীদের চলাচলে সুবিধা হবে। বের হওয়ার জন্যও থাকবে চারটি গেট। প্রকাশকদের অনুরোধে এবার শিশুতোষ গ্রন্থের প্রকাশনাগুলো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মেলার সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বিকেলে মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়কমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখবেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব বেগম আক্তারী মমতাজ। স্বাগত ভাষণ দেবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি থাকবেন ব্রিটিশ কবি ও জীবনানন্দ অনুবাদক জো উইন্টার, চেক প্রজাতন্ত্রের লেখক-গবেষক রিবেক মার্টিন, আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সমিতির (আইপিএ) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক রিচার্ড ডেনিস পল শার্কিন এবং জোসেফ ফেলিক্স বুরঘিনো। রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশন করবেন রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা এবং নজরুলসঙ্গীত পরিবেশন করবেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পৌত্রী অনিন্দিতা কাজী।
গ্রন্থমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৫’ প্রদান করবেন এবং সৈয়দ শামসুল হক রচিত ও বাংলা একাডেমি প্রকাশিত ‘বঙ্গবন্ধুর বীরগাথা’ বইয়ের ব্রেইল ও অডিও সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর হাতে বাংলা একাডেমি প্রকাশিত ‘আধুনিক বাংলা অভিধান’ তুলে দেয়া হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক এমেরিটাস আনিসুজ্জামান।
গ্রন্থমেলার সময়সূচি : গ্রন্থমেলা আজ ১ ফেব্র“য়ারি থেকে ২৯ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ছুটির দিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা এবং একুশে ফেব্র“য়ারি সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা চলবে।
প্রতি বছরই নিয়মিত অমর একুশে গ্রন্থমেলার আয়োজন করা হলেও এবারের মেলাকেই সর্বশ্রেষ্ঠ বলে অভিহিত করছে বাংলা একাডেমি। প্রতিষ্ঠানটির হীরকজয়ন্তী উপলে এবারের গ্রন্থমেলার মূল থিম নির্বাচিত হয়েছে ‘বাংলা একাডেমির হীরকজয়ন্তী’। বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান উভয় অংশ মিলে গতবারের তুলনায় পরিসর প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি করে এবার প্রায় ৪ লাখ ৭০ হাজার বর্গফুট এলাকাজুড়ে বইমেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলার পরিসর যেমন বাড়ছে সাথে বাড়ছে নিরাপত্তাও। সম্পূর্ণ এলাকায় থাকছে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা।
অমর একুশে গ্রন্থমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশকে এবার ১৫টি গুচ্ছে সজ্জিত করা হয়েছে। চত্বরগুলো নামাঙ্কিত থাকবে ভাষাশহীদ আবুল বরকত, আবদুস সালাম, শফিউর রহমান, রফিকউদ্দিন আহমদ, আবদুল জব্বার, শহিদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরী, জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, আলতাফ মাহমুদ, সিরাজুদ্দীন হোসেন, ডা: আলীম চৌধুরী, সেলিনা পারভীন, শিশুসাহিত্যিক সাজেদুল করিম, হাবীবুর রহমান, ফয়েজ আহমদ এবং রোকনুজ্জামান খান দাদাভাইয়ের নামে। ৯২টি লিটল ম্যাগাজিনকে বর্ধমান হাউজের দণি পাশে লিটল ম্যাগাজিন কর্নারে স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
এবারের গ্রন্থমেলায় সার্বক্ষণিক বিপুল পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে। দুই শতাধিক সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি থাকবে বেশ কয়েকটি ওয়াচ টাওয়ার। গত বছরের বইমেলাকে কেন্দ্র করে খুন হয়েছেন ব্লগার অভিজিৎ রায়। সে কারণেই এবার থাকছে নিরাপত্তার বেড়াজাল।
কিছুটা শঙ্কার মধ্যেও এবার মেলা নিয়ে আশাবাদী প্রকাশকেরাও। চলমান রাজনৈতিক পরিবেশও তাদের কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে বলেই জানালেন তারা। আদর্শ প্রকাশনীর প্রকাশক মামুনুর রশিদ নয়া দিগন্তকে বলেন, এবার পরিসর বেড়েছে, বাড়তি নিরাপত্তাও থাকছে। নতুন পরিবেশে আমাদের আশাটাও বেশি। তারপরও গত বছর লেখক হত্যার ঘটনা ঘটেছে। পরেব কয়েকজন লেখক-প্রকাশক হামলার শিকার হয়েছেন। এ কারণে একটু আতঙ্কও আছে বলে জানান তিনি।
সূচীপত্র প্রকাশনীর প্রকাশক সাঈদ বারী নয়া দিগন্তকে বলেন, এবার পরিসর বেড়েছে, রাজনৈতিক পরিবেশও কিছুটা শান্ত। গত দু’তিন বছর বইয়ের বিক্রি খুব ভালো হয়নি। এবার সার্বিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে আশাবাদী হওয়াই যায়। তবে লেখক-প্রকাশকদের ওপর হামলার বিষয়টিও তাদের ভাবাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এবারের মেলায় বাংলা একাডেমি প্রকাশিত বই ৩০ শতাংশ কমিশনে এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান প্রকাশিত বই ২৫ শতাংশ কমিশনে বিক্রি করবে। মেলায় আগত দর্শনার্থীদের চলাচলের সুবিধার্থে উদ্যানের সীমানা প্রাচীর ভেঙে এবার একটি গেট বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে দর্শনার্থীদের চলাচলে সুবিধা হবে। বের হওয়ার জন্যও থাকবে চারটি গেট। প্রকাশকদের অনুরোধে এবার শিশুতোষ গ্রন্থের প্রকাশনাগুলো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মেলার সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বিকেলে মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়কমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখবেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব বেগম আক্তারী মমতাজ। স্বাগত ভাষণ দেবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি থাকবেন ব্রিটিশ কবি ও জীবনানন্দ অনুবাদক জো উইন্টার, চেক প্রজাতন্ত্রের লেখক-গবেষক রিবেক মার্টিন, আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সমিতির (আইপিএ) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক রিচার্ড ডেনিস পল শার্কিন এবং জোসেফ ফেলিক্স বুরঘিনো। রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশন করবেন রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা এবং নজরুলসঙ্গীত পরিবেশন করবেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পৌত্রী অনিন্দিতা কাজী।
গ্রন্থমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৫’ প্রদান করবেন এবং সৈয়দ শামসুল হক রচিত ও বাংলা একাডেমি প্রকাশিত ‘বঙ্গবন্ধুর বীরগাথা’ বইয়ের ব্রেইল ও অডিও সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর হাতে বাংলা একাডেমি প্রকাশিত ‘আধুনিক বাংলা অভিধান’ তুলে দেয়া হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক এমেরিটাস আনিসুজ্জামান।
গ্রন্থমেলার সময়সূচি : গ্রন্থমেলা আজ ১ ফেব্র“য়ারি থেকে ২৯ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ছুটির দিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা এবং একুশে ফেব্র“য়ারি সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা চলবে।

No comments:
Post a Comment