Monday, February 22, 2016

বাহুবলে ৪ শিশু হত্যা: আরজু- বশিরের রিমান্ড মঞ্জুর

হবিগঞ্জের বাহুবলে চার শিশু হত্যার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আসামি আরজু মিয়াকে ৭ দিন ও বশির মিয়াকে ৫ দিনের রিমান্ডে দিয়েছেন আদালত। সোমবার সকালে হবিগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কৌশিক আহাম্মদ খোন্দকারের আদালতে দুই আসামির ১০ দিন করে রিমান্ডের আবেদ করলে বিচারক এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বাদিপক্ষের আইনজীবী ত্রিলোক কান্তি চৌধুরী বিজন জানান, চার শিশু হত্যা চাঞ্চল্যকর মামলা। ইতিমধ্যে ২ আসামি জুয়েল ও রুবেলের জবানবন্দিতে ঘটনার অনেক রহস্যই বেরিয়ে এসেছে। আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ঘাটনের জন্য আরজু ও বশিরকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রাটিকি গ্রামের ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে সুন্দ্রাটিকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র জাকারিয়া শুভ (৮), আবদাল মিয়ার ছেলে প্রথম শ্রেণির ছাত্র মনির মিয়া (৭), আব্দুল আজিজের ছেলে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র তাজেল মিয়া (১০) ও সুন্দ্রাটিকি আনওয়ারুল উলুম ইসলামিয়া মাদ্রাসার নুরানী প্রথম শ্রেণির ছাত্র আব্দুল কাদিরের ছেলে  ইসমাইল মিয়াকে (১০)অপহরণ করা হয়।
পাঁচদিন পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে গ্রাম থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরের ইছারবিল খালের পাশে বালুচাপা দেয়া অবস্থায় ওই চার শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় ওইদিনই প্রধান অভিযুক্ত আবদুল আলী বাগাল ও তার ছেলে জুয়েল মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন বৃহস্পতিবার তাদেরকে ১০ দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত। 
এদিকে বৃহস্পতিবার আবদুল আলী বাগালের আরেক ছেলে রুবেল মিয়ার সঙ্গে আরজু মিয়া ও বশির মিয়াকেও গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের মাঝে রুবেল শুক্রবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আর জুয়েল রোববার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
এদিকে গত শনিবার গ্রামবাসী ঘেরাও দিয়ে থানায় খবর দিলে বশিরের ভাই সালেহ উদ্দিন আহমেদকে পুলিশ গিয়ে আটক করে। পরে তাকে ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
রোববার তাকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির ওসি মুক্তাদির হোসেন। সোমবার বেলা আড়াইটা পর্যন্ত তার রিমান্ড আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি।
পুলিশের গাফিলতি তদন্তে কমিটি
এদিকে চার শিশু হত্যার ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি আছে কি না খতিয়ে দেখতে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলামকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন জেলা পুলিশ সুপার।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি গঠিত এই কমিটির অন্য সদস্যরা হচ্ছেন- হবিগঞ্জ ইন সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায় এবং হবিগঞ্জ কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক কাজী কামাল উদ্দিন।
কমিটিকে মঙ্গলবারের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তবে সোমবার কমিটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম জানান, তিনি তদন্ত কমিটি গঠন সংক্রান্ত কোন চিঠি পাননি।
হবিগঞ্জের ছাত্র ফোরামের মানববন্ধন
৪ শিশু হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবিতে মানববন্ধন করেছে হবিগঞ্জ ছাত্র সমন্বয় ফোরাম।
সোমবার সকালে সাইফুর রহমান টাউন হলের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে জেলার সকল স্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
সংগঠনের সভাপতি সুলতান মাহমুদ কাউসারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা রেড ক্রিসেন্ট ইউনিট সেক্রেটারী আতাউর রহমান সেলিম, চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাস্টি পরিচালক মিজানুর রহমান মিজান, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ডা. ইশতিয়াক রাজ চৌধুরী প্রমূখ।
বক্তারা এ বর্বর ঘটনায় জড়িত সকলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। পরে সংগঠনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের জন্য মানবিক সাহায্য তোলা হয়।

No comments:

Post a Comment