Thursday, February 4, 2016

পদ্মা সেতুর জন্য অন্য প্রকল্পে সমস্যা হবে না -সংসদে প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় সংসদে গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে দেশে চলমান অন্য প্রকল্পের অর্থায়নে কোনো সমস্যা হবে না। এ পর্যন্ত যত প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, এর সবগুলোই যথাসময়ে বাস্তবায়িত হয়েছে এবং হচ্ছে। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির সাংসদ পীর ফজলুর রহমানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সাংসদদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় যেসব উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর কাজ ঠিকভাবে হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব কাজ দেশের জনগণের টাকায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। পাই পাই করে হিসাব করে দেখবেন, এসব টাকা ঠিকভাবে খরচ হচ্ছে কি না। তাহলেই দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা প্রত্যাশা অনুযায়ী এগিয়ে যাবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের মাধ্যমে বড় বড় প্রকল্প নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের সক্ষমতা অর্জন করেছি।’ প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বের আগে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।
ওই সম্পূরক প্রশ্নের আগে ফজলুর রহমানের করা এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পে ব্যয় হবে ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা। পুরো টাকাই দেশের মানুষের অর্জিত অর্থ। এতে কারও আর্থিক সহায়তা নেই। প্রকল্পের প্রতিটি রড, ইট, পাথর, সিমেন্ট জনগণের টাকায় কেনা।
স্বতন্ত্র সাংসদ রুস্তম আলী ফরাজীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার প্রথম দিন থেকেই সড়ক পরিবহনের পাশাপাশি রেলও চলাচল করবে। রেলপথ নির্মাণের জন্য চায়না রেলওয়ে গ্রুপের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। বাণিজ্যিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনাও সম্পন্ন হয়েছে। সে অনুযায়ী উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবও তৈরি করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ফরিদপুর থেকে ভাঙ্গা হয়ে বরিশাল পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভাঙ্গা-বরিশাল ও পায়রা বন্দর পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে দেশের সব মহাসড়কই চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ শেষ হয়েছে। এরপর ছয় লেন করা হবে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কও চার লেন হয়ে গেছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক একেবারে তামাবিল পর্যন্ত চার লেন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে দরকার হলে ঢাকা-বরিশাল পথ চার লেন করা হবে।
সামশুল হক চৌধুরীর লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালের পর থেকে দেশে ছয়টি নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। এ সময় ৩৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ‘বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ’ এবং ‘রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ’ স্থাপনের আইন প্রণয়নের কাজ চলছে।
লক্ষ্মীপুরের সাংসদ মো. আবদুল্লাহর লিখিত প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে সারা দেশে ৭৫ হাজার একর জমিতে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। এর মাধ্যমে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হবে। রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পাবে ৪০ বিলিয়ন ডলার।

No comments:

Post a Comment