Sunday, February 21, 2016

জাঠ বিক্ষোভে নিহত ১০, দিল্লিতে পানি সংকট

ভারতে জাঠ সম্প্রদায়ের আন্দোলনে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে বিজেপিশাসিত হরিয়ানা রাজ্য। বিক্ষোভ দমাতে পুলিশের গুলিতে এখন পর্যন্ত ১০জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এছাড়াও আহত হয়েছেন দেড়শ' বিক্ষোভকারী।
বিক্ষোভের জেরে দেশটির বিভিন্ন এলাকাসহ রাজধানী দিল্লিতেও তীব্র পানি সংকট তৈরি হয়েছে। খবর আনন্দবাজার, আলজাজিরা ও বিবিসি'র।
সপ্তাহব্যাপী বিক্ষোভে রোববার দিল্লির উপকণ্ঠে গুরগাঁওতে একটি রেল স্টেশনের টিকিট কাউন্টার জ্বালিয়ে দেয়া হয়। গুরগাঁওতে কারফিউ জারি ছিল, টহল দিচ্ছিল সেনাবাহিনীও।
বিক্ষোভকারীরা হরিয়ানার ভিওয়ানিতে একটি ব্যাংকের এটিএম বুথেও আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে খোদ রাজধানী দিল্লিতেও। দিল্লি থেকে যে রাস্তাটি হরিয়ানার বাহাদুরগড়ের দিকে যায়, রাজধানীর জাঠরা সকাল থেকে সেটির ওপর বসে পড়ে অবরোধ শুরু করেছেন।
আজ আরও নতুন নতুন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে বিক্ষোভ। বিক্ষোভের জেরে দেশের রাজধানী দিল্লিতেও তীব্র পানি সংকট তৈরি হয়েছে।
রোহটাক, ভিওয়ানি, সোনপত, ঝজ্জর বা হিসারের মতো হরিয়ানার প্রায় সব বড় শহরেই কারফিউ জারি আছে। পুরো রাজ্যে জনজীবন সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত, বহু জায়গায় বিক্ষোভকারীরা আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন।
হরিয়ানাতে এই বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর মোট সাতশ'রও বেশি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে অন্তত সাতটি স্টেশনে।
এদিকে হরিয়ানা থেকে যে মুনাক ক্যানাল রাজধানী দিল্লিতে পানি সরবরাহ করে থাকে, বিক্ষোভকারীরা সেখানে শনিবার সরঞ্জাম ভাংচুর করার পর সেই সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। দিল্লিতে শুরু হয়েছে পানির জন্য হাহাকার।
দিল্লি সরকার ইতিমধ্যেই শহরের নানা প্রান্তে পানির রেশনিং শুরু করে দিয়েছে। শহরের নানা জায়গায় পানি সরবরাহ বন্ধ করার দেয়ার সতর্কতাও জারি করা হয়েছে।
পানি সংকটের কারণে দিল্লিতে সোমবার সব স্কুল বন্ধ রাখারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
হরিয়ানা সরকার বিক্ষোভকারীদের সংযত হতে বার বার আবেদন জানালেও জাঠ নেতারা বলছেন, তাদের জন্য বিশেষ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করে অর্ডিন্যান্স চালু না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।
হরিয়ানা সরকারের মন্ত্রী অনিল ভিজ বলেছেন, ‘ক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে সরকারের পক্ষে কোনো আলোচনা চালানো সম্ভব নয়!’
সরকারি চাকরি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোটার দাবিতে এক সপ্তাহ ধরেই বিক্ষোভ করছে জাঠরা।
আরও পড়ুন
 হরিয়ানার আঁচে দিল্লিতে আগুন
কোটার দাবিতে জাঠ আন্দোলন * স্টেশনে স্টেশনে অবরোধ * ৫ শহরে কারফিউ * ৯ জেলায় সেনা মোতায়েন * দেখামাত্র গুলির নির্দেশ
ভারতের জাঠ সম্প্রদায়ের আন্দোলনে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে দেশটির বিজেপিশাসিত হরিয়ানা রাজ্য। অগ্নিগর্ভ হরিয়ানার সে আঁচ লেগেছে রাজধানী দিল্লিতেও। সরকারি চাকরিতে কোটা সংরক্ষণের দাবিতে এই আন্দোলন চলছে। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্যের ১১ জেলায়। ৫ শহরে জারি করা হয়েছে কারফিউ। ৯টি জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে সেনাবাহিনী। বিভিন্ন স্থানে চলছে সেনাবাহিনীর ফ্লাগমার্চ। এই আন্দোলনে গত কয়েক দিনে হরিয়ানায় তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৬০ জনের বেশি। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ২৩ জন। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া ও এনডিটিভির।
সরকারি চাকরি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোটার দাবিতে এক সপ্তাহ ধরেই বিক্ষোভ করছে জাঠরা। শুক্রবার রোতাক-দিল্লি বাইপাসের পাশের এক সড়ক অবরোধ করা বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশ গুলি চালালে একজন নিহত হয়। এরপরই বিক্ষোভকারীরা অর্থমন্ত্রীর বাসভবনে হামলা চালায়। উদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যে শনিবার সকাল থেকে আরও সহিংস হয়ে উঠেছে বিক্ষোভকারীরা। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে হরিয়ানার ১১টি জেলায়। রেশ ছড়িয়ে পড়ে দিল্লিতেও। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে আন্দোলনকারীদের সমর্থনে বিক্ষোভ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরের ক্যাম্পাসে জাঠ শিক্ষার্থীরা শনিবার বিক্ষোভে নামে। জাতীয় সড়কও অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, হরিয়ানার বিভিন্ন স্টেশনেও অবরোধ হয়েছে। গত কয়েক দিনে বাতিল হয়েছে ৫০০ ট্রেনের যাত্রা। জিন্দের বুদ্ধখেরা রেল স্টেশনে ভাংচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা। আগুনে নষ্ট হয়ে গেছে সিগন্যাল প্যানেল। ফলে ব্যাহত হচ্ছে রেল পরিষেবা। আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে হরিয়ানা রোডওয়ের একটি বাসে। হরিয়ানার মধ্যে দিয়ে যাওয়া ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে বিক্ষোভকারীরা। অবরোধের জেরে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। বন্ধ হয়ে পড়েছে রোহতক, জিন্দ, ভিওয়ানি ও হরিয়ানার অন্যান্য প্রান্তের সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের সরবরাহ। দিল্লির লাগোয়া গুরগাঁও, সিরসাসহ সংলগ্ন এলাকায় বন্ধ রাখা হয়েছে স্কুল-কলেজ। আর শনিবার বিক্ষোভের জেরে স্কুল-কলেজে ছুটি ঘোষণা করেছে হরিয়ানা সরকার। হরিয়ানার বেশ কয়েকটি জেলায় বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবাও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শুক্রবার রাত থেকেই হরিয়ানার রোহতক ও ভিওয়ানিতে কারফিউ জারি করা হয়। শনিবার আরও তিন শহর গোহানা, সনিপাট ও ঝাজারে কারফিউ জারি করে। প্রয়োজনে দেখামাত্র গুলির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। উত্তাল এই পরিস্থিতিতে শান্তি-শৃংখলা বজায় রাখার জন্য আন্দোলনকারীদের কাছে আবেদন জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং ও হরিয়ানার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ভুপিন্দর সিং হুডা। আধাসামরিক বাহিনীর অতিরিক্ত ৩ হাজার ৩০০ কর্মীকে হরিয়ানা পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাজনাথ। জাঠ আন্দোলনের জেরে সংরক্ষণ বিল আনার আশ্বাস দিয়ে আন্দোলন প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল। সম্প্রতি জাঠ সম্প্রদায়কে অনগ্রসর শ্রেণীর (ওবিসি) আওতাভুক্ত করে বিশেষ সুবিধা দেয়া ও রোজগারের ভিত্তিতে আলাদাভাবে আরও ১০ শতাংশ সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয় হরিয়ানা সরকার। কিন্তু সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়। ওবিসি কমিশনের দায়ের করা মামলায় জাঠদেও কোটা সংরক্ষণের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত খারিজ করে দেয় সুপ্রিমকোর্ট। আর জাঠদের আর্থিক সুবিধা সংরক্ষণের ওপর স্থগিতাদেশও জারি করেন হাইকোর্ট। এতে প্রতিবাদে জ্বলে উঠেছে জাঠরা।
ভারতে রাজ্যে রাজ্যে অভিযান
ছাত্রনেতা কানহাইয়া কুমার রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেননি
জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে (জেএনইউ) সৃষ্ট ঘটনায় তোলপাড় চলছে ভারতে। আসামি ধরতে রাজ্যে রাজ্যে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। ২০০১ সালে ভারতীয় পার্লামেন্টে হামলার দায়ে অভিযুক্ত আফজাল গুরুকে ফাঁসি দিয়েছে ভারত। তার প্রথম বর্ষপূর্তিতে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কানহাইয়া কুমার সম্প্রতি র‌্যালির আয়োজন করেন। সেখানে ভারতবিরোধী স্লোগান দেয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ফলে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে আটক করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট ইউনিয়নের সভাপতি কানহাইয়া কুমারকে।
পুলিশ বলছে, ওই র‌্যালি ও বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী সব ছাত্রকে চিহ্নিত করা হচ্ছে। তাদেরকে গ্রেফতারে ৫টি রাজ্যে অভিযান চলছে। রাজ্যগুলো হল : দিল্লি, উত্তর প্রদেশ, বিহার, মহারাষ্ট্র, জম্মু-কাশ্মীর। গত ৯ ফেব্রুয়ারি ওই র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে খোদ ভারতের নিরাপত্তা সূত্র বলছে, আফজাল গুরুর ফাঁসি কার্যকরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত ছাত্রনেতা কানহাইয়া কুমার রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেননি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গ্রহণ দিল্লির কিছু পুলিশ কর্মকর্তার অতি উৎসাহী ভূমিকার ফল হতে পারে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্ক্রল ডট ইন খবরটি নিশ্চিত করেছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, নিরাপত্তা সংস্থাগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে, আফজাল গুরুর স্মরণে একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কানহাইয়া কুমার। তবে অনুষ্ঠানে তিনি ভারতবিরোধী কোনো স্লোগান বা বক্তব্য দেননি; যার কারণে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা যায়। কর্মকর্তারা বলছেন, ভারতবিরোধী স্লোগান দিয়েছিলেন কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার (মাওবাদী) সহযোগী সংগঠন ডেমোক্রেটিক স্টুডেন্টস ইউনিয়নের (ডিএসইউ) সদস্যরা। এ সংগঠনটিকে উগ্র বামপন্থী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

No comments:

Post a Comment