Thursday, February 18, 2016

বেসরকারি খাতের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র এস আলম গ্রুপের by ওমর ফারুক

সহায়তায় চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র
স্থাপনের লক্ষ্যে এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠান এসএস
পাওয়ার-১ লিমিটেড এবং এসএস পাওয়ার-২ লিমিটেডের
সাথে গত মঙ্গলবার পাওয়ার ডিভিশন, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড,
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়
উৎপাদন ক্ষমতা ১২২৪ মেগাওয়াট ; ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় ; ৪৫ মাসেই কাজ শেষের চুক্তি স্বাক্ষর
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এক হাজার ২২৪ মেগাওয়াট মতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হচ্ছে। এটি বেসরকারি খাতের দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ প্রকল্প। এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন এসএস পাওয়ার লিমিটেড ও চীনের দু’টি প্রতিষ্ঠান যৌথ উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এ প্রকল্পের ৭০ শতাংশের মালিকানা থাকবে এস আলম গ্রুপের ছয়টি প্রতিষ্ঠানের। অবশিষ্ট ৩০ শতাংশের মধ্যে সেপকো ২০ শতাংশ ও চীনের অপর প্রতিষ্ঠান এইচটিজি ১০ শতাংশের মালিক হবে। চুক্তিতে ৪৫ মাসের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর ভূমি উন্নয়নকাজ আগামী মাসে শুরু হচ্ছে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিদ্যুৎ ভবনে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও এসএস পাওয়ারের মধ্যে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন ও বিদ্যুৎ কেনা-বেচার চুক্তি সই হয়েছে।
পিডিবির সচিব মাজহারুল হক ও এসএস পাওয়ারের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম চুক্তিতে সই করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী, পিডিবির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মিয়া, এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ, সেপকোর নির্বাহী প্রেসিডেন্ট ঝ্যাং হোংশং এবং এস আলম গ্রুপের উপদেষ্টা ও পিডিবির সাবেক চেয়ারম্যান এ এস এম আলমগীর কবির উপস্থিত ছিলেন।
এ প্রসঙ্গে সাইফুল আলম মাসুদ বলেন, ‘আমার ৩০ বছরের ব্যবসায়িক জীবনে এ বিদ্যুৎকেন্দ্্েরর প্রকল্পটি সবচেয়ে বড় ও মর্যাদাপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উৎসাহ ও পরামর্শে এটির আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হবে মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে। আমি সরকারের কাছে বিশেষভাবে অনুরোধ জানাব এখানে উৎপাদিত বিদ্যুতের সবই যেন চট্টগ্রামে বিতরণ করা হয়।’ চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলায় বিদ্যুতের মোট চাহিদা হলো প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট। এর মধ্যে বৃহত্তর চট্টগ্রামের চাহিদা হলো দেড় হাজার মেগাওয়াট।’
চুক্তি সইয়ের আগে বক্তৃতায় তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, প্রায় ২৫০ কোটি ডলারের এই প্রকল্প বাস্তবায়ন দেশে বেসরকারি খাতের বিশেষ সামর্থ্যরে প্রমাণ রাখবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এ প্রকল্পের জন্য ৬০০ একর জমি কেনা হয়েছে। আগামী মাসেই (মার্চ) সেই জমি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উপযোগী করে তোলার কাজ শুরু করা হবে। পরিবেশগত সমীা শেষ করে তা অনুমোদনের জন্য পরিবেশ অধিদফতরে উপস্থাপন করা হয়েছে। চুক্তিতে ৪৫ মাসের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে হিসাবে ২০১৯ সালের ১৬ নভেম্বর কেন্দ্্রটিতে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা। চুক্তি অনুযায়ী পিডিবি ২৫ বছর ধরে এ কেন্দ্্ের উৎপাদিত সব বিদ্যুৎ কিনবে। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৬ টাকা ৬০ পয়সার মতো পড়বে।
এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সরকারি ও বেসরকারি খাতে এটি এমন এক প্রকল্প যেখানে দেশের কোনো ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া হয়নি। ফলে ব্যাংকিং খাতে বা অর্থনীতিতে এর বিরূপ প্রভাব পড়ার সামান্যতম আশঙ্কাও নেই।
তিনি বলেন, ‘কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাংলাদেশে দ কোনো শ্রমিক নেই। চীনের দ শ্রমিকেরা এসে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। তাদের সাথে থাকবে বাংলাদেশী পাঁচ হাজার অদ শ্রমিক। এ অদ বাংলাদেশী শ্রমিকেরাই আগামী দিনে কাজ শিখে আরো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্্র তৈরি করতে সমতা অর্জন করবে, যা এ দেশের শিল্প বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।’

No comments:

Post a Comment