হযরত
শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে বিদেশিদের উদ্বেগ
প্রতিনিয়ত বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়ার পর উদ্বিগ্ন
দেশগুলোর তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছে কানাডা। আগে উদ্বেগ প্রকাশকারী দেশ
বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করে কানাডা অতি সমপ্রতি বাংলাদেশের
সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেছে। সরকারের
দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। সূত্র মতে, গত বছরের সমাপনী এবং
নতুন বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিদের সিরিজ আলোচনা
করেছেন। তাদের একাধিক টিম ঢাকা সফর করেছে। চলতি মাসের শেষের দিকে মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি প্রতিনিধি দল ঢাকা আসছে। দেশটির যে বিভাগ এ বিষয়গুলো
দেখভাল করে সেই ট্রান্সপোর্ট সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (টিএসএ)’র
প্রতিনিধিরাই এবার ঢাকা আসছেন। তারা এখানে সিরিজ বৈঠক চেয়েছেন। সূত্র
জানায়, গত মাসে ঢাকা সফর করে যাওয়া মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের কাউন্টার
টেররিজম ব্যুরোর কর্মকর্তারা সীমান্ত এবং বন্দরগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে তাদের
উদ্বেগ এবং অগ্রাধিকারের বিষয়টি ব্যক্ত করলেও দেশটির তরফে এ বিষয়ে কোনো
সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব বা পরামর্শ পাওয়া যায়নি। টিএসএ প্রতিনিধি দল
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বিশেষ করে প্রধান বিমানবন্দর শাহজালালের নিরাপত্তা
নিশ্ছিদ্র করার বিষয়ে দেশটির তরফে কোনো সুপারিশ বা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা
করতে পারে। সরকারি সংশ্লিষ্ট এবং দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা গতকাল এ নিয়ে
মানবজমিনের সঙ্গে আলাপে বলেন, বিদেশি বন্ধু-সহযোগী দেশগুলোর উদ্বেগের
বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। যুক্তরাজ্যের দেয়া বিভিন্ন সুপারিশে
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় দৃশ্যমান কিছু উদ্যোগও
নিয়েছে। এ উদ্যোগগুলোর স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদি দু’ধরনের জানিয়ে সরকারের ওই
কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে এখন সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে মনিটরিং করা হয়।
বিষয়টি নিয়ে নির্ধারণী মহলে সিরিজ আলোচনাও চলছে বলে জানান তিনি। সংশ্লিষ্ট
কর্মকর্তারা জানান, আগামী এপ্রিলের মধ্যে বিদেশিরা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা উদ্যোগগুলোর বাস্তবায়ন দেখতে চান। যুক্তরাষ্ট্র ও
যুক্তরাজ্য বিষয়টি নিয়ে সরকারকে এক ধরনের টাইমফ্রেম দিয়ে দিয়েছে। ওই সময়ের
মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে বিদেশিদের উদ্বেগ নিরসন না হলে ঢাকা-লন্ডন রুটে
বিমানের সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ হওয়া ছাড়াও পশ্চিমা দেশগুলোতে পণ্য পরিবহনে
বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঢাকা থেকে সরাসরি নিউ ইয়র্কে
ফ্লাইট ফের চালুর উদ্যোগটিও ভেস্তে যেতে পারে। সরকারি কর্মকর্তারা জানান,
বিদেশিদের সুপারিশ মতে, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তায়
যৌথবাহিনী মোতায়েনসহ বিভিন্ন সেক্টরে জনবল বাড়ানো এবং তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির
জরুরি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি ফোর্স নামে একটি বিশেষায়িত
বাহিনী গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ওই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এরই
মধ্যে বিমানবন্দরে যৌথবাহিনীর ১০০ সদস্য নিয়োগ দেয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালনের
পাশাপাশি তাদের প্রশিক্ষিত করে গড়ে তোলা হবে। শাহজালাল বিমানবন্দরের অকেজো
এবং দুর্বল যন্ত্রপাতি সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তার বদলে সচল এবং অত্যাধুনিক
যন্ত্রপাতি সংগ্রহের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। লন্ডনসহ যেসব গন্তব্যে
বাংলাদেশ থেকে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালিত হয় সে সব ফ্লাইটে বিশেষ নিরাপত্তা
দেয়া হচ্ছে জানিয়ে এক কর্মকর্তা বলেন, শাহজালালের সব স্ক্যানার যথাযথ
ব্যবহারের পাশাপাশি যাত্রী পরিবহন এলাকায় ভিডিওর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
ভেহিক্যাল স্ক্যানারসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বসানো হয়েছে।
Subscribe to:
Post Comments (Atom)

No comments:
Post a Comment