![]() |
| ইউরোপের ধনী দেশগুলোতে যেতে গতকাল মরিয়া শরণার্থীরা গ্রিস-মেসিডোনিয়া সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া ভেঙে ফেলে -রয়টার্স |
সামনে
কাঁটাতারের বেড়া। অনবরত টহলে শত শত নিরাপত্তাকর্মী। এসবের চোখরাঙানি
উপেক্ষা করে পশ্চিম ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করল মরিয়া অভিবাসী-শরণার্থীরা।
তবে নিরাপত্তাকর্মীদের কাঁদানে গ্যাস ঠেকিয়ে দিল তাদের।
গ্রিস-মেসিডোনিয়া সীমান্তে নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া পাহারায় থাকা একটি ফটকের কাছে গতকাল সোমবার এ ঘটনা ঘটে। অভিবাসী-শরণার্থীরা একপর্যায়ে ফটকটি গুঁড়িয়েও দেয়। তবে নিরাপত্তাকর্মীদের মুহুর্মুহু কাঁদানে গ্যাসের মুখে অসহায় এসব মানুষ পিছু হটতে বাধ্য হয়। খবর আল-জাজিরার।
গ্রিসের কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, দেশটির উত্তর সীমান্তে আইডোমেনি গ্রামের কাছে অবস্থিত একটি শিবিরে খুব অসহায় অবস্থায় দিনপাত করছিল প্রায় আট হাজার অভিবাসী-শরণার্থী, যাদের বেশির ভাগই পালিয়ে এসেছে ইরাক ও সিরিয়া থেকে। অথচ শিবিরটির ধারণক্ষমতা মাত্র দুই হাজার লোকের।
সীমান্তে জড়ো হওয়া এসব লোক গতকাল প্রথমে চিৎকার দিতে দিতে কাঁটাতারের বেড়ার কাছে যায়। এরপর কয়েকজন একটি ইস্পাতের বড় দণ্ড দিয়ে আঘাত করে সেখানে থাকা একটি ফটক খুলে ফেলার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে ফটকটি ভেঙে যায়। এ সময় টহলে থাকা মেসিডোনিয়ার সীমান্তরক্ষীরা কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ শুরু করেন।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ক্রমেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের এই সবচেয়ে বড় অভিবাসী-সংকটের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছিল আইডোমেনি শিবিরটি। যেসব শরণার্থী গ্রিসে পৌঁছানোর পর মেসিডোনিয়া হয়ে পশ্চিম ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার চেষ্টা করে থাকে, তাদের অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দেওয়ার জন্য এই শিবির গড়ে তোলা হয়। এই শিবির দিয়ে এর আগে ১০ লাখের বেশি শরণার্থী পশ্চিম ইউরোপে গেছে। তবে মেসিডোনিয়া সাম্প্রতিক দিনগুলোতে অভিবাসীদের তাদের ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে যেতে দেওয়া কমিয়ে দিয়েছে। ওই ফটক দিয়ে তারা গতকাল ঢুকতে দিয়েছে মাত্র ৫০ জনকে।
ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিকেরা বলেছেন, গতকাল আইডোমেনি শিবিরে গুজব ছড়িয়ে পড়ে, মেসিডোনিয়া তাদের সীমান্ত খুলে দিয়েছে। এরপর শত শত শরণার্থী তল্পিতল্পা নিয়ে সীমান্তের ওই ফটকের দিকে ছুটে যায়। এরপরই ঘটে বিপত্তি।
শরণার্থীরা আগে অস্ট্রিয়াসহ বলকান রাষ্ট্রগুলো হয়ে পশ্চিম ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু এই দেশগুলো তাদের দরজা প্রায় বন্ধ করে দেওয়ায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মেসিডোনিয়া সীমান্তে ভিড় জমায় তারা। ফলে এখানকার পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে।
আইডোমেনি শিবিরে থাকা শরণার্থীদের খাবার পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। এমনি শৌচাগারসহ অন্যান্য মৌলিক সুবিধাও সেখানে নেই। সিরিয়ার আলেপ্পো থেকে আসা একজন শরণার্থী আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমি এখানে নিদারুণ কষ্টে আছি। ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছি। আমি জানি না, আমি কী করব।’
‘গ্রিসকে বিশৃঙ্খলায় ডোবাতে পারে না ইউরোপ’: বিবিসির খবরে বলা হয়, জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল বলেছেন, ইউরোপ গ্রিসকে ‘বিশৃঙ্খলা’য় ডুবতে দিতে পারে না। চলমান শরণার্থী-সংকট নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যদের ভেতরে তীব্র মতপার্থক্যের মধ্যে ম্যার্কেলের পক্ষ থেকে এমন মন্তব্য এল।
অস্ট্রিয়াসহ কয়েকটি বলকান রাষ্ট্র তাদের সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করায় ঝুঁকিপূর্ণ সাগরপথ পাড়ি দিয়ে গ্রিসে এসে আটকা পড়ছে শরণার্থীরা। জার্মানিসহ পশ্চিম ইউরোপের কাঙ্ক্ষিত দেশগুলোতে যেতে পারছে না তারা।
জার্মান চ্যান্সেলর বলেন, গ্রিসকে ইউরোজোনে রাখতে ইইউভুক্ত দেশগুলো একটুও লড়াই করেনি। দেশটিকে ‘বিপদের মুখে ফেলে’ সটকে পড়াই এর লক্ষ্য। শরণার্থীদের জন্য জার্মান সীমান্ত উন্মুক্ত করে দেওয়ার নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষেও সাফাই গেয়েছেন তিনি। যদিও ওই সিদ্ধান্ত দেশে তাঁর জনপ্রিয়তায় ধস নামিয়েছে। গত বছর ১০ লাখের বেশি লোক জার্মানিতে গিয়ে আশ্রয় প্রার্থনা করেছে। এ কারণে জার্মান চ্যান্সেলর তাঁর ক্ষমতাসীন জোটের ভেতর থেকেও বিরোধিতার মুখে পড়েছেন। সেই সঙ্গে দেশে অতি ডানপন্থী উগ্রবাদও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
তবে জার্মানির এআরডি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ম্যার্কেল বলেন, নিজের আগের সিদ্ধান্তেই অটল তিনি। শরণার্থীর সংখ্যা সীমিত করার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, তাঁর হাতে কোনো বিকল্প পরিকল্পনা (প্ল্যান বি) নেই।
গ্রিসের বিষয়ে জার্মান চ্যান্সেলর ম্যার্কেল বলেন, তাঁর ভাষায়, ‘গ্রিসকে ইউরোজোনে রাখতে গত বছর ইউরোভুক্ত সব দেশ লড়াই করেছিল, আপনি সত্যিই কি তা মনে করেন? আমরা কঠোরতম অবস্থান নিয়েছিলাম। সেই ঘটনার এক বছর পর আমরা কি গ্রিসকে এভাবে বিশৃঙ্খলায় ডুবে যেতে দেব?’
তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশ থেকে সাগরপথে ইউরোপে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে গ্রিসকে প্রধান প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহার করে থাকে শরণার্থীরা। অস্ট্রিয়াসহ কয়েকটি দেশ গ্রিস থেকে শরণার্থীদের প্রবেশ করতে না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ এথেন্স। ওই দেশগুলো সম্প্রতি একটি বৈঠক করলেও তাতে গ্রিসকে ডাকা হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে এথেন্স অস্ট্রিয়ায় নিযুক্ত তাদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নেয়। শরণার্থী-সংকট নিয়ে আলোচনা করতে ৭ মার্চ বৈঠকে বসছে তুরস্ক ও ইইউভুক্ত দেশগুলো। একই মাসের শেষে আরেকটি সম্মেলন রয়েছে।
গ্রিস-মেসিডোনিয়া সীমান্তে নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া পাহারায় থাকা একটি ফটকের কাছে গতকাল সোমবার এ ঘটনা ঘটে। অভিবাসী-শরণার্থীরা একপর্যায়ে ফটকটি গুঁড়িয়েও দেয়। তবে নিরাপত্তাকর্মীদের মুহুর্মুহু কাঁদানে গ্যাসের মুখে অসহায় এসব মানুষ পিছু হটতে বাধ্য হয়। খবর আল-জাজিরার।
গ্রিসের কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, দেশটির উত্তর সীমান্তে আইডোমেনি গ্রামের কাছে অবস্থিত একটি শিবিরে খুব অসহায় অবস্থায় দিনপাত করছিল প্রায় আট হাজার অভিবাসী-শরণার্থী, যাদের বেশির ভাগই পালিয়ে এসেছে ইরাক ও সিরিয়া থেকে। অথচ শিবিরটির ধারণক্ষমতা মাত্র দুই হাজার লোকের।
সীমান্তে জড়ো হওয়া এসব লোক গতকাল প্রথমে চিৎকার দিতে দিতে কাঁটাতারের বেড়ার কাছে যায়। এরপর কয়েকজন একটি ইস্পাতের বড় দণ্ড দিয়ে আঘাত করে সেখানে থাকা একটি ফটক খুলে ফেলার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে ফটকটি ভেঙে যায়। এ সময় টহলে থাকা মেসিডোনিয়ার সীমান্তরক্ষীরা কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ শুরু করেন।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ক্রমেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের এই সবচেয়ে বড় অভিবাসী-সংকটের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছিল আইডোমেনি শিবিরটি। যেসব শরণার্থী গ্রিসে পৌঁছানোর পর মেসিডোনিয়া হয়ে পশ্চিম ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার চেষ্টা করে থাকে, তাদের অস্থায়ীভাবে আশ্রয় দেওয়ার জন্য এই শিবির গড়ে তোলা হয়। এই শিবির দিয়ে এর আগে ১০ লাখের বেশি শরণার্থী পশ্চিম ইউরোপে গেছে। তবে মেসিডোনিয়া সাম্প্রতিক দিনগুলোতে অভিবাসীদের তাদের ভূখণ্ডের ওপর দিয়ে যেতে দেওয়া কমিয়ে দিয়েছে। ওই ফটক দিয়ে তারা গতকাল ঢুকতে দিয়েছে মাত্র ৫০ জনকে।
ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিকেরা বলেছেন, গতকাল আইডোমেনি শিবিরে গুজব ছড়িয়ে পড়ে, মেসিডোনিয়া তাদের সীমান্ত খুলে দিয়েছে। এরপর শত শত শরণার্থী তল্পিতল্পা নিয়ে সীমান্তের ওই ফটকের দিকে ছুটে যায়। এরপরই ঘটে বিপত্তি।
শরণার্থীরা আগে অস্ট্রিয়াসহ বলকান রাষ্ট্রগুলো হয়ে পশ্চিম ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু এই দেশগুলো তাদের দরজা প্রায় বন্ধ করে দেওয়ায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মেসিডোনিয়া সীমান্তে ভিড় জমায় তারা। ফলে এখানকার পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে।
আইডোমেনি শিবিরে থাকা শরণার্থীদের খাবার পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে। এমনি শৌচাগারসহ অন্যান্য মৌলিক সুবিধাও সেখানে নেই। সিরিয়ার আলেপ্পো থেকে আসা একজন শরণার্থী আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমি এখানে নিদারুণ কষ্টে আছি। ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ধাবিত হচ্ছি। আমি জানি না, আমি কী করব।’
‘গ্রিসকে বিশৃঙ্খলায় ডোবাতে পারে না ইউরোপ’: বিবিসির খবরে বলা হয়, জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল বলেছেন, ইউরোপ গ্রিসকে ‘বিশৃঙ্খলা’য় ডুবতে দিতে পারে না। চলমান শরণার্থী-সংকট নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্যদের ভেতরে তীব্র মতপার্থক্যের মধ্যে ম্যার্কেলের পক্ষ থেকে এমন মন্তব্য এল।
অস্ট্রিয়াসহ কয়েকটি বলকান রাষ্ট্র তাদের সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করায় ঝুঁকিপূর্ণ সাগরপথ পাড়ি দিয়ে গ্রিসে এসে আটকা পড়ছে শরণার্থীরা। জার্মানিসহ পশ্চিম ইউরোপের কাঙ্ক্ষিত দেশগুলোতে যেতে পারছে না তারা।
জার্মান চ্যান্সেলর বলেন, গ্রিসকে ইউরোজোনে রাখতে ইইউভুক্ত দেশগুলো একটুও লড়াই করেনি। দেশটিকে ‘বিপদের মুখে ফেলে’ সটকে পড়াই এর লক্ষ্য। শরণার্থীদের জন্য জার্মান সীমান্ত উন্মুক্ত করে দেওয়ার নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষেও সাফাই গেয়েছেন তিনি। যদিও ওই সিদ্ধান্ত দেশে তাঁর জনপ্রিয়তায় ধস নামিয়েছে। গত বছর ১০ লাখের বেশি লোক জার্মানিতে গিয়ে আশ্রয় প্রার্থনা করেছে। এ কারণে জার্মান চ্যান্সেলর তাঁর ক্ষমতাসীন জোটের ভেতর থেকেও বিরোধিতার মুখে পড়েছেন। সেই সঙ্গে দেশে অতি ডানপন্থী উগ্রবাদও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।
তবে জার্মানির এআরডি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ম্যার্কেল বলেন, নিজের আগের সিদ্ধান্তেই অটল তিনি। শরণার্থীর সংখ্যা সীমিত করার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, তাঁর হাতে কোনো বিকল্প পরিকল্পনা (প্ল্যান বি) নেই।
গ্রিসের বিষয়ে জার্মান চ্যান্সেলর ম্যার্কেল বলেন, তাঁর ভাষায়, ‘গ্রিসকে ইউরোজোনে রাখতে গত বছর ইউরোভুক্ত সব দেশ লড়াই করেছিল, আপনি সত্যিই কি তা মনে করেন? আমরা কঠোরতম অবস্থান নিয়েছিলাম। সেই ঘটনার এক বছর পর আমরা কি গ্রিসকে এভাবে বিশৃঙ্খলায় ডুবে যেতে দেব?’
তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশ থেকে সাগরপথে ইউরোপে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে গ্রিসকে প্রধান প্রবেশপথ হিসেবে ব্যবহার করে থাকে শরণার্থীরা। অস্ট্রিয়াসহ কয়েকটি দেশ গ্রিস থেকে শরণার্থীদের প্রবেশ করতে না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ এথেন্স। ওই দেশগুলো সম্প্রতি একটি বৈঠক করলেও তাতে গ্রিসকে ডাকা হয়নি। এর পরিপ্রেক্ষিতে এথেন্স অস্ট্রিয়ায় নিযুক্ত তাদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নেয়। শরণার্থী-সংকট নিয়ে আলোচনা করতে ৭ মার্চ বৈঠকে বসছে তুরস্ক ও ইইউভুক্ত দেশগুলো। একই মাসের শেষে আরেকটি সম্মেলন রয়েছে।

No comments:
Post a Comment